পাকিস্তানে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতির হার ৫৩ বছরে রেকর্ড, অতিক্রম করল ৩৬ শতাংশ
পাকিস্তানে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতির হার রেকর্ড ভেঙে গিল ৫৩ বছরের। ৫৩ বছরে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতিতে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গে অতিক্রম করল ৩৬ শতাংশ। পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক বছরে মূল্যস্ফীতি প্রায় তিম গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে। যে হারে মূল্যবৃ্দ্ধি ঘটছে তা পাকিস্তানবাসীর জন্য আশঙ্কার। এক হতাশাজনক অর্থনীতির পরিচায়ক এই মুদ্রাস্ফীতির বাড়বাড়ন্তের বিষয়টি। পাকিস্তানের অর্থনীতিতে যে ক্রমশই ভেঙে পড়তে চলেছে, সেই বার্তাই দিচ্ছে এই পরিসংখ্যান।

শনিবার পাকিস্তানের মুদ্রাস্ফীতির হারের যে রিপোর্ট প্রকাশ রয়েছে এবং রেকর্ড সংখ্যক মুদ্রাস্ফীতি ঘটেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, গত বছরের মূল্যস্ফীতি ছিল ১২.৭২ শতাংশ। এবার তার ৩৬ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে মূল্যস্ফীতি প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।
বিনিয়োগ সংস্থা আরিফ হাবিব কর্পোরেশন অনুসারে, ১ এপ্রিল প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১৯৬৫ সালের জুলাই মাসের রেকর্ডে সর্বোচ্চ মূল্যসূচককেও টপকে গিয়েছে পাকিস্তানের মুদ্রস্ফীতি। এদিকে, পাকিস্তান ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকস দ্বারা প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলে দাম প্রতি বছর যথাক্রমে ৩২.৯৭ শতাংশ এবং ৩৮.৮৮ শতাংশ বেড়েছে।
গত সপ্তাহে সংবেদনশীল মূল্য নির্দেশক দ্বারা পরিমাপ করা স্বল্প-মেয়াদী মূল্যস্ফীতির হার রেকর্ড ৪৬.৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে। সংবেদনশীল মূল্য নির্দেশক বা সিপিআই দ্বারা রেকর্ড করা মাসিক মুদ্রাস্ফীতি ফেব্রুয়ারিতে ৩১.৬ শতাংশে পৌঁছয়। তা বিগত ছয় দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে পাকিস্তানি মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে।
ক্লিভল্যান্ড ফেডারেল রিজার্ভের মতে, মুদ্রাস্ফীতি হল একটি অর্থনীতিতে পণ্য ও পরিষেবার সাধারণ মূল্য স্তরের বৃদ্ধি। যখন সাধারণ মূল্য স্তর বৃদ্ধি পায়, মুদ্রার প্রতিটি ইউনিট পণ্য এবং পরিষেবা ক্রয় কম করে। ফলস্বরূপ, মুদ্রাস্ফীতি অর্থের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পায়।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তান অর্থনীতি বর্তমানে চালকবিহীন গাড়ির মতো। পাকিস্তানের নাগরিকরা তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, মানুষ বেঁচে থাকার জন্য ন্যুনতম খাবারও পাচ্ছে না।
খাদ্যের জন্য গত সপ্তাহে পাকিস্তানে দুটি মারাত্মক পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে। বিনামূল্যে খাদ্য সংগ্রহের করতে এতটাই জমায়েত হয়েছিল হুড়োহুড়িতে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের যে কোনো মুহূর্তে পাকিস্তানকে দেউলিয়া পরিস্থিতির কথা প্রকট করতে পারে। এই বিপদজ্জনক পরিস্থিতি সত্ত্বেও শেহবাজ শরিফ সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা করেনি।












Click it and Unblock the Notifications