ইউরোপ–মধ্য এশিয়ার ৫৩টি দেশে নতুন করোনা ওয়েভ, সতর্কবাণী হু–এর
ইউরোপ–মধ্য এশিয়ার ৫৩টি দেশে নতুন করোনা ওয়েভ
একদিকে যখন বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমে নিম্নগামী হতে শুরু করেছে তখন একমাত্র ইউরোপে কোভিড–১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে ক্রমাগত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ইতিমধ্যেই সতর্ক জারি করে জানিয়েছে যে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার ৫৩টিরও বেশি দেশ আসন্ন সপ্তাহে করোনা ভাইরাস মহামারির পুনরুত্থানের সম্মুখীন হবে অথবা ইতিমধ্যেই হয়ত এই দেশগুলি নতুন ওয়েভের সঙ্গে লড়তে শুরু করে দিয়েছে।

কোভিড মহামারির পুনরুত্থান
ইউরোপের ডেনমার্কের কুপোনহার্গের সদর দফতর থেকে হু-এর ইউরোপের প্রধান হান্স ক্লুগ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, 'মহামারি পুনরুত্থানের আরও একটি সঙ্কটজনক পয়েন্টে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা। আবারও মহামারির উৎসকেন্দ্র হতে চলেছে ইউরোপ, এক বছর আগেও এই অবস্থাতে ছিল ইউরোপ।' ক্লুগ জানিয়েছেন যে আবার রেকর্ড পর্যায়ে করোনা কেসগুলি যেতে শুরু করেছে ইউরোপে, সংক্রমণ বাড়ছে মধ্য এশিয়াতেও, যা বেশ উদ্বেগজনক।

ইউরোপিয়ান দেশগুলিকে কঠোর হতে হবে
ক্লুগ জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের নতুন সংক্রমণ ও মৃত্যু প্রতিরোধ করার জন্য ইউরোপিয়ান দেশগুলিকে আরও কঠোরভাবে কাজ করতে হবে। তিনি এও জানান যে পার্থক্য শুধু এই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন এই ভাইরাস সম্পর্কে বেশি করে অবগত এবং এর সঙ্গে লড়াই করার জন্য যথেষ্ট ভালো সরঞ্জাম রয়েছে। তবে ইউরোপের কিছু জায়গায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা শিথিল ও টিকাকরণের হার কম হওয়ার জন্য ক্লুগ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইউরোপের হু জানিয়েছে, এই প্রদেশ প্রায় ১৮ লক্ষ নতুন করোনা কেস দেখতে চলেছে, যা গত সপ্তাহের থেকে ৬ শতাংশ বেশি এবং একই সময়ে ২৪,০০০ মৃত্যু হবে এই সংক্রমণে, যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি।

হাসপাতালে ভর্তির হার দ্বিগুণ হয়েছে
কোভিড-১৯-এর জন্য ৫৩টি দেশে হাসপাতালে ভর্তির হার দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। ক্লুগ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান যে এভাবে যদি চলতে থাকে তবে ইউরোপ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৫ লক্ষ মৃত্যু দেখতে পাবে। ক্লুগ বলেন, 'ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় প্রত্যেকটি দেশ কোভিড-১৯ পুনরুত্থানের প্রকৃত হুমকির সম্মুখিন হতে চলেছে বা ইতিমধ্যে তারা লড়াই করছে।'

মৃত্যুর সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়েছে
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইউরোপে কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়েছিল। হান্স জানান, সম্প্রতি ইউরোপের ৫৩টি দেশে সংক্রমণ যে গতিতে বাড়তে শুরু করেছে, তা না কমলে ফের বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী। এই পরিস্থিতিতে টিকাকরণ কেমন চলছে, কী পর্যায়ে রয়েছে, এ সব না ভেবে সংক্রমক রোগের ক্ষেত্রে যা যা করা উচিত, সেই অনুযায়ী করোনা-বিধি তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছে হু। ক্লুগ জানিয়েছেন যে এই প্রদেশে এখনও পর্যন্ত গড়ে মাত্র ৪৭ শতাংশ মানুষ সম্পূর্ণভাবে টিকা পেয়েছে। মাত্র আটটি দেশের জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ মানুষের দু'টি ডোজ নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications