ব্রিটেন ছাড়াও সারা বিশ্বেই কমবেশি ছড়িয়েছে নয়া করোনা স্ট্রেন! হু-র বার্তায় বাড়ছে আতঙ্ক
ব্রিটেন ছাড়াও সারা বিশ্বেই কমবেশি ছড়িয়েছে নয়া করোনা স্ট্রেন! হু-র বার্তায় বাড়ছে আতঙ্ক
ফাইজারের জরুরিভিত্তিতে প্রয়োগও যে তেমন লাভজনক হচ্ছে না, তা পরিষ্কার ব্রিটেনের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কথাতেই। সম্প্রতি করোনার নবরূপে ফেরত আসতেই ফের লকডাউনের পথে হেঁটেছে ব্রিটেন। অন্যদিকে বিশ্ববাসীর ভয়কে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন জানালেন যে, ব্রিটেন ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এতদিনে ছড়িয়েছে করোনার নতুন 'স্ট্রেন'!

কোভিড ভ্যাকসিনের প্রভাব নষ্ট করতে সমর্থ নব করোনা
হু-এর তরফে ডঃ সৌম্যা জানিয়েছেন, "এখনই বেশি কথা বলার মত সময় আসেনি। তবে আগেরবারের থেকেও এই করোনা ৭০% অধিক সংক্রমণের ক্ষমতা রাখে।" এ প্রসঙ্গে ব্রিটেনের 'জিনোম সিকোয়েন্স' গবেষণার দিকটি তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, ব্রিটেনের মত একইভাবে অন্যান্য দেশও জিনসজ্জা পরীক্ষা করলে সেখানেও নতুন স্ট্রেন ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রের খবর, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকাতেও এই স্ট্রেনের খোঁজ মেলে। ব্রিটিশ গবেষকদের মতে, আগেরবারের থেকে এবারের জিনসজ্জায় প্রায় ১৭ রকম বদল ঘটিয়েছে কোভিড ভাইরাস।

স্পাইক প্রোটিনের বদলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় হেরফের হবে কি?
হু-এর তরফে জানান হয়েছে যে, এর আগেও করোনার অভিযোজন হয়েছে, তবে এইবারের বদলে স্পাইক প্রোটিনে হয়তো হেরফের হবে। সৌম্যা স্বামীনাথনের মতে, স্পাইক প্রোটিনে বদল এলেও ভ্যাকসিনের প্রতি শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রতিক্রিয়া খুব একটা বদলাবে না। তাঁর মতে, এই বি.১.১.৭ স্ট্রেনকে বুঝতে কমপক্ষে দু'সপ্তাহের গবেষণা প্রয়োজন। ভারতীয় গবেষণার সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্বামীনাথন জানান, "ভ্যাকসিন প্রস্তুতের জন্য জিনসজ্জার গবেষণা খুবই দরকারি। এই ক্ষেত্রে ভারত এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩ লক্ষ জিনসজ্জার প্রতিলিপি খতিয়ে দেখেছে, যা সত্যই প্রশংশনীয়।"

কোন উপায়ে মিলতে পারে রেহাই ?
সৌম্যার মতে, "এখনও পর্যন্ত পুরোনো ছকেই চলতে হবে প্রত্যেককে। বহুরূপী করোনাকে আটকাতে গেলে টেস্টিং, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং ও আক্রান্তদের আইসোলেশন ছাড়া উপায় নেই।" সূত্রের খবর, সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে করোনার যে নতুন স্ট্রেনের দেখা মেলে, তাই পরবর্তীতে লন্ডন সহ গোটা ব্রিটেনে সংক্রমণের গতিবৃদ্ধি করে। গবেষকদের মতে, প্রায় ১.৮ কোটি মানুষ কড়া বিধিনিষেধের আওতায় থাকা সত্ত্বেও যেভাবে করোনা ছড়াচ্ছে তা সত্যিই আশঙ্কাজনক। সম্প্রতি ভারতও যেভাবে লকডাউনের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছে, তাতে ভয়ে কাঁটা হয়ে রয়েছেন ভারতবাসী।

মহারাষ্ট্রে জারি নাইট কারফিউ
এদিকে ইতিমধ্যেই বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের মত ভারতও ব্রিটেন থেকে আগত উড়ান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার পর্যন্ত দেশে যেসকল উড়ান প্রবেশ করবে, সেগুলির যাত্রীদের কড়া পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। অন্যদিকে আগামী ৫ই জানুয়ারি থেকে নাইট কারফিউ চালু করতে চলেছে মহারাষ্ট্র সরকার। অন্যদিকে, নতুন স্ট্রেনের বিপক্ষে ভ্যাকসিনগুলির অকেজো হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়েছেন হু-এর অতিরিক্ত পরিচালন অধিকর্তা মাইক রায়ান। অন্যদিকে, ব্রিটেনে ফাইজারের প্রয়োগে খানিকটা সুফল মেলার কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে শুধু এই খবরে যে চিঁড়ে ভিজবে না, তা স্পষ্ট গবেষকদের কাছে।












Click it and Unblock the Notifications