তবে কী করোনা টিকার তৃতীয় ডোজেই কেল্লাফতে? কী বলছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা
তবে কী করোনা টিকার তৃতীয় ডোজেই কেল্লাফতে? কী বলছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা
বর্তমানে কোভিড ভ্যাকসিনের দুনিয়ায় অধিকাংশ টিকাই দুই ডোজের। যদিও এরই মাঝে এক ডোজের স্পুটনিক লাইট ভ্যাকসিনের বিষয়ে গবেষণা চালাচ্ছে রাশিয়া। আবার অপরদিকে দুইয়ের বদলে তিন ডোজের দাওয়াই বাতলাচ্ছে একাধিক টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থা। গত ২৮শে জুন প্রকাশিত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষায় স্পষ্ট যে দেরিতে প্রয়োগ করলে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় বুস্টার ডোজের জেরে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা অনেকটাই বাড়ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের মধ্যে ব্যবধান ৪৫ সপ্তাহ হলেও দ্বিতীয় ডোজের প্রায় ছয়মাস পরে তৃতীয় ডোজ দিলে অ্যান্টিবডির ক্রিয়াকলাপে উল্লেখযোগ্য বদল ধরা পড়ে, মত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের।

টিকাকরণে সুবিধা হবে পিছিয়ে পড়া দেশগুলির
যেসকল পিছিয়ে পড়া দেশে টিকার সঠিক মাত্রায় যোগান নেই, দেরিতে তৃতীয় ডোজ দেওয়ার ফলে সেইসব দেশ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে, এমনই মত অক্সফোর্ড সমীক্ষার প্রধান পর্যবেক্ষক অ্যান্ড্রু পোলার্ডের। এমনকি প্রথম ডোজের প্রায় ১০ মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দিলেও মারাত্মক ভাল ফল মিলেছে বলে মত অক্সফোর্ড বিশেষজ্ঞদের। যদিও শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তৃতীয় ডোজ সহায় হবে কি না, সে বিষয়টি দেশগুলির সিদ্ধান্তের উপরেই ছেড়ে দিচ্ছে অক্সফোর্ড।

ঝুঁকিপূর্ণ ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কতটা সফল বুস্টার ডোজ?
তৃতীয় ডোজ ওরফে এই বুস্টার ডোজ, করোনার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্ট্রেনের বিরুদ্ধে কতদূর সফল হবে, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সমীক্ষার প্রধান টেরেসা ল্যাম্ব। তৃতীয় ডোজে রোগ প্রতিরোধী শক্তিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি চোখে পড়লেও এ বিষয়ে আরও গবেষণার দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন টেরেসা। অন্যদিকে তুলনামূলক কম খরচসাপেক্ষ এই টিকা যেভাবে ১৬০টি দেশে ছাড়পত্র আদায় করে নিয়েছে, তাতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

প্রশ্নের মুখে জনসনের টিকা
অন্যদিকে মার্কিন টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থা জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার জেরে জটিল রক্ততঞ্চনের শিকার হয়েছেন বেশ কিছু নাগরিক। স্বভাবতই বেশ কিছু দেশে ইতিমধ্যেই বাতিল হয়েছে এই টিকার প্রয়োগ। যদিও কোভিডে তুলনামূলক কম আক্রান্ত হওয়ায় বেশ কিছু স্থানে কিশোর-কিশোরীদের উপর প্রয়োগ হচ্ছে জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা। এ প্রসঙ্গে নিজেদের টিকার বিষয়ে অক্সফোর্ড জানিয়েছে, "দ্বিতীয় ও তৃতীয় টিকার পরেও কোনোরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া চোখে পড়েনি। খুব ব্যতিক্রমী কিছু ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও তা অতি সামান্য।"

অক্সফোর্ডের মিশ্র ভ্যাকসিনে প্রতিক্রিয়া কেমন?
সূত্রের খবর, সোমবার প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী অক্সফোর্ডের আর এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ও ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা সঠিক ব্যবধানে একযোগে প্রয়োগ করলে তা এনে দিতে পারে দারুণ শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা! অক্সফোর্ড সমীক্ষার প্রধান সমীক্ষক ও পর্যবেক্ষক ম্যাথু স্নেপের বক্তব্য, "অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং ফাইজার-বায়োএনটেকের এই মিশ্র ভ্যাকসিন চার সপ্তাহের ব্যবধানে প্রয়োগ করে আমরা যে ফল পেয়েছি, তা আমাদের ধারণার বাইরে!"












Click it and Unblock the Notifications