বিশ্ববাজারে তলানিতে তেলের দাম, কী কারণে ৩০ বছরে সব থেকে নিচে মূল্য?
তেলের দাম নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে রীতিমত যুদ্ধে নেমে পড়ল সৌদি আরব। এর জেরে রবিবার ব্যারেল প্রতি তেলের দাম গিয়ে ঠেকে মাত্র ৩১.০২ ডলার। এর জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এসে দাঁড়িয়েছে গত ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে। এর আগে তেলের দামে এতটা পতন দেখা গিয়েছিল ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি।

শুক্রবার থেকে শুরু হয় তেলের দামের পতন
তেলের দামে এই সঙ্কট শুরু হয়েছে মূলত গত শুক্রবার থেকে। তেলের দাম বাড়ানোর জন্য উৎপাদন কমাতে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল ওপেক ও রাশিয়া। তবে গত শুক্রবার সেই ঐকমত্য ভেস্তে যায়। এতে তেলের দাম কমে যায়। এরপর রাশিয়াকে শায়েস্তা করতে তেলের দাম আরও কমিয়ে দেয় সৌদি আরব। আর এর জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বিশাল পতন দেখা যায়।

৩০ বছরে সব থেকে নিচে তেলের দাম
শুক্রবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০ শতাংশ কমে। আর শনিবার সন্ধ্যায় প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়ায় মাত্র ৪৫ ডলার। রবিবার আরও পতন দেখা যায় তেলের মূল্যে। ব্যারেল প্রতি তেলের দাম গিয়ে ঠেকে মাত্র ৩১.০২ ডলার। এর আগে তেলের দামে এতটা পতন দেখা গিয়েছিল ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি।

সৌদি-রাশিয়া দ্বন্দ্বের প্রভাব তেলের দামের উপর
এদিন সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেকের ১৪ সদস্য ও রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন অন্যান্য তেল উৎপাদক দেশগুলো করোনা সঙ্কটে তেলের উৎপাদন কমানো হবে কি না এ নিয়ে আলোচনায় বসেছিল। ওপেক-পক্ষ তেলের দাম ধরে রাখতে প্রতিদিন দেড় মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন কমানোর পক্ষে মত দেয়, তবে এতে সম্মত হতে পারেনি রুশ-পক্ষ। আর এর পরেই সঙ্কট দেখা দেয় তেলের বাজারে।

তেলের বাজারে ধস!
ভিয়েনার ওই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই ধস নামে তেলের বাজারে। শুক্রবারই এর দাম পড়ে যায় গড়ে ১০ শতাংশ। দরপতনের সেই ধারায় এ সপ্তাহে আরও বড় ধাক্কা দিয়েছে সৌদি আরব। রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে তারা এপ্রিল মাসের তেলের দর ছয় থেকে আট ডলার পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে। গত দুই দিনে মার্স ইউএসের দাম ১০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৯৮ ডলার। এছাড়া, গত চারদিনে ওপেক বাস্কেট ও ইউরালসের দামও কমতির দিকে।












Click it and Unblock the Notifications