মৃত দাবি করার পর মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড সাজিদ মীর গ্রেফতার পাকিস্তানে?
২০০৮ সালে মুম্বই জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড সাজিদ মীরকে অবশেষে গ্রেফতার করল পাকিস্তান। তবে এটা নিয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত খবর সামনে আসেনি।যদিও এর আগে বহু বছর ধরে তার পাকিস্তানের মাটিতে উপস্থিতি অস্বীকার করেছিল পাক সরকার। এমনকী সাজিদ মীর মারা গিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছিল পাকিস্তানের পক্ষ থেকে।

এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় নাম
এফবিআইয়ের মোস্ট-ওয়ান্টেড জঙ্গিদের তালিকায় নাম রয়েছে এই সাজিদ মীরের এবং তার ওপর ৫ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কারও রয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে আমেরিকা ও ভারত মুম্বই হামলার এই মাস্টারমাইন্ডের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছিল।

লস্কর জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত
সাজিদ মীর লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত, যেটি রাষ্ট্রপুঞ্জ মনোনীত সন্ত্রাসী সংগঠন, যার হাত রয়েছে বলে মনে করা হয় ২০০৮ সালে নভেম্বরে মুম্বই হামলার পিছনে। জলপথ দিয়ে ১০ জঙ্গি মুম্বইতে প্রবেশ করে ভয়ঙ্কর নাশকতা চালায়। এই নাশকতার ঘটনায় অধিকাংশ ভারতীয় সহ ৬ জন মার্কিন পর্যটক, এছাড়াও ভারতে ঘুরতে আসা জাপান ও অন্যান্য দেশের পর্যটক সহ ১৭০ জন নিহত হয়।

ধূসর তালিকা থেকে নিজেদের সরাতে পদক্ষেপ
ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস-অর্থায়নের নজরদারি তালিকা থেকে নিজেকে বাদ দেওয়ার জন্য পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে এই মামলাটি নিজেদের হাতে নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী হাম্মাদ আজহার গত তিনবছর ধরে ওয়াচডগ সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত করেছিলেন যে তিনি সাজিদ মীর সহ অন্যান্য মনোনীত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। যা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের কাছে সন্তোষজনক বলে মনে হয়েছে। এই টাস্ক ফোর্স পাকিস্তানকে তাদের ধূসর তালিকায় রেখেছে, যা অসঙ্গতিপূর্ণ দেশগুলিকে পর্যবেক্ষণ ও বিচ্ছিন্ন করতে ব্যবহৃত হয়। পাকিস্তানের অন্য এক প্রাক্তন কর্মকর্তা, যিনি এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনি বলেছেন, 'পাকিস্তান ভারত এবং আমেরিকা উভয়ের কাছেই স্বীকার করেছে যে সাজিদ মীর নামে একজন ব্যক্তি, যে মুম্বই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং যাকে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে বলেছিল হয় মারা গিয়েছে বা সনাক্ত করা যাচ্ছে না ... তাকে অবশেষে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে সে কোথায়।'

গ্রেফতার নিয়ে নিশ্চিত কোনও খবর নেই
এফবিআইয়ের মতে, সাজিদ মীর মুম্বই হামলার পরিকল্পনার মূল ষড়যন্ত্রকারী, যে প্রস্তুতি ও পুনরুদ্ধারের নির্দেশনা দেয় এবং আক্রমণের সময় পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে একজন ছিল। সাজিদ মীরের গ্রেফতারি নিয়ে অনলাইনে খবর ছড়িয়ে দেওয়া হলেও তা এখনও কোনও নিশ্চিতরূপে জানা যায়নি।

সাজিদ মীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ
এর পাশাপাশি এফবিআই আরও দাবি করেছে যে ২০০৮ ও ২০০৯ সালের মধ্যে সাজিদ মীর ডেনমার্কের এক সংবাদপত্র ও তার কর্মীদের বিরুদ্ধে হমলার ছক কষেছিল। ২০১১ সালে শিকাগোর একটি আদালত তাকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সন্ত্রাসবাদের উপর তার কান্ট্রি রিপোর্টে মূল্যায়ন করেছিল যে 'মুম্বাই হামলার প্রজেক্ট ম্যানেজার সাজিদ মীর...[বিশ্বাস করা হয়েছিল] যে সে পাকিস্তানে মুক্ত ঘুরে বেড়াচ্ছে।' মুম্বই হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া অবাক করার মতো ছিল। এই নাশকতা ঘটনা ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তানের জড়িত থাকার দিল্লির তোলা অভিযোগ খারিজ করে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তান এখনও নিশ্চিত করেনি
বেশ কয়েক বছর ধরে, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই তদন্ত, গ্রেপ্তার, সাক্ষ্য এবং দোষী সাব্যস্ততার মাধ্যমে পাকিস্তানকে লস্কর-ই-তৈবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছিল, যাদের অনেক নেতা ও কর্মী পাকিস্তানে বসবাস করে বলে মনে করা হয়। এফবিআই জানিয়েছে, মীর লস্কর সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পাকিস্তান একাধিকবার তাদের দেশে মীরের উপস্থিতি অস্বীকার করেছে এবং বহু অবসরপ্রাপ্ত ও পরিষেবা দিচ্ছে পাকিস্তানের এমন কর্মকর্তা অনবরত দাবি করে গিয়েছিল যে নয় সাজিদ মীর মারা গিয়েছে অথবা তাকে সনাক্ত করা যাচ্ছে না। মীরের গ্রেফতারি নিয়ে এখনও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি।
ছবি সৌ:FBI












Click it and Unblock the Notifications