মঙ্গলের ফাঁড়া কাটলেও এখনও স্বস্তিতে নেই নওয়াজ, ঝুলছে বরখাস্তের খাড়া, বোঝাল পাক আদালত
পানামাগেট কেলেঙ্কারিতে আরও বিপাকে পড়লেন নওয়াজ শরিফ। সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার কোনও সিদ্ধান্ত না জানালেও বিচারপতিদের বেঞ্চ বুঝিয়ে দিয়েছে যে বরখাস্তের খাড়া ঝুলছে পাক প্রধানমন্ত্রীর উপরে।
পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে বরখাস্তের আগে ভালভাবে রিপোর্ট খতিয়ে দেখতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার নওয়াজের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার শুনানিতে এমনটাই জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির স্পেশাল বেঞ্চ। এই স্পেশাল বেঞ্চের প্রধান বিচারপতি ইজাজ আফজল খান জানিয়েছেন, নওয়াজ এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় যে সব তথ্য-প্রমাণ এবং রিপোর্ট আদালতের কাছে তা ভালভাবে খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এমনকী, সেরকম হলে বিষয়টি অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্টেও পাঠানো হতে পারে বলে মঙ্গলবার পাক সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে।[আরও পড়ুন:ফের কি অপসারিত হওয়ার পথে নওয়াজ, মঙ্গলবারই চূড়ান্ত হতে পারে পাক প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্য ]
নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে গঠিত জিট-এর রিপোর্টের পক্ষে সোমবারই সওয়াল করেছিলেন মামলাকারী রাজনৈতিক দলগুলির আইনজীবী। মঙ্গলবার শুনানি শুরু হতেই নওয়াজ এবং তাঁর পরিবারের হয়ে মামলা লড়া আইনজীবী খাওয়াজা হ্যারিস অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্ট তদন্তের জন্য ১৩টি পয়েন্টের কথা বলেছিল। তাহলে জিট কেন ১৫টি পয়েন্টে তদন্ত করছে। এটা আইন বহির্ভূত এবং জোর করে নওয়াজ ও তাঁর পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেন।

স্পেশাল তিন বিচারপতি বেঞ্চের পক্ষে বিচারপতি ইজাজুল আসান জানান, লন্ডনে নওয়াজের ৪টি বিলাস বহুল ফ্ল্যাট কেনার ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে আরও কিছু অসঙ্গতি সামনে আসে। তাই জিট ওই বিষয়গুলিকেও তাদের তদন্তের আওতায় নিয়ে আসে। সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল তিন বিচারপতির বেঞ্চের প্রধান বিচারপতি ইজাজ আফজল খান জানান, জিট শুধুমাত্র সুপারিশ করেছে। কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বরখাস্ত করা হবে কি হবে না তা আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।
সেইসঙ্গে এদিন নওয়াজের আইনজীবীকে বেশকিছু প্রশ্নেরও মুখে পড়তে হয়। কারণ আইনজীবী খাওয়াজা হ্যারিস দাবি করেন, লন্ডনের ওই ফ্ল্যাটের মালিক সৌদি আরবের এফজিই ক্যাপিটাল। এই সংস্থার মালিক নওয়াজ শরিফের ছেলে হাসান এবং সংস্থার চেয়ারম্যান নওয়াজ শরিফ খোদ। তাহলে, খাওয়াজা কী করে দাবি করছেন লন্ডনের ৪টি বিলাস বহুল ফ্ল্যাটের সঙ্গে নওয়াজ শরিফের কোনও যোগ নেই। এই নিয়ে নওয়াজ শরিফের আইনজীবী খাওয়াজা হ্যারিস কোনও উত্তর দিতে না পারলেও ফের একবার জিট-এর রিপোর্টকে অস্বচ্ছ বলে দাবি করেন।
দুর্নীতি মামলায় যেভাবে এবার নওয়াজের নাম জড়িয়েছে তা থেকে তাঁর বেরিয়ে আসা শক্ত বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও, আপাতত জিট-কে অনৈতিক বলেই পাক প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্তের হাত থেকে বাঁচানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে পিএমএল।












Click it and Unblock the Notifications