রাজকোষের ওপরে আর্থিক বোঝা কমাতে নানা পদক্ষেপ! জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের আজব সূত্র পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
রাজকোষের ওপরে আর্থিক বোঝা কমাতে নানা পদক্ষেপ! জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের আজব সূত্র পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
বৈদেশিক ঋণের ভারে নুব্জ পাকিস্তান। ভারতের প্রতিবেশী এই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। সেই পরিস্থিতিতে জ্বালানির খরচ কমাতে এবং রাজকোষের ওপরে আর্থিক বোঝা কমাতে বেশ কয়েকটি প্রকল্পে কথা ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে পদক্ষেপ
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন সার সাড়ে ৮ টা ও সাড়ে দশটার মধ্যে বাজার ও বিবাহ হল বন্ধ করে দিতে হবে।

জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনায় পদক্ষেপ
পাকিস্তানের মন্ত্রী খারাজ আসিফ বলেছেন মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, সামগ্রিক জীবনধারা এবং অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারলে প্রায় ২৬ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৬০ বিলিয়ন পাকিস্তানের মুদ্রা সঞ্চয় করা যাবে। জীবনধারায় পরিবর্তনের লক্ষ্যে সে দেশে জুলাইয়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক পাখার উৎপাদন বন্ধ করার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেছেন, সেখানকার খারাপ ফ্যানে ১২০-১৩০ ওয়াট করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু সারা বিশ্বে এমন ফ্যান পাওয়া যায়, যা চালাতে ৬০-৮০ ওয়াট করে বিদ্যুতের ব্যবহার করতে হয়।

আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ
পরিস্থিতির মোকাবিলায় পাকিস্তানে আরও বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা জানা গিয়েছে। সেখানে আগামী মাস থেকে ইনক্যানজিসেন্ট বাল্ব তৈরি বন্ধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানে শঙ্কু আকৃতির গিজার ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। এছাড়াও রাস্তার আলো ঐচ্ছিক ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এসব কিছু নিয়ে আদেশ জারি করা না হলেও, খুব শীঘ্রই তা জারি করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

যেখানে আলো নেই সেখানে শিশু জন্মের সংখ্যা কম
মন্ত্রী বলেছেন, পাকিস্তানে যেখানে আটটার মধ্যে বাজার বন্ধ হয়ে যায়, সেখানে শিশুদের সংখ্যা কম। তাঁর দাবি সেখানে কম শিশুর জন্ম হয়। যদিও বিশ্লেষকরা পাকিস্তানের মন্ত্রীর যুক্তি বুঝতে পারছেন না। যা নিয়ে সেদেশে আলোচনা চলছে।

চরম আর্থিক সংকটে পাকিস্তান
এই মুহূর্তে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগও কমেছে। পাকিস্তানে চলতি আর্থিক বর্ষে জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ৭২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে কমে ৩৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি আর্থিক বর্ষে সব থেকে বেশি বিনিয়োগ করেছে চিন। তবে তা গত দুবছরের তুলনা কম বলেই জানাচ্ছে পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। যেভাবে সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে, তাতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছে সেখানকার স্টেট ব্যাঙ্ক। এমন কী অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পাকিস্তান দেউলিয়া রাষ্ট্র হওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে।












Click it and Unblock the Notifications