দাম নেই স্নাতক, পিএইচডি-র, অগ্রাধিকার শুরু মাদ্রাসা পড়ুয়াদের! ফের নয়া সিদ্ধান্ত তালিবান সরকারের
দাম নেই স্নাতক, পিএইচডি-র, অগ্রাধিকার শুরু মাদ্রাসা পড়ুয়াদের! ফের নয়া সিদ্ধান্ত তালিবান সরকারের
কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই ফের স্বমহিমায় ফিরতে শুরু করেছে তালিবানেরা। ইতিমধ্যেই গোটা আফগানিস্তান জুড়েই জারি হয়েছে একাধিক ফতোয়া। ছাপ পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার উররেও। এমনকী বন্ধ হয়ে গিয়েছে কো-এম এডুকেশন। মেয়েদের শিক্ষার উপরেও জারি হয়েছে একাধিক বিধিনিষেধ। এমতাবস্থায় এবার আফগানিস্তানের খোলনলচে এবার বদলে ফেলতে চাইছে তারা। ২০০০ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে যে শিক্ষা ব্যবস্থা জারি ছিল তা একেবারই পছন্দ নয় তালিবানদের।

দাম নেই গ্রাজুয়েটদের
আর তাই গত ২০ বছরে গোটা দেশে যত স্নাতক রয়েছে তাদের একেবারে বাতিলের খাতায় ফেলে দিল তালিবান সরকার। সহজ কথায় এখন থেকে আর কোনও মূল্যই নেই তাদের ডিগ্রির। সম্প্রতি কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারারদের সঙ্গে একটি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তালিব নেতা তথা তালিব সরকারের উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী আব্দুল বাকি হাক্কানি।ওই বৈঠকেই কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন অধ্যাপক নিয়োগের কথাও জানান তিনি। একই সাথে এখন থেকে তালিবানদের মূল লক্ষ্য যে ধর্মীয় শিক্ষা সেকথাও সকলের কাছে স্পষ্ট করে দেন তিনি।

বাদ পড়বেন মাস্টার্স এবং পিএইচডিধারীরা
এদিকে শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে হক্কানি বলেন, এমন শিক্ষক নিয়োগ করা উচিত যারা শিক্ষার্থীদের এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ জাগাতে পারে। ভবিষ্যতে যাতে আফগানিস্তান তাদের মেধা কাজে লাগাতে পারে সেকথাও বারেবারে বলেন তিনি। তবে গোটা কাজই যেন হয় ধর্মীয় অধ্যয়নের মাধ্যমে। তাঁর দাবি আধুনিক গবেষণায় মাস্টার্স এবং পিএইচডিধারীরা মাদ্রাসাযর পড়ুয়াদের থেকে কম মূল্যবান। এমনকী তাদের শিক্ষার দামও অনেক কম বলে দাবি করেছেন তিনি।

কী বলছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী
এমনকী যাদের কাছে এমএসসি বা পিএইডি-র মতো ডিগ্রি রয়েছে বর্তমানে তারও সরকারি কাজস বা চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবে বলে সাফ ঘোষণা করে দিয়েছে তিনি। উল্টে যাঁরা মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন বা ধর্মীয় বিষয়ে শিক্ষা নিয়েছেন, তাঁদের দাম হবে বেশি। তাঁরাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেতে চলেছেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তালিবান সরকারের উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী।

জোর চর্চা আন্তর্জাতিক মহলে
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালেও যখন আফগানিস্তান দখল করেছিল তালিবানেরা সেই সময়ও শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে নাগরিকদের একাধিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল তারা। এমবকী মহিলাদেরও সমস্ত অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এবার ফের সেই পথেই হাঁটতে শুরু করেছে তারা। তবে শিক্ষার উপর সরকারি ধর্মীয় কোপ নিয়ে জোর চর্চা হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এমনকী এরফলে আফগানিস্তান দ্রুত যে বর্হিবিশ্বের থেকে আলাদা হয়ে যাবে সেকথাও বলাই বাহুল্য।












Click it and Unblock the Notifications