চিন ও ব্রিটেনের তুলনায় নিউ ইয়র্ক শহরে এক লক্ষেরও বেশি করোনা আক্রান্ত, ইঙ্গিত সরকারি তথ্যে
চিন ও ব্রিটেনের তুলনায় নিউ ইয়র্ক শহরে এক লক্ষেরও বেশি করোনা আক্রান্ত, ইঙ্গিত সরকারি তথ্যে
করোনা ভাইরাসের উৎসকেন্দ্র আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে চিন ও ব্রিটেনের তুলনায় নিশ্চিত করোনা কেস বেড়ে দাঁড়িয়েছে একলক্ষের বেশি। এমনটাই জানা গিয়েছে সরকারি তথ্যে। করোনা সঙ্কটে গোটা বিশ্বের চিত্র খুবই খারাপ কিন্তু নিউ ইয়র্ক শহরের পরিস্থিতি তার চেয়েও সাংঘাতিক।

চিন ও ব্রিটেনকে পিছনে ফেলেছে নিউ ইয়র্ক শহর
নিউ ইয়র্ক শহরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রবিবার এখানে নতুন করে কমপক্ষে ৫,৬৯৫টি কেস ধরা পড়েছে যা ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়িয়েছে ১০৪,৪১০ টির বেশি। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ২৭,৬৭৬ জন ও এই শহরে মৃত্যু হয়েছে ৬,৮৯৮ জন। চিন ও ব্রিটেনের থেকে নিউ ইয়র্ক শহরে করোনা ভাইরাস কেস এখন বেড়ে গিয়েছে। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, ব্রিটেনে করোনা কেস ৮৫,২০৮টি, চিনে ৮৩,১৩৫টি ও ইরানে ৭১,৬৮৬টি।

নিউ ইয়র্ক স্টেটে করোনা আক্রান্ত ১৮৯,০০০
আমেরিকায় করোনা ভাইরাসের মোট সংখ্যা ৫৫৭,৩০০টি ও এখনও পর্যন্ত মারা গিয়েছেন ২২ হাজার মানুষ। বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের কেসের সসংখ্যা ১.৮ মিলিয়নের বেশি এবং মৃত্যু ঘটেছে ১১৪,১৮৫ জনের। প্রসঙ্গত, নিউ ইয়র্ক স্টেটে করোনা ভাইরাসের কেস ধরা পড়েছে ১৮৯,০০০টিরও বেশি, করোনা ভাইরাস আঘাত হেনেছে আমেরিকার এই প্রদেশে বেশি এবং এখানে মৃত্যু হয়েছে ৯৩৮৫ জনের। নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও রবিবার জানিয়েছেন শহরের হাসপাতালগুলিতে আগের সপ্তাহগুলি খুবই কঠিন ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা যে শত্রুর সঙ্গে লড়াই করছি তাকে কখনও কোনও সময় অগ্রাহ্য করা উচিত নয়। করোনা ভাইরাস হিংস্র এবং আমাদের এমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে যা আগে কখনও দেখিনি। এক দশকের মধ্যে আমাদের দেশ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি।' তিনি জানিয়েছেন এটা খুব কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক সপ্তাহ নিউ ইয়র্ক শহরের জন্য প্রাথমিকভাবে যা প্রত্যাশা করেছিলাম তার চেয়ে খারাপ ছিল না।

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও তা ভয়াবহ নিউ ইয়র্ক স্টেটে
নিউ ইয়র্কের গর্ভনর অ্যান্ড্রু কুমো জানিয়েছেন ৭৫৮এর বেশি মানুষ এ রাজ্যে করোনা ভাইরাসে মৃত হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে কমতে থাকলেও তিনি এটিকে ভয়াবহ সংবাদ হিসাবে বর্ণনা করছেন এবং জোর দিয়েছেন যে তিনি নিউ জার্সি এবং কানেকটিকাটের সঙ্গে অর্থনীতি পুনরায় খোলার সমন্বিত পরিকল্পনায় কাজ করবেন যা জনস্বাস্থ্যেরও সুরক্ষা দেবে। নিউ ইয়র্ক স্টেটে মিশ্র ফলাফল দেখা দিয়েছে, হাসপাতালে মোট করোনা ভর্তির সংখ্যা কমলেও আইসিইউ ও অভ্যন্তরীণ ওয়ার্ডগুলিতে করোনার রোগী রয়েছে। কুমো জানিয়েছেন যে এখন সকলের মনেই এটা বড় প্রশ্ন যে অর্থনীতির পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে। তিনি বলেন, ‘মানু্য আবার তাঁদের আগের জীবনে ফিরতে চান, মানুষ বাড়ির বাইরে যেতে চান। তাঁদের এখন কেবিন জ্বর হয়েছে, আমরা চাই অর্থনীতি কাজ করুক, মানুষের অর্থের প্রয়োজন। জীবনকে কাজ করতেই হবে।' গর্ভনর উদ্বিগ্ন হয়ে জানিয়েছেন যে তিনি স্টেট ও অর্থনীতিকে খুব দ্রুত সচল করতে চান।












Click it and Unblock the Notifications