মীমাংসা প্রাচীনতম রহস্যের, মেক্সিকোর কাছে সমুদ্রের নিচে পাওয়া গেল বিশালাকার পিরামিড

গুগল ম্যাপস-এ মেক্সিকোর কাছে সমুদ্রে রহস্যময় 'নিমজ্জিত পিরামিড'-এর সন্ধান মিলল। কন্সপিরেসি থিওরিস্টদের দাবি এটিই প্লেটোর আটলান্টিস।

প্রথম এই সভ্যতার কথা জানা গিয়েছিল গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর লেখায়। সেই থেকেই মানুষ হন্যে হয়ে খুঁজে বেরিয়েছে সেই সভ্যতার নিদর্শন। বিশ্বের প্রাচীনতম এই রহস্যের নাম আটলান্টিস। অন্তত প্লেটো এই নামই বলেছিলেন। অবশেষে মেক্সিকোর পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে সম্ভবত মিলল তার ধ্বংসাবশেষ।

মীমাংসা পৃথিবীর প্রাচীনতম রহস্যের, মেক্সিকোর কাছে সমুদ্রের নিচে পাওয়া গেল বিশালাকার পিরামিড

প্লেটো তার 'আইডিয়াল ওয়ার্ল্ড'-এর ধারণা দেওয়ার সময় আটলান্টিসকে এক আদর্শ সভ্যতা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর লেখা থেকে জানা গিয়েছিল অত্যন্ত উন্নত সভ্যতা ছিল এটি। উন্নত নিকাশি, উন্নত সড়ক, সবচেয়ে বড় কথা এর সমাজ ছিল আদর্শ মানব সমাজ। কিন্তু হঠাত এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হারিয়ে যায় সেই সভ্যতা।

একুশ শতকে উন্নত প্রযুক্তিতে প্রত্নতাত্ত্বিক খোঁজ চালাতে মাটি খোড়াখুড়ি বা সমুদ্রের নিচে ডুব লাগানোর বিশেষ দরকার পড়ে না। হাতের কাছেই আছে গুগল আর্থের উপগ্রহ চিত্র। তাই ঘরে বসেই গুগল আর্থের মারফত বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালান প্রত্নতাত্ত্বিক থেকে ভিনগ্রহী প্রাণীদের উপস্থিতি প্রমাণে নিমগ্ন কন্সপিরেসি থিওরিস্টরা। আর এভাবেই আটলান্টিসের খোঁজ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন আর্জেন্টাইন কনস্পিরেসি থিওরিস্ট মার্সেলো ইগাজুস্তা।

মেক্সিকোর ঠিক পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে প্রায় ১১ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল স্থাপত্যের সন্ধান পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইগাজুস্তাএর একটি ভিডিও-ও তিনি ইউটিউবে পোস্ট করেছেন। এরপর থেকেই বিশ্ব জুড়ে কন্সপিরেসি থিওরিস্টরা সেই স্থাপত্য একটি ডুবে যাওয়া সভ্যতা, নাকি কোনও ইউএফও নাকি কোনও ভিনগ্রহী প্রাণীদের গোপন আস্তানা - এনিয়ে চর্চা শুরু করেছিলেন। শেষ পর্।ন্ত তাদের দাবি স্থাপত্যটি একটি বিশালাকার পিরামিড। তাদের বক্তব্য সত্যি হলে এই ৮.৫ মাইলের বিশাল পিরামিডটিই হবে পৃথিবীর বুকে স্থাপিত সবচেয়ে বড় পিরামিড।

প্লেটোর লেখা যুগ যুগ ধরে মানুষের কৌতুহলকে উসকে দিয়েছে। সেই হারানো সভ্যতাকে খুঁজে পেতে বহু অভিযান হয়েছে। অনেকবারই দাবি উঠেছে আটলান্টিসের খোঁজ পাওয়ার। অনেক প্রত্নতত্ত্ববিদ ভিন্ন ভিন্ন এলাকার প্রাচীন সভ্যতা আবিষ্কার করে দাবি করেছেন প্লেটো এই সভ্যতাকেই আটলান্টিস বলে চিহ্নিত করেছিলেন। সেসব দাবির পেছনে অনেক অনেক যুক্তি থাকলেও কোনটিই চুড়ান্ত বলে মেনে নেয়নি মানুষ। খোঁজ জারি রয়েছে একুশ শতকেও। আবার অনেকেই দাবি করেন আটলান্টিস সভ্যতার পুরোটাই প্লেটোর কল্পনা-প্রসূত। তবে তারাও মানেন কল্পনার জন্যও প্লেটোর সামনে হয়ত একটি উন্নততর সভ্যতা ছিল।

মেক্সিকোর যে এলাকায় পিরামিডটি মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে তার আশপাশের এলাকায় কিন্তু পিরামিডের অভাব নেই। আমেরিকার সবচেয়ে বড় দুই সভ্যতা মায়া ও আজটেকদের মধ্যেও পিরামিড তৈরি প্রচলন ছিল। মনে করা হয় প্রাচীন কোনও উন্নত সভ্যতার থেকেই মানব সমাজে পিরামিড গঠনের শুরু হয়েছিল। তবে গ্রিস থেকে এলাকাটির দূরত্ব বিচার করে অনেকেই একে আটলান্টিস বলে মানতে চাইছেন না। তাঁদের মতে ভাইকিংদের আগে আমেরিকায় পাই পড়েনি ইউরোপিয়দের। কাজেই প্লেটোর পক্ষে এতদূরের সব্যতার কথা জানা সম্ভব ছিল না।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+