বিশ্বজুড়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, অনেক দেশেই তোলা হচ্ছে বিধি নিষেধ
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, অনেক দেশেই তোলা হচ্ছে বিধি নিষেধ
করোনা নিয়ে উদ্বেগ কাটতে কাটতে যেন কাটছে না। ভারতের কোভিড গ্রাফ অনেকটাই নিম্নমুখী। কিন্তু বিশ্বে অনেক দেশে করোনা সংক্রমণ অনেকটাই বাড়তে দেখা গিয়েছে। আর তাই সমস্ত দেশকে কোভিড নিয়ে সতর্ক করলেন বিশ্ব সংস্থার মহাপরিচালক। এই বৃদ্ধি পাওয়ার সংক্রমণকে তিনি হিমশৈলের চূড়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন এটি হিমশৈলের চূড়া মাত্র। যদি এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে আগামী দিনগুলোকে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

এশিয়ায় কিছু অংশে বৃদ্ধি করোনার
এশিয়ার কিছু অংশে অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে করোনা গ্রাফ। যা কিন্তু ভয় ধরাচ্ছে আমজনতার মনে। প্রতিটি দেশে এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে যদিও এখনও মহামারি পুরোপুরি বিশ্ব থেকে বিদায় নেয়নি বলে জানান হু প্রধান।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ
দক্ষিণ কোরিয়ায় ঊর্ধ্বমুখী করোনা গ্রাফ। বৃহস্পতিবার নতুন করে ৬.২ লক্ষ করোনা আক্রান্তে খবর পাওয়া গিয়েছে। যা একদিনে সর্বোচ্চ। জার্মানিতে করোনা আক্রান্ত ১৫ লক্ষ মানুষ। ভিয়েতনামে সেই সংখ্যাটা ১২ লক্ষ। ৫.২ লক্ষ মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছে ফ্রান্সে। বাদ যাইনিও যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে সংক্রমণের সংখ্যা ৪.৮ লক্ষ। সবার থেকে এগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া। গত এক সপ্তাহে ২৪ লক্ষ আক্রান্তের খবর মিলেছে। যার রেকর্ড হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিনেও কিন্তু করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী। চিনে মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে যেভাবে দৈনিক আক্রান্তে সংখ্যা বাড়ছিল এবারেও কিন্তু তেমনই ভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে গ্রাফ। দৈনিক কেস ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। আতঙ্কে কাটছে চিনা বাসিন্দাদের।

বিশ্ব সংস্থার কী বলছেন
বিশ্ব সংস্থার মতে, এক সপ্তাহে করোনা রিপোর্ট সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কোভিড সংক্রমণে শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি ঊর্ধ্বমুখী করোনা গ্রাফ। প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। তবুও সমস্ত বিধিনিষেধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংক্রমিত দেশ দক্ষিণ কোরিয়া।

চিনে সংক্রমণের সংখ্যা কত
চিনের লাগামহীন করোনা গ্রাফ। করোনা রোগীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনের সময় অনেকটাই কমিয়েছে চিন। দু বছর ধরে করোনার সঙ্গে লড়াই করে চলেছে এই দেশ। প্রথম চিন থেকেই করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি। বৃহস্পতিবার চিনে ২ হাজার ৪০০ জন বেশি করোনা সংক্রমণের খবর পাওয়া গিয়েছে। যেখানে ১ হাজার ২২৬ জন উপসর্গযুক্ত। আর ১ হাজার ২০৬ উপসর্গহীন।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক কী জানাল
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ৮.২১ লক্ষেরও বেশি ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু করোনার প্রথম ডোজ পেয়েছে। দেশে মোট করোনার টিকা ১৮০.৯৫ কোটি ছাড়িয়েছে। দ্বিতীয় দিনে ৪.৬ লক্ষেরও বেশি টিকা পেয়েছেন। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধে ৭টা পর্যন্ত মোট টিকা নেওয়ার সংখ্যা ১৩ লক্ষেরও বেশি।

মর্ডানা কোন ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিল
বৃহস্পতিবার মর্ডানা কানাডার ৬ থেকে ১১ বয়সী শিশুদের করোনা টিকার অনুমোদন করেছেন। টিকার নাম স্পাইকভ্যাক ব্র্যান্ড। যেটি কিন্তু আগে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিশুদের মধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।

বিধিনিষেধ প্রত্যাহার ইতালির
ইতালি সরকারও করোনার বিধিনিষেধ তুলে নিচ্ছে। দু বছরের বেশি সময় ধরে ভাইরাসটি পুরো দেশকে কাপিয়েছে। যদিও করোনা গ্রাফ অনেক জায়গাতে ঊর্ধ্বমুখী। ১ মে থেকে রেস্তোরাঁ, জিম, পাবলিক ট্রান্সপোর্টগুলোতে আর করোনার শংসাপত্র দেখাতে হবে না। সেই সঙ্গে করতে হবে না করোনা পরীক্ষাও।

হোয়াইট হাউসের মত কী
সোমবার হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে করোনা ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন বিএ ২ উপ ভ্যারিয়েন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনেকটাই আঘাত হেনেছে। বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার কেসের সংখ্যা দেখা যাচ্ছে। এটি বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন। কানাডা ভ্রমণকারী দেশে করোনা টিকা শংসাপত্র দেখা হবে এবং করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়।

ব্রিটেন কী অনুমদন করল
অ্যাস্ট্রাজেনেকার থেরাপি প্রতিরোধ মূলক কোভিড থেরাপি অনুমোদন করেছে ব্রিটেন। যারা দুর্বল ও রোগ প্রতিরোগের ক্ষমতা যাদের কম প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এই অনুমোদন করা হয়েছে। মহামারি বিরুদ্ধে লড়াই করার এটি একটা ধাপ।












Click it and Unblock the Notifications