এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, আগামী দিনে কোন পথে হাঁটবে বাংলাদেশ?

গোটা বাংলাদেশ জুড়ে এখন চূড়ান্ত রাজনৈতিক অস্থিরতা। শেখ হাসিনা সরকার এখন বাংলাদেশে অতীত। শেখ হাসিনা নিজে দেশ ছেড়েছেন। কোথায় আগামী দিনে তিনি আশ্রয় পাবেন? তাই নিয়ে জোর জল্পনা রয়েছে। তার থেকেও বড় প্রশ্ন বাংলাদেশের কী হবে? বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে বইছে? পদ্মা দিয়ে আগামী দিন কোন রাজনৈতিক ঢেউ প্রবাহিত হবে?

সোমবার দুপুর থেকে বাংলাদেশ জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। বাংলাদেশ সেনাপ্রধান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তার আগেই খবর আসে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার জন্য রওনা হয়েছেন। তারপরই বঙ্গভবনে আন্দোলনকারীরা ঢুকে পড়েছেন। আওয়ামি লিগের একাধিক কার্যালয় ভাঙচুর করা হচ্ছে।

Bangladesh

প্রধানমন্ত্রী আর দায়িত্বে নেই। আওয়ামি লিগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গণঅভ্যুত্থানে গোটা বাংলাদেশ কার্যত অস্থির। এই অবস্থায় সেনাবাহিনী প্রধান সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কথা জানানো হয়েছে। ৩০০ এর বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন৷ আজ সোমবারও ২০ জনের বেশি মৃত্যুর খবর এসেছে৷

গোটা দেশজুড়ে অরাজকতার ছবি ধরা পড়ছে৷ বঙ্গভবন থেকে লুটপাট হয়েছে জিনিসপত্র। শেখ হাসিনার ঘরে খাটের উপর পা তুলে শুয়ে আছেন এক তরুণ৷ ইন্টারনেট দুনিয়ায় সেই ভিডিও এখন ভাইরাল। যদিও কোনও ভিডিও, ছবির সত্যতাই যাচাই করেনি ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা। বাংলাদেশের সংসদ ভবনের মধ্যেও ঢুকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন উঠছে, এই অরাজক পরিস্থিতি কাটবে কী ভাবে?

শান্তি প্রক্রিয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীর প্রধানের থেকে। আর কোনও গুলি যেন সেনা, পুলিশ খরচ না করে। সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শান্তি কীভাবে ফিরবে প্রতিবেশী দেশে? কাদের হাতে যাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ?

আওয়ামি লিগ থাকছে না। সেক্ষেত্রে অন্যান্য রাজনৈতিক দল মিলিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের। কিন্তু এই অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকাল কত দিন? এক মাস না কী তারও বেশি কিছু সময়? সেই প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক গাঁটছড়া কে কার সঙ্গে বাঁধবে? আওয়ামি লিগকে সরাতে বিরোধীরা এক টেবিলে আসছে। কিন্তু সরকারের চেয়ারের জন্য কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকবে তারা?

পাঁচ বারের রাষ্ট্রপ্রধান শেখ হাসিনা। একনায়কতন্ত্রের নামে বাংলাদেশে নামেই ভোট হয়৷ সাধারণ মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই৷ বিরোধীদের ভোটের বাজারে জায়গা নেই। এক তরফা এত কাল বঙ্গবন্ধু কন্যা জিতে এসেছেন। এই কথা জোরালো ভাবে বলে এসেছেন বিরোধীরা৷ গত এক দশক ধরে নির্বাচনকে প্রহসন বানিয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন শেখ হাসিনা। এই অভিযোগ বিরোধীদের।

এবার নতুন সরকার গঠনের অঙ্গীকার৷ বাংলাদেশে এরপর কি সুষ্ঠু ভোট হবে? সাধারণ মানুষ কি সঠিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে? সেই প্রশ্নও উঁকি দিচ্ছে।

দেশের শান্তি অবস্থান রক্ষার জন্য বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এখন সামনে রয়েছে। সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার উজ জামান পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। বাংলাদেশকে কি এখন সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করবে? বাংলাদেশে কি সেনা অভ্যুত্থান সম্ভব? সেনাবাহিনীর হাতেই কি দেশের শাসন ক্ষমতা যেতে পারে? সেই প্রশ্নও উসকে যাচ্ছে।

যদিও রাজনৈতিক মহল মনে করছে সেই ঘটনা সম্ভব নয়। কারণ, বাংলাদেশের সংবিধান সেনাবাহিনীকে সেই সুযোগ, অধিকার দেয়নি। বাংলাদেশের সংবিধানে সেনা অভ্যুত্থান, সেনাবাহিনীর দেশ নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গ নেই৷ অর্থাৎ সরকার গঠন করতে হবে।

এদিকে সরকার গঠন হলেও তার স্থায়িত্ব কতদিন থাকবে? জোট সরকার হবে কি? সেই সব বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন থাকছে। এর সঙ্গে রয়েছে ভারতের প্রসঙ্গে।

আগামী দিনে বাংলাদেশ কোন পথে যাবে? নয়া দিল্লির সঙ্গে বরাবর ঢাকার সম্পর্ক সুমধুর। নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শেখ হাসিনার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ। দেশ ছেড়ে প্রথমে শেখ হাসিনা ভারতেই গিয়েছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ভারতের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ।

বাংলাদেশের কুর্সি বদল হচ্ছে। আগামী দিনে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কতটা সাবলীল থাকবে? উৎসবে কি এরপর পদ্মার ইলিশ ঢাকা থেকে আসবে এপাড় বাংলায়? দিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্কে থাকবে বাংলাদেশ? একাধিক বিষয় জল্পনার টেবিলে উসকে যাচ্ছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+