সন্তান সহ তালিবানী আফগানিস্তানে আটকে কলকাতার নার্স, মেয়েকে উদ্ধারের আর্জি বৃদ্ধ মা-বাবার
সন্তান সহ তালিবানী আফগানিস্তানে আটকে কলকাতার নার্স, মেয়েকে উদ্ধারের আর্জি বৃদ্ধ মা-বাবার
তালিবানদের দখলে কাবুলিওয়ালাদের দেশ আফগানিস্তান। ভালো নেই সেই দেশ, পরিস্তিতি ক্রমশঃ জটিল হয়ে গিয়েছে। তালিবানদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে অনেক আফগান নাগরিক পালাতে চাইছেন। এ রকম অবস্থায় শহর কলকাতার এক নার্স তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানী কাবুল থেকে ২০০ কিমি দূরে এক শহরে আটকে রয়েছেন। নার্সের অভিভাবক তাঁদের মেয়ে ও নাতি–নাতনিদের উদ্ধার করার জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০০২ সাল থেকে তাঁদের মেয়ে আফগানিস্তানে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

ওই নার্স কাবুলে যেতে পারছেন না কারণ আশেপাশে কোনও ভারতীয় নেই এবং তালিবান যোদ্ধারা তাঁর বাড়ির বাইরে টহল দিচ্ছে। যদিও তাঁর পাসপোর্ট ও ভিসা প্রস্তুত রয়েছে কিন্তু এরকম পরিস্থিতিতে তিনি খুব কমই আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। ওই নার্সের ৭৫ বছরের মা বলেন, 'আমার মেয়ে বাড়িতে আটকে রয়েছে এবং বাইরে বেরোতে পারছে না। তারা একা রয়েছে এবং কেউ সহায়তা করার জন্য নেই। একমাত্র রেশনের জন্য বাড়ির বাইরে যেতে পারবে। আমার নাতি যখন বাইরে বেরিয়েছিল তালিবানরা তাকে লক্ষ্য করে এবং তারা তাকে তাদের বাহিনীতে যোগ দিতে বলে।’
ওই নার্সের ৮৪ বছরের বাবা ভারত সরকারের কাছে তাঁর মেয়ে ও নাতিদের সুরক্ষিতভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, 'আমার শুধু একটাই আবেদন আমার মেয়ে আমার কাছে ফিরে আসুক। আমি তালিবানদের বিষয়ে জানি, আমি আমর মেয়েকে ফিরিয়ে আনার জন্য সাহায্য চাইছি।’ প্রসঙ্গত, ওই নার্স কলকাতাতেই এক আফগানকে বিয়ে করেন এবং তাঁর ছেলের দু’বছর বয়স হওয়ার পর তিনি আফগানিস্তানে চলে যান। কিন্তু ওই মহিলার পরে বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং তিনি আফগানিস্তানে তাঁর বাড়ির কাছে একটি ক্লিনিকে কাজ শুরু করেন।
নার্সের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন যে ওই পরিবারের কাছে ৪–৫দিনের রেশনের খাবার মজুত রয়েছে। ওই প্রতিবেশীরা জানান যে বাড়ির কাছের দোকানগুলি খুলেছে, কিন্তু তালিবাদের ভয়ে তাঁরা মুদি দোকানের জিনিস কেনার জন্য বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। ওই নার্সের বাবা বলেন, 'আমরা বিদেশ মন্ত্রককে টুইট করে জানিয়েছি কিন্তু কোনও সাড়া পায়নি। আমরা আশা হারাচ্ছি। আমি শুনেছি একটা বিমান ওখান থেকে এসেছে কিন্তু তারা কী করে তাকে তুলবে এবং আমার মেয়ে কীভাবে বিমানবন্দরে পৌঁছাবে, তালিবানরা তার বাড়ির আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’ প্রতিবেশীরা বলেন, 'কাবুল থেকে ২০০ কিমি ভেতরে থাকে তাঁরা এবং সেখানে বিমান যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। তাঁর স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের পর তিনি তাঁর সন্তানদের নিয়েই থাকেন, বুঝতে পারছি না কীভাবে ওই পরিস্থিতি থেকে তাঁকে বের করে নিয়ে আসব আমরা।’












Click it and Unblock the Notifications