Pakistan: ভারতের ভয়ে কাঁটা ইসলামাবাদ! ধস নামল পাকিস্তানের শেয়ার বাজারেও
Pakistan: পাকিস্তানের শেয়ারবাজারে বুধবার বড় ধরনের ধস নামে। একদিনের ট্রেডিংয়ে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জের (PSX) সূচক ৩,৫০০ পয়েন্টেরও বেশি পড়ে গিয়েছে। এই পতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তথ্যমন্ত্রীর ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সতর্কবার্তার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় এই পতন দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার ঘটনা এবং তার জেরে ভারতের কঠোর হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ভারত এর প্রতিক্রিয়ায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে, যা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এই আশঙ্কার কারণেই শেয়ারবাজারে এমন বড় পতন দেখা যাচ্ছে।

এদিন সকাল ৯:৫৩ মিনিটে ১,৭১৭.৩৫ পয়েন্ট বা ১.৫ শতাংশ কমে ১১৩,১৫৪.৮৩ এ নেমে আসে। বেলা বাড়তেই বিক্রয় চাপ বাড়তে থাকে এবং সকাল ১০:৩৮ মিনিটে, বেঞ্চমার্ক ২,০৭৩.৪২ পয়েন্ট বা ১.৮ শতাংশ হ্রাস পায়। দুপুর ১:৫০ মিনিটে সূচকটি ৩,২৫৫.৪২ পয়েন্ট বা ২.৮৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়। দিনের লেনদেন শেষে করাচি স্টক এক্সচেঞ্জের মোট ৩,৫৪৫.৬১ পয়েন্ট (৩.০৯%) কমে ১১১,৩২৬.৫৭ এ বন্ধ হয়, যেখানে আগের দিনের সমাপ্তি ছিল ১১৪,৮৭২.১৮।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাজার বিশ্লেষক বলেন, "ভারতের দিক থেকে কোনও প্রকার সামরিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের এতটাই ভীত করে তুলেছে যে তারা দ্রুত শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এই মুহূর্তে বাজারে একটি অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে।"
টপলাইন সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী মহম্মদ সোহেল ডন ডটকমকে বলেন, "আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সম্ভাব্য হামলার খবর" বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তারাও একইরকম উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। একেডি সিকিউরিটিজের গবেষণা পরিচালক আওয়াইস আশরাফ বলেন, "তথ্যমন্ত্রীর প্রেস ব্রিফিংয়ের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ভারতীয় সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।"
তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এর আগে জানান, পাকিস্তান "বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য" পেয়েছে যে ভারত আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে।
উল্লেখ্য, এই পতনের ফলে পাকিস্তানের অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বৈদেশিক বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পহেলগাঁওয়ের হামলার ঘটনায় ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বন্ধ এবং আটারি সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
এদিকে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব শুধু শেয়ারবাজারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, পাকিস্তানের ডলার-নির্ভর আন্তর্জাতিক বন্ডের দামেও পতন দেখা গিয়েছে। এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৬ সালের বন্ডের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে, যা ডলারে ১.৩ সেন্ট কমে ৭১.৮৫ সেন্টে বিক্রি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছেন।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের শেয়ারবাজারের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।












Click it and Unblock the Notifications