ইমরান তালিবান সম্পর্কে নয়া মাত্রা! নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় ভারত
তালিবানি শীর্ষ কমান্ডার মোল্লা বারাদরে সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বৈঠক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
তালিবানি শীর্ষ কমান্ডার মোল্লা বারাদরে সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বৈঠক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। কোন সময় পারমাণবিক যুদ্ধ, কোনও সময় কাশ্মীরে রক্তস্নানের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন কিংবা দিয়েছেন ইমরান। সেই পরিস্থিতিতে এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্য পূর্ণ।

তালিবান শীর্ষ নেতার সঙ্গে ইমরানের বৈঠক
মোল্লা বারাদর। সম্প্রতি এই তালিবান নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ২০১০ সালে তাঁকে যখন গ্রেফতার করা হয়েছিল, তার আগে পুরস্কার ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এই গ্রেফতার বড় সাফল্যের বলেও জানিয়েছিল আমেরিকা। এর একবছর পরে এই সন্ত্রাসীর আবোটাবাদের আশ্রয়স্থল থেকে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করে হত্যয়া করে আমেরিকা।
এহেন তালিবান নেতাকে কোনও পাকিস্তান সরকার গত সাড়ে আট বছরে মুক্তি দেয়নি, বারবার তালিবানদের তরফে অনুরোধ সত্ত্বেও। কিন্তু পাকিস্তানে গতবছর ইমরান খানের পিটিআই ক্ষমতায় আসার পরেই এই নেতাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। ২০১৮-র ২০ অগাস্ট পাকিস্তানের ক্ষমতায় এসেছিলেন ইমরান। আর মোল্লা আব্দুল, গণি বারাদরকে মুক্ত করে দেওয়া হয় ২৫ অক্টোবর।
তালিবান জঙ্গি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্যতম মোল্লা বারাদরের স্থান তালিবান জঙ্গি সংগঠনে মোল্লা ওমরের পরেই। মুক্তির পরেই অবশ্য সরাসরি জঙ্গি সংগঠনে নয়, তালিবানদের তরফে তাকে কাতারের দোহার কূটনৈতিক বিষয়ক প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। যেখানে আমেরিকা ও তালিবানদের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছিল। সেখানে আট রাউন্ড শাস্তি আলোচনাও হয়। কিন্তু আফগানিস্থানে জঙ্গি হামলায় এর আমেরিকান সহ ১১ জনের মৃত্যুর পরেই আলোচনা স্থগিত বলে ঘোষণা করেন প্রেসিজেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এহেন মোল্লা আব্দুল গণি বারাদরের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে মিলিত হয়েছিল ইমরান খান। যে বৈঠকে নিয়ে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কেননা ইমরানের গত মাসের আমেরিকা সফরের আগেই তালিবানদের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। সেই আমেরিকা সফরেই কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরপর পাকিস্তানে ফিরেই তালিবান নেতাদের সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন।
কাশ্মীরে বর্তমান পরিস্থিতির জেরে কোনও সময় পারমানবিক যুদ্ধের হুমকি, কখনও বা মুসলিম অভ্যুত্তানের হুমকি দিচ্ছেন ইমরান। সেই পরিস্থিতিতে তালিবান নেতার সঙ্গে এই আলোচনা যথেষ্টই সন্দেহের চোখে দেখছে ভারত।

ভারত-তালিবান সম্পর্ক
ভারতের সঙ্গে তালিবানদের সম্পর্কও ছিল অন্যরকমের। আইসি-৮১৪ বিমান অপহরণের পরেই ভারতের সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তালিবানদের। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে আইএসআই-এর হস্তক্ষেপে তা অবশ্য বেশিদিন টেকেনি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে যখন আমেরিকার সঙ্গে তালিবানদের শান্তি বৈঠক চলছিল, সেই সময় তালিবানদের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন ভাবনার কথা। যা নিয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। বিশেষ করে ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির পরবর্তী পর্যায়ে।

ইমরান-তালিবান সম্পর্ক
তবে তালিবানদের সঙ্গে ইমরান খানের সম্পর্কটাও বেশ পুরনো। ২০১৩ সালে আমেরিকার হামলায় মারা যায় তালিবান কমান্ডার ওয়ালি উর রহমান। তখন এই ঘটনার সমালোচনা করেছিলেন ইমরান। এই নেতাকে শান্তিকামী নেতা বলে বর্ণনা করেছিলেন ইমরান। অন্যদিকে তালিবানরাও ইমরান সম্পর্কে তাদের নরম মনোভাবের কথা বারবার প্রকাশ করেছে। ২০১৪ সালে তালিবানরা তাদের তরফে ইমরান খানকে মনোনীত করেছিল আমেরিকার সঙ্গে কথা বলার জন্য।
ইতিমধ্যেই আমেরিকা আফগানিস্তান থেকে তাদের সেনা সরানোর সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে সেখানে শক্তি সঞ্চয় করবে তালিবানরা। অন্যদিকে সেই শক্তিকেই আইএসআই ব্যবহার করবে জম্মু ও কাশ্মীরে।












Click it and Unblock the Notifications