চোখ রাঙাচ্ছে নয়া করোনা স্ট্রেন! লন্ডনে দীর্ঘায়িত লকডাউনের সম্ভাবনা, ইঙ্গিত স্বাস্থ্যমন্ত্রকের
চোখ রাঙাচ্ছে নয়া করোনা স্ট্রেন! লন্ডনে দীর্ঘায়িত লকডাউনের সম্ভাবনা, ইঙ্গিত স্বাস্থ্যমন্ত্রকের
সম্প্রতি জরুরিভিত্তিতে ব্রিটেনে ভ্যাকসিন প্রয়োগের ছাড়পত্র পেয়েছে ফাইজার। যদিও অন্যদিকে করোনার নতুন স্ট্রেনের আগমনে তটস্থ ব্রিটেন। রবিবার স্বাস্থ্য বিষয়ক নতুন চারদফা নিয়মবিধি চালু হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক পুনরায় জানালেন যে, আগামী কয়েক মাসের জন্য লকডাউনের জারি হতে পারে গোটা লন্ডনেই। আর এই ইঙ্গিত পেতেই স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত গোটা ইউরোপ।

৩০ ডিসেম্বরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সূত্রে খবর, আগামী ৩০শে ডিসেম্বর পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্তে রদবদল আনা হতে পারে। যদিও ম্যাট হ্যানককের দাবি, করোনার এই নতুন স্ট্রেন খুব অল্প সময়ের ভিতর অধিক সংখ্যক মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম। তাঁর মতে, "আগেরবারের চেয়েও অনেক বেশি কড়াভাবে সামলাতে হবে এই নতুন করোনা ভাইরাসকে।" যদিও এর জন্য সরকারি হস্তক্ষেপের বাইরেও নাগরিকদের নিজ দায়িত্বে আরও বেশি সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত তাঁর।

রবিবার রাত থেকেই লকডাউনে গোটা লন্ডনে
হ্যানককের মতে, "নতুন নিয়মাবলী চালু হওয়ার আগেই বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ যেভাবে লন্ডনে পাড়ি দিয়েছে, তা ভীষণভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেয়।" অন্যদিকে, এর আগে করোনার নব আগমনের কারণে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গত ১৯ ডিসেম্বর লকডাউনের কথা ঘোষণা করেন। সূত্রের খবর, রবিবার মধ্যরাত থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ড সহ গোটা লন্ডনে অনির্দিষ্টকালের জন্য শুরু হয়েছে লকডাউন।

বাতিল ক্রিসমাস
সূত্রের খবর, টিকাকরণ শুরু হতেই বড়দিনের কথা ভেবে এখাধিক করোনা বিধিতে শিথিলতা আনার কথা ভেবেছিল ব্রিটেন। কিন্তু এই নয়া অভিযোজিত করোনার কবলে পড়ে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে বরিস প্রশাসন। ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সূত্রে খবর, চারদফা নিয়মের আওতায় লন্ডন সহ আশপাশের অঞ্চলের প্রায় ১.৬৪ কোটি মানুষকে আগামী ১৫দিনের জন্য ঘরবন্দি থাকতেই হবে। জানা গেছে, বড়দিনের সময় দোকানপাট সহ গোটা বাজার বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি শারীরিক দূরত্ববিধিও কড়াভাবে বজায় থাকবে।

এক নজরে ব্রিটেনের করোনা মানচিত্র
এদিকে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত গোটা ব্রিটেনে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে ২০.৪৬ লক্ষ। মারা গেছেন ৬৭,৫০৩ জন। অবস্থা যেরকম, তাতে নতুন স্ট্রেনকে যথেষ্ট আশঙ্কার কারণ হিসেবে দেখছেন ব্রিটিশ গবেষকরা। এদিকে গত কয়েক মাস আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় খানিক পারাপতন দেখা গেলেও গত দু-সপ্তাহ ধরেই এই নয়া করোনার আগমণের জেরে ফের বেড়েছে করোনা সংক্রামিত মানুষের সংখ্যা। এমতাবস্থায় ভ্যাকসিনের প্রয়োগে সামগ্রিক পরিস্থির কতটা উন্নতি হয় এখন সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications