তীব্র রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যেই শ্রীলঙ্কায় বিরোধী দলগুলোর বৈঠক, সর্বদলীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা
তীব্র রাজনৈতিক সঙ্কটের মধ্যেই শ্রীলঙ্কায় বিরোধী দলগুলোর বৈঠক, সর্বদলীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা
শ্রীলঙ্কার আর্থিক সঙ্কটের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সঙ্কট তীব্র হচ্ছে। কলম্বো বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের দখলে চলে গিয়েছে। ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই পরিস্থিতি সর্বদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ঐক্যমত গঠন করতে একটি বৈঠকের পরিকল্পনা শ্রীলঙ্কার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো করছে বলে জানা গিয়ছে।

শ্রীলঙ্কার বিরোধী দলগুলোর বৈঠকের সম্ভাবনা
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধী দল সামাগী জনা বালাভেগয়ার অন্যান্য নেতাদের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতা সজিথ প্রেমাদাসা, শ্রীলঙ্কা মুসলিম কংগ্রেসের নেতা রউফ হাকিম, তামিল প্রগতিশীল জোটের নেতা মানো গণেশন এবং অল সিলন মক্কাল কংগ্রেসের নেতা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। শ্রীলঙ্কার কমিউনিস্ট পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট উইরাসুমানা ওয়েরাসিংহে বলেন, সর্বদলীয় সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা হবে। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতি হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের মধ্যেই একটি নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেও ইতিমধ্যে পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অগ্নিসংযোগ
শনিবার গভীর রাতে পদত্যাগের প্রস্তাব দেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। শনিবার তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনে বিক্ষোভকারীরা হামলা করেন। বাসভবনে বিক্ষোভকারীরা অগ্নিসংযোগ করেন বলে অভিযোগ। এরপরেই শনিবার গভীর রাতে রনিল বিক্রমাসিংহে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন, সেখানে তিনি আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রয়েছে বলে জানান। তাই শ্রীলঙ্কায় বর্তমান সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী সরকার গঠনের প্রয়োজন। জানা যায়, সংসদের স্পিকার মহিন্দা ইয়াপা আবেওয়ার্দেনা বর্তমান সঙ্কট মোবালিকা করতে সর্বদলীয় সরকার গঠনের ওপর জোর দেন। সেই কারণেই তিনি রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপক্ষে ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহকে পদত্যাগের আবেদন করেন। রনিল বিক্রমাসিংহে এখনও পদত্যাগ করেননি বলেই জানা গিয়েছে।

আর্থিক সঙ্কটের নেপথ্যে রাজাপক্ষে পরিবার
শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে এলটিটিইয়ের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার পরে দেশের অনেক মানুষের চোখে গোতাবায়া রাজাপক্ষে ও মহিন্দা রাজাপক্ষে নায়ক হয়ে উঠেছিলেন। তবে বর্তমানে দেশের তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটের জন্য রাজপক্ষে পরিবারকে দায়ী করছেন শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ। মে মাসে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখান শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ। দেশের নিরাপত্তা রক্ষীরা আগেই তৎকালীন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজাপক্ষে ও তাঁর পরিবারকে উদ্ধার করেন। বর্তমানে মহিন্দা রাজাপক্ষে ও তাঁর পরিবার আত্মগোপন করে রয়েছেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মহিন্দা রাজাপক্ষে পদত্যাগ। করেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজাপক্ষের পরিবার শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল। সেই আধিপত্যের সমাপতন হয়েছে বলেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।












Click it and Unblock the Notifications