৯৪ সালে উৎক্ষেপণ করা রকেটের মুখোমুখি নাসার মহাকাশচারীরা! কক্ষপথ পরিবর্তন স্টেশনের
মহাকাশচারীরা স্পেসওয়াক সম্পন্ন করে ফেলেছেন। এবং তাঁরা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের বাইরে একটি ভাঙা অ্যান্টেনা প্রতিস্থাপনও করে দিয়েছেন।
মহাকাশচারীরা স্পেসওয়াক সম্পন্ন করে ফেলেছেন। এবং তাঁরা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের বাইরে একটি ভাঙা অ্যান্টেনা প্রতিস্থাপনও করে দিয়েছেন। তার কয়েক ঘন্টা পরে ফ্লাইট কন্ট্রোলারদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন তাঁরা মহাকাশে একটি রকেটের ধ্বংসাবশেষের কাছাকাছি চলে এসেছেন। তখনই কক্ষপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল চটজলদি।

শুক্রবার উড়ন্ত পরীক্ষাগার অর্থাৎ মহাকাশ স্টেশনটিকে নিয়ে কিছুটা কম কক্ষপথে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন মহাকাশাচারীরা। সেইমতোই কক্ষপথ পরিবর্তন করতে চলেছে মহাকাশ স্টেশন। নাসা মহাকাশ স্টেশনটিকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য অরবিটাল ধ্বংসাবশেষ মূল্যায়ন করছে এবং মিশন নিয়েছে ধ্বংসাবশেষ এড়াতে। ইভেন্টের কয়েক ঘন্টা আগে কৌশলটি শেষ করতে হবে। নাসা পরিষ্কার করেছে যে মহাকাশচারীরা তাৎক্ষণিক কোনও বিপদে নেই।
মিশন কন্ট্রোলে নাসার আন্তর্জাতিক অংশীদাররা ধ্বংসাবশেষ এড়ানোর কৌশল নিয়েছে। রকেট ৩৯৯১৫ উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল ১৯৯৪ সালের ১৯ মে। রকেটটি তারপর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ১৯৯৬ সালের ৩ জুনের পর থেকে ধ্বংসাবশেষ গ্রহের চারপাশে শূন্যতায় ভাসছে। তারপর নাসার মহাকাশ স্টেশনের দৌলতে সেই রকেটের ধ্বংসাবশেষের মুখোমুখি হলেন মহাকাশচারীরা।
সম্প্রতি মহাকাশচারীরা সফল স্পেসওয়াক করেন। মহাকাশচারী টম মার্শবার্ন এবং কায়লা ব্যারন ধ্বংসাবশেষের আঘাত এড়াতে ভাঙা অ্যান্টেনা প্রতিস্থাপন করেছিলেন। ব্যারন স্পেসওয়াকের সময় ওই অ্যান্টেনায় কমপক্ষে ১১টি ছোট ধ্বংসাবশেষের আঘাতের কথা জানিয়েছেন। কিছু পুরানো গর্ত দেখা গিয়েছে। ডিভাইসটি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওখানে রয়েছে।
৬১ বছর বয়সী মার্শবার্ন ওই স্পেসওয়াক পরিচালনা করার কাছে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হয়েছিলেন। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ স্পেসওয়াক। ব্যারন একজন ৩৪ বছর বয়সী স্পেস রুকি, তিনি তাঁর প্রথম স্পেসওয়াকে বেরিয়েছিলেন। মঙ্গলবার দুই মহাকাশচারীর কাজটি শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নাসা মহাকাশ সম্ভাব্য সংঘর্ষ নিয়ে সতর্ক করায় স্পেসওয়াক বিলম্বিত করা হয়।
স্যাটেলাইট ধ্বংসাবশেষ থেকে একটি ছিদ্রযুক্ত স্যুটের সামান্য বৃদ্ধির ঝুঁকি সত্ত্বেও নাসা পরে নির্ধারণ করে মহাকাশচারীরা নিরাপদ ছিলেন। তবে ধ্বংসাবশেষ ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। গত মাসে রাশিয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় পুরানো স্যাটেলাইট ধ্বংস করেছে। টুকরো টুকরো সব জায়গায় পাঠিয়েছে। নাসা বলছে না যে ঘটনাটি সেই আবর্জনার উৎস ছিল যা স্পেসওয়াককে বিলম্বিত করেছিল।
এই সপ্তাহে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের অধীনে প্রথম জাতীয় মহাকাশ কাউন্সিলের বৈঠকের সময় মার্কিন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা গত মাসে রাশিয়ার ব্যাপক ধ্বংসাবশেষ-বিক্ষিপ্তকরণের নিন্দা করেছিলেন। ছিন্নভিন্ন স্যাটেলাইটের ১৭০০টিরও বেশি আকারের টুকরো ট্র্যাক করেন।












Click it and Unblock the Notifications