ফের ক্ষমতায় এসেই মোদী বিমসটেককে ডাকলেন; ভালো উদ্যোগ, কিন্তু স্রেফ প্রতীকী নয়তো?

গত ৩০ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ নিলেন নরেন্দ্র মোদী। এবং ২০১৪ সালের মতো এবারেও তিনি তাঁর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত করলেন একগুচ্ছের রাষ্ট্রনায়ককে।

গত ৩০ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ নিলেন নরেন্দ্র মোদী। এবং ২০১৪ সালের মতো এবারেও তিনি তাঁর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত করলেন একগুচ্ছের রাষ্ট্রনায়ককে। পাঁচ বছর আগে মোদীর আমন্ত্রণপত্রে নাম ছিল পাকিস্তান-সহ সার্কের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা বা তাঁদের প্রতিনিধিদের। এবারে সেই জায়গা নিল বিমসটেক অর্থাৎ পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে গঠিত আরেকটি গোষ্ঠী যার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ারও বেশ কিছু দেশ রয়েছে। বিমসটেককে আমন্ত্রণ করার কারণ মুখ্যত দু'টি: এক, পাকিস্তানকে অবজ্ঞা করার সরাসরি বার্তা দেওয়া এবং দুই, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে ডেকে চিনের প্রতি প্রচ্ছন্ন বার্তা দেওয়া।

ফের ক্ষমতায় এসেই মোদী বিমসটেককে ডাকলেন; কেন?

যদি প্রতীকী গুরুত্বের নিরিখে ধরা হয়, তাহলে মোদীর দ্বিতীয় সরকারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। মোদী প্রথম থেকেই বিদেশনীতিকে তাঁর প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং তাঁর প্রথম মেয়াদে বিদেশনীতিকে জনসাধারণের আঙিনায় নিয়ে আসতেও তিনি দ্বিধা করেননি। এর কারণ বুঝতে অসুবিধে হয় না। মোদীর শাসনকালের একটি মুখ্য নিদর্শন হল জাতীয়তাবাদ এবং এই জাতীয়তাবাদী জিগিরকে আগাগোড়া জিইয়ে রাখতে বিদেশনীতির চেয়ে ভালো অস্ত্র কিছু হয় না।

শুধু প্রতীকী দিয়ে হবে না, চাই আসল কার্যসাধনও

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শুধুমাত্র প্রতীকী উদ্যোগের মাধ্যমে কি আসল কার্যসাধন হবে? মোদীর আমলে নয়াদিল্লি যে বিদেশনীতিতে অনেক উপেক্ষিত ক্ষেত্রে নতুন করে মনোনিবেশ করেছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। আগেরবার ক্ষমতায় এসে যেভাবে তিনি ভুটান ওর নেপালের মতো ক্ষুদ্র প্রতিবেশীদের অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন, তাতে বাহবা দিয়েছিলেন অনেক পর্যবেক্ষকই। কিন্তু পরে, ওই দু'টি দেশকে ঘিরে ভারতের বিদেশনীতির কিছু চ্যালেঞ্জও চোখে পড়েছিল। ২০১৫ সালে নেপালের ভূমিকম্প-পরবর্তী অবস্থায় ভারতের অতিসক্রিয়তা বা কাঠমান্ডুর শাসকদের নতুন সংবিধান নিয়ে নয়াদিল্লির খবরদারি করার অভিযোগ এবং ভারত-নেপাল সীমান্তে অবরোধের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় প্রতিবেশী দেশটি। ২০১৭ সালে ভুটানের ডোকলামে চিনের সঙ্গে প্রায় সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পরে ভারত। তাতে পুরোনো মিত্র থিম্পুর উদ্বেগের কারণ হয় ভারতের নীতি। পাকিস্তানের সঙ্গে শুরুতে ভাব-ভালোবাসা দেখালেও তা পরে বুমেরাং হয়ে ফেরে আমরা তাও দেখেছি। অর্থাৎ, মোদীর আগেরবারের মেয়াদে বিদেশনীতিতে বেশ কিছু সাধু উদ্যোগ নেওয়া হলেও আখেরে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি মোদী সরকার।

মোদী চিনকে বার্তা দেওয়ার ঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন, কিন্তু আমলারা কোমর বেঁধেছেন তো?

এবারে অবশ্য মোদীর মূল লক্ষ্য অর্থনৈতিক এবং তার মাধ্যমে কৌশলগত লাভ অর্জন। বিমসটেক-এর বাকি সদস্যদের সঙ্গে সখ্য বাড়ানোর প্রধান কারণ হচ্ছে মোদীর 'এক্ট ইস্ট' নীতিকে উৎসাহ দেওয়া এবং ওই দেশগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করে পরোক্ষে চিনকে বার্তা দেওয়া। কারণ চিন ইতিমধ্যেই বিমসটেক-এর বেশ কিছু দেশে নিজের প্রভাব বাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়াতে ভারতের পয়লা নম্বর চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তাদের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন ছোট প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে, যদিও ভারত এখনও পর্যন্ত এই উদ্যোগে সামিল হয়নি।

শুল্ক, বাণিজ্য ক্ষেত্রে দেওয়া চাই ছাড়

কিন্তু মোদীর রাজনৈতিক উদ্যোগ ছাড়াও এই প্রতিবেশীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিকে ফলপ্রসূ করতে হলে অন্যান্য ক্ষেত্রে আরও কর্মঠ হতে হবে নয়াদিল্লিকে। আমলাতন্ত্রকে আরও তেজী এবং কর্মঠ করতে হবে।না প্রশাসনিক স্তরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমন্বয়সাধনে আরও চটপটে হতে না পারলে চিনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছুড়ে দেওয়ার কাজে ভারত পিছিয়েই থাকবে। একই সঙ্গে, শুল্ক ক্ষেত্রে বা আঞ্চলিক বাণিজ্য বিষয়ে ভারতকে আরও ছাড় দিতে হবে, যা অতীতে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী আই কে গুজরাল করেছিলেন। ছোট দেশগুলিকে আগে বাড়িয়ে ছাড় না দিলে তাদেরকে চিনের দিকে হেলে পড়া থেকে আটকানো সম্ভব হবে না ভারতের পক্ষে। পাশাপাশি, চিনের অতিসক্রিয়তা নিয়ে কাঁদুনি গেয়েও বিশেষ লাভ হবে না ভারতের। এখন প্রয়োজন লম্বা রাস্তা পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি। মোদী প্রথম পদক্ষেপটি নিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে চলার দায়িত্ব তাঁর সরকারেরই।

সেই কাজটি হচ্ছে তো?

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+