নিষেধাজ্ঞার পরেও মোদীর নিরাপত্তার জন্য একই ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সৌদি প্রিন্স বিতর্কে সাফাই আমেরিকার
আমেরিকা দাবি করে, সৌদি প্রিন্সের মতো নরেন্দ্র মোদীকে একই ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে,
সম্প্রতি মার্কিন সফরে গিয়েছিলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমন। তাঁর জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন প্রশাসন। কারণ মার্কিন প্রশাসন ইস্তানবুলে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নির্মম হত্যার জন্য সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে দায়ী করেছিল। তীব্র বিতর্কের মুখে মার্কিন বিদেশ দফতর থেকে জানানো হয়েছে, শুধু খাশোগি নয়, এই ধরনের নিরাপত্তা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেওয়া হয়েছিল।

সমালোচনার মুখে মার্কিন প্রশাসন
ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার নেপথ্যে সৌদি প্রিন্স রয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসন অভিযোগ করেন। এরপর থেকেই আমেরিকার সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক বিশেষ ভালো ছিল না। জো বাইডেন সম্প্রতি সৌদি সফরে গিয়েছিলেন। তারপর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের শীতলতা দূর হতে থাকে। সম্প্রতি সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমান এলে, তাঁর নিরাপত্তার ব্যাপক ব্যবস্থা করা হয়। এরপরেই সমালোচনার মুখে পড়ে মার্কিন প্রশাসন। যার বিরুদ্ধে এতবড় অভিযোগ রয়েছে, তার জন্য এত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হল কেন? চাপের মুখে মার্কিন বিদেশ দফতরের তরফে সাফাইয়ে বলা হয় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্যও এই ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

মোদীর ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল আমেরিকার
২০০২ সালে গুজরাত দাঙ্গার পর ২০০৫ সালে, আমেরিকা, ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সেই সময় নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দাঙ্গা থামানোর জন্য কোনও ব্যবস্থা তিনি গ্রহণ করেননি। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রথমবারের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও আমেরিকা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। যদিও পরে নরেন্দ্র মোদীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। মার্কিন বিদেশ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, মোদীর আমেরিকা সফরের সময় একই ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের সাফাই
আমেরিকার বিদেশ মন্ত্রকে সহকারি মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল সাংবাদিক বিবৃতিতে বলেন, সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের জন্য প্রথমবার এই ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। আমেরিকা ধারাবাহিক ভাবে বিতর্কিত বিদেশি নেতাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে মার্কিন সফরের সময়। অনেক সময় তাঁদের বিরুদ্ধে আমেরিকা আগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু পরে নিষেধাজ্ঞা তোলার পরে মার্কিন সফরের সময় তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল আমেরিকা। এই প্রসঙ্গে বেদান্ত প্যাটেল বলেন, ১৯৯৩ সালে হাইতিতে প্রেসিডেন্ট অ্যারিস্টাইড, ২০০১ সালে জিম্বাবোয়েতে প্রেসিডেন্ট মুগাবে, ২০১৪ সালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য একই ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications