আর জাকার্তা নয়, ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাজধানী নুসনতারা! কিন্তু কেন এই পরিবর্তন
রাজধানী স্থানান্তর করছে ইন্দোনেশিয়া। আর জাকার্তা নয়, জাভা থেকে রাজধানী যাচ্ছে নুসনতারায়। ২০২৪-এর মধ্যে পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশে রাজধানী স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। দেশের সাংসদ ইতিমধ্যেই রাজধানী জাকার
রাজধানী স্থানান্তর করছে ইন্দোনেশিয়া। আর জাকার্তা নয়, জাভা থেকে রাজধানী যাচ্ছে নুসনতারায়। ২০২৪-এর মধ্যে পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশে রাজধানী স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। দেশের সাংসদ ইতিমধ্যেই রাজধানী জাকার্তা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অনুমোদন দিয়েছে। বোর্নিও দ্বীপপুঞ্জের নতুন নাম দেওয়া হচ্ছে নুসনতারা।

আগে অনুমোদন পেলেও করোনার জন্য দেরি
প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো ২০১৯-এ রাজধানী স্থানান্তরের বিষয়টিতে অনুমোদন দিয়েছিলেন, কিন্তু করোনার জন্য স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় দেরি হয়ে যায়। বর্তমান রাজধানী থেকে প্রায় ১৩০০ কিমি দূরে বোর্নিও দ্বীপপুঞ্জে রাজধানী গড়ে তোলা হচ্ছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, নতুন নাম বিভ্রান্তিকর। যা পরিবেশগত কারণগুলি বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন এই রাজধানী তৈরি করতে সব মিলিয়ে ৩২.৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।

পরিবেশগত কারণে রাজধানীর পরিবর্তন
এই মুহূর্তে বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখে জাকার্তা। এছাড়া সম্পদ পুনর্বন্টনেরও একটি বিষয়ের কথা বলা হচ্ছে সরকারের তরফে। বিশ্বের সব থেকে জনবহুল দ্বীপপুঞ্জ হওয়ার কারণে পরিবেশগত সমস্যা বাড়ছে। সেখানে বায়ুদূষণ বেড়েছে। ভূমিজ জল প্রচুর পরিমাণে তোলার কারণে দ্বীপের বসে যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক। ২০৫০ সালের মধ্যে শহরের অনেকটাই ডুবে যাবে বলে আশঙ্কা> এক কোটির বেশি মানুষের বসবাসকারী জাভার এই জায়গা অনেকাংশেই জলাভূমিক ওপরে গড়ে উঠেছে। এছাড়াও জাকার্তায় আর্থিক বৈষম্য চলার অভিযোগও উঠেছে। যানজটও সেখানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকার আশা করছে রাজধানী স্থানান্তর করলে জাকার্তা যানজট, বায়ুদূষণ এবং বন্যার মতো কারণগুলি থেকে রক্ষা পাবে।

নতুন রাজধানী এবং সেখানকার মানুষের বিরোধিতা
এই মুহূর্তে মাত্র ৩৭ লক্ষ মানুষ বসবাস করেন খনিজ সমৃদ্ধ পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশে। সেখানে যেমন জঙ্গল রয়েছে আবার ওরাংওয়াংও রয়েছে ব্যাপক সংখ্যায়। নতুন রাজধানী যেমন জাতির পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠবে, অন্যদিকে নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, পূর্ব কালিমান্তানে ইন্দোনেশিয়ার নতুন রাজধানী হওয়ার ফলে পাম-তেল প্লান্টেশনের সম্প্রসারণ হবে। এই প্রদেশের অধিবাসী অর্থাৎ বোর্নিওবাসীরা বলছেন, সরকারের পদক্ষেপের ফলে সেখানকার পরিবেশ ও সংস্কৃতি বিপন্ম হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এছাড়াও রাজধানীর নাম নুসনতারা করা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। অনেকেই বলছেন এই শব্দটি পুরনো জাভানিজ শব্দ যা অর্থ দ্বীপপুঞ্জের জাতি।

আগেও বিভিন্ন দেশের রাজধানী পরিবর্তন
ইংরেজ আমলে ১৯১১ সালে অবিভক্ত ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ১৯৬০-এ ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেইরো থেকে ব্রাসিলিয়ায় সরানো হয়েছিল। পাকিস্তান ১৯৭৬ সালে তাদের রাজধানী করাচি থেকে ইসলামাবাদে সরিয়ে নিয়ে যায়। ১৯৯১ সালে নাইজেরিরা তাদের রাজধানী লাগোস থেকে আবুজায় সরিয়ে নিয়ে যায়। ১৯৯৭ সালে কাজাখস্তান তাজের রাজধানী আলমাটি থেকে নূর সুলতানে স্থানান্তরিত করে। ২০০৩ সালে মালয়েশিয়া তাদের রাজধানী কুয়ালামপুর থেকে পুত্রজায়ায় স্থানান্তরিত করে। ২০০৬ সালে মায়ানমার তাদের রাজধানী ইয়াঙ্গুন থেকে নেইফিড-তে স্থানান্তরিত করে। সেক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়া হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তৃতীয় দেশ, যারা রাজধানী স্থানান্তর করতে চলেছে।
(প্রতীকী ছবি)












Click it and Unblock the Notifications