Pakistan: তীব্র ওষুধ সংকট! ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে নিজের পায়েই কুড়ুল পাকিস্তানের
Pakistan Medicine Crisis: পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পরই পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি রদ করেছে ভারত। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সবরকম বাণিজ্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। এমতাবস্থায় নিজের জালেই জড়িয়ে গিয়েছে তারা। ওষুধের সংকট ক্রমশ প্রকট হচ্ছে পাকিস্তানে। আর তাই ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রস্তুতিতে নেমেছে পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
পহেলগাঁওতে ২৬ জন নিরীহ পর্যটককে খুন করার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট লস্কর ই তৈবার ছায়া সংগঠন টিআরএফ। আর এরপরই পাকিস্তানকে সবক শেখাতে কূটনৈতিক সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন করেছে ভারত। পাল্টা বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় নয়াদিল্লির সঙ্গে সবরকম বাণিজ্য বন্ধ করার কথা জানায় ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে কাজে নেমে পড়েছেন।

যদিও ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান বাণিজ্য বন্ধ করায় সরাসরি প্রভাব ওষুধের সরবরাহে পড়েছে কি না, সেনিয়ে এখনও কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওরফে DRAP। তবে ২০১৯ এর সংকটের কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। সংস্থার এক আধিকারিকের মতে, পাকিস্তানে ওষুধের চাহিদা মেটাতে বিকল্প ব্যবস্থার সন্ধানও চালানো হচ্ছে।
ওষুধের কাঁচামালের জন্য ভারতের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল পাকিস্তান। সেদেশে ওষুধের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কাঁচামালই যায় এদেশ থেকে। অ্যান্টি ব়্যাবিজ ভ্যাকসিন, সাপের বিষের ওষুধ, ক্যান্সারের চিকিৎসা, মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের জন্য ভারতের উপর নির্ভরশীল ছিল পাকিস্তান।
এছাড়াও ওষুধের বিভিন্ন সক্রিয় উপাদান, উন্নতমানের থেরাপিউটিক প্রোডাক্টও ভারত থেকেই এতদিন পাকিস্তানে রপ্তানি করা হত। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবার চিন, রাশিয়া ও একাধিক ইউরোপীয় দেশগুলির মুখাপেক্ষী হয়েছে পাকিস্তান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ সংকট থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত পাকিস্তানের। সন্ত্রাসে মদত না দিয়ে বরং তাদের উচিত দেশের অভ্যন্তরেই জীবনদায়ী ওষুধ, ভ্যাকসি ও অন্যান্য উপাদান তৈরিতে বিনিয়োগ করা। পাকিস্তানের ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরে ইতিমধ্যেই গুঞ্জন, এভাবে যদি দীর্ঘদিন বাণিজ্য বন্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে জীবনদায়ী ওষুধে চরম সংকট নেমে আসবে পাকিস্তানে।
শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে আফগানিস্তান, ইরান, দুবাই থেকে ওষুধের কালোবাজারি ও পাকিস্তানে ওষুধ পাচার বাড়বে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যার জেরে চড়া দামে ওষুধ কেনা গেলেও সেগুলির গুণগত মান নিয়ে আশঙ্কা থেকে যাবে। ফলে সব মিলিয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে রীতিমতো নিজের পায়েই কুড়ুল মারল পাকিস্তান।












Click it and Unblock the Notifications