ভূমিকম্পে পৃথিবীকেও হারাল মঙ্গল! দেড় ঘণ্টার কম্পনে আশার আলো দেশছে নাসা

ভূমিকম্পে পৃথিবীকেও হারাল মঙ্গলে! দেড় ঘণ্টার কম্পনে আশার আলো দেশছে নাসা

ভূমিকম্প কি শুধু পৃথিবীতেই হয়, সৌরমণ্ডলের বাকি গ্রহ কি কেঁপে ওঠে না? নাসার বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর মতো কেঁপে ওঠে অন্যান্য গ্রহও। পৃথিবীর মতো মঙ্গল গ্রহেও ভূমিকম্প হয়, তার প্রমাণও দেখিয়ে দিয়েছে নাসার ইনসাইট ল্যান্ডার। নাসার বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, গত এক মাসে তিনবার লাল গ্রহের মাটি কেঁপে উঠেছে।

মঙ্গল গ্রহে সবথেকে বড় এবং দীর্ঘতম 'ভূমিকম্প'

মঙ্গল গ্রহে সবথেকে বড় এবং দীর্ঘতম 'ভূমিকম্প'

কিছু দিন আগে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার ইনসাইট ল্যান্ডার মঙ্গল গ্রহে এক হাজার দিন পূর্ণ করেছে। দিনটি আরও বিশেষ ছিল কারণ ইনসাইট মঙ্গল গ্রহে সবথেকে বড় এবং দীর্ঘতম 'ভূমিকম্প' শনাক্ত করেছিল। মঙ্গলের মাটি কেঁপে ওঠার প্রমাণ দিয়েছে ওই ইনসাইট ল্যান্ডারের ভূমিকম্প নির্দেশক যন্ত্র বা সিসোমিটার।

এক মাসে তৃতীয় ভূমিকম্প শনাক্ত লাল গ্রহে

এক মাসে তৃতীয় ভূমিকম্প শনাক্ত লাল গ্রহে

নাসার ইনসাইট ল্যান্ডারের সিসোমিটারে ধরা পড়েছে, মঙ্গলে যে ভূমিকম্প বা আফটারশকগুলি হয়ছিল তাঁর তীব্রতা ছিল ৪.২ এবং এই কম্পন প্রায় দেড় ঘন্টা স্থায়ী হয়েছিল। নাসার ইনসাইট ল্যান্ডার এক মাসে তৃতীয় ভূমিকম্প শনাক্ত করে। এর আগেও এখানে ৪.২ এবং ৪.১ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প হয়েছিল।

পৃথিবীর মতো কয়েক সেকেন্ড নয়, দেড় ঘণ্টা কম্পন

পৃথিবীর মতো কয়েক সেকেন্ড নয়, দেড় ঘণ্টা কম্পন

আর এই ভূমিকম্পে আশ্চর্যের বিষয় হল, কয়েক সেকেন্ড ন, বা কয়েক মিনিটও নয়, মঙ্গলে ভূমিকম্প হয় কয়েক ঘণ্টা ধরে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটি হয়েছিল দেড় ঘণ্টা ধরে। এর আগে ২৫ অগাস্ট যে দুটি ভূমিকম্প হয়েছিল, সেগুলি অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তবে আবার পৃথিবীর মতো কয়েক সেকেন্ডও নয়। বেশ কয়েক মিনিট ধরে স্থায়ী হয়েছিল মঙ্গলের দুটি ভূমিকম্প। এর আগে ২০১৯ সালেও নাসার মঙ্গলযান ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ করছিল।

মঙ্গলে কেন এমন বড় বড় ভূমিকম্প, গবেষণা

মঙ্গলে কেন এমন বড় বড় ভূমিকম্প, গবেষণা

নাসার ইনসাইট ল্যান্ডারের প্রধান বিজ্ঞানী ব্রুস ব্যানার্ড জানান, মঙ্গলে ছোট ভূমিকম্পের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম। ফলে সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে এখানে কমসংখ্যক ভূমিকম্প হয়। তিনি মনে করেন, মঙ্গলে এমন বড় বড় ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা জরুরি। কেননা এই ধরনের বড় ভূমিকম্প মঙ্গল বা লালগ্রহের রহস্য উন্মোচন করতে পারে। এই ভূমিকম্প থেকে বিজ্ঞানীরা মঙ্গর গ্রহের কোষের গঠন সম্পর্কে জানতে পারেন।

৭০০-র বেশি ভূমিকম্প শনাক্ত করেছে ইনসাইট ল্যান্ডার

৭০০-র বেশি ভূমিকম্প শনাক্ত করেছে ইনসাইট ল্যান্ডার

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই ভূমিকম্প মঙ্গল গ্রহ নিয়ে অনেক প্রশ্নের সমাধান সূত্র দিতে পারে। আবার প্রাণের সন্ধানও মিলতে পারে এই ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা থেকে। নাসার এই ইনসাইট ল্যান্ডার এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৭০০-র বেশি ভূমিকম্প শনাক্ত করেছে। তা মঙ্গলের গঠন সম্পর্কে অনেক সূত্র দিতে পারে।

ভূমিকম্পের উৎসস্থল অনুসন্ধানে ইনসাইট ল্যান্ডার

ভূমিকম্পের উৎসস্থল অনুসন্ধানে ইনসাইট ল্যান্ডার

বিজ্ঞানীদের ধারণা, মঙ্গলের ভূমি-স্তর পৃথিবীর মতো নয়। পৃথিবীর তুলনায় ভূ-স্তর অনেক পাতলা। এবং ভূ-স্তর শুষ্ক এবং ভঙ্গুর। সেই কারণেই এখানকার ভূমিকম্প দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয়। নাসার বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের উৎস খুঁজতেও গবেষণা শুরু করেছে। নাসার ইনসাইট ল্যান্ডার থেকে প্রায় ১৬০৯ কিলোমিটার দূরে ছিল ভূমিকম্পের উৎসস্থল।

মঙ্গল সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ তথ্য সংগ্রহে নাসা

মঙ্গল সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ তথ্য সংগ্রহে নাসা

নাসার মার্স এক্সপ্লোরেশন প্রোগ্রাম অনুসারে, এই মিশনের কাজ হল মঙ্গল সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ তথ্য সংগ্রহ করার জন্য সিসমিক ওয়েভ অধ্যয়ন করা। এই তরঙ্গগুলি মঙ্গলের অভ্যন্তরে ভ্রমণ করে এবং বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় পরিবর্তিত হতে থাকে। এর সাহায্যে বিজ্ঞানীরা ভিতরে আসলে কী আছে তা খুঁজে বের করতে সক্ষম হন। বিজ্ঞানীরা অগাস্টে ভূমিকম্প অধ্যয়ন করে গ্রহ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছেন।

মঙ্গল গ্রহে শেষ নিঃশ্বাস ফেলতে পারে ল্যান্ডার

মঙ্গল গ্রহে শেষ নিঃশ্বাস ফেলতে পারে ল্যান্ডার

মজার ব্যাপার হল, আগের ভূমিকম্পগুলো ছিল ভিন্ন। একটির কম্পন ধীর এবং কম ফ্রিকোয়েন্সি ছিল যখন অন্যগুলির কম এবং উচ্চতর ফ্রিকোয়েন্সি ছিল। এই ধরনের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ বিজ্ঞানীদের মঙ্গল সম্পর্কে যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করতে সাহায্য করবে। নাসার ল্যান্ডার ইনসাইট মঙ্গল গ্রহে শেষ নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছে। তা অকালে ভেঙে যেতেও পারে। তার আগে বড় সাফল্য দিয়ে গেল ইনসাইট ল্যান্ডার।

মিশনটি ২০২২ সালের আগে শেষ হতে পারে

মিশনটি ২০২২ সালের আগে শেষ হতে পারে

কিছুদিন আগে পর্যন্ত ইনসাইট ল্যান্ডার জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে দুলছিল। প্রকৃতপক্ষে, এটিতে ধুলো জমেছিল, যার কারণে এর সৌর প্যানেলগুলি খুব বেশি শক্তি তৈরি করতে সক্ষম ছিল না। এই সময়ে মঙ্গলও সূর্য থেকে দূরে, যার কারণে এক সময় বিশ্বাস করা হয়েছিল যে মিশনটি ২০২২ সালের আগে শেষ হতে পারে।

অজানাকে জানাও যেতে পারে ভূমিকম্পের গবেষণায়

অজানাকে জানাও যেতে পারে ভূমিকম্পের গবেষণায়

যাইহোক, বিজ্ঞানীরা সৌর প্যানেল থেকে তার রোবটিক বাহু সামান্য সরিয়ে ধুলো অপসারণ করেন এবং শক্তির স্থিতিশীলতা পরিলক্ষিত হয়। সর্বোপরি, ল্যান্ডার এক মাসে তিনটি ভূমিকম্পের সন্ধান পেয়ে তার মিশনে একটি বড় সাফল্য দিয়েছে। এখন এই ভূমিকম্প থেকে অনেক গবেষণা হতে পারে। এবং অনেক অজানাকে জানাও যেতে পারে।

খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+