নেপাল জুড়ে কার্ফু, দেশের নিরাপত্তার ভার কাঁধে তুলে নিল সেনাবাহিনী
নেপালে হিংস্র বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী দেশজুড়ে কার্ফু জারি করেছে। একইসঙ্গে নাগরিকদেরকে যেকোনও অনুমোদনহীন অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। রাজধানীতে সশস্ত্র সেনারা টহল দিচ্ছে। আগের দুদিনে বিক্ষুব্ধ জনতা সরকারি ভবনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং রাজনীতিবিদদের ওপর আক্রমণ করেছে। যার ফলে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নেপালের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল বিক্ষোভকারীদের প্রতি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। জেনারেল বলেছেন, "আমরা বিক্ষোভকারী গোষ্ঠীকে প্রতিবাদ কর্মসূচি বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে দেশের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ বের করার আহ্বান জানাচ্ছি। বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে এবং আমাদের ঐতিহাসিক ও জাতীয় ঐতিহ্য, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি রক্ষা করতে হবে।"

একটি নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রাখার দায়িত্ব সেনাবাহিনী গ্রহণ করেছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতায় প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিতে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। জেনারেল সিগদেল উল্লেখ করেন, "নেপালের ইতিহাসের শুরু থেকেই নেপালী সেনাবাহিনী সর্বদা নেপালের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা, মুক্তি, জাতীয় ঐক্য এবং নেপালী জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "কিছু গোষ্ঠী কঠিন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সাধারণ নাগরিক এবং সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি করছে।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দুর্নীতি এবং স্বচ্ছতার অভাবের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেওয়ায় নেপালে দুই দিন ধরে তীব্র হিংসা চলছে।
পুলিশের গুলিতে ১৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ এবং বৃহৎ আকারের বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা, যারা নিজেদেরকে জেনারেশন জেড (Gen Z) হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, তারা রাজনীতিবিদদের বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং সাধারণ নেপালী জনগণের জীবনযাত্রার মধ্যে তীব্র বৈসাদৃশ্য তুলে ধরেছে, নানা জায়গায় হামলা চালিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications