বেজিংয়ের সেতুতে চিনা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ব্যানার! অনলাইনে বিক্ষোভকারীকে শ্রদ্ধা চিনের নাগরিকদের
রহস্যজনক চিনের প্রতিবাদকারীকে অনলাইনে শ্রদ্ধা চিনা নাগরিকদের
চিনে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কোনও আইন নেই। তাহলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হবে। তার জায়গায় চিনের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, তাঁকে ক্ষমতা চ্যুত করার ডাক দিয়ে ব্যানার! শুনতে অবাক লাগলেও এমনি ঘটনা ঘটেছে চিনের বেজিং। ব্যানার প্রকাশ্যে আসতেই চিনা প্রশাসনের যে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিক্ষোভকারী চিনের হাইডিয়াং জেলার সিটং সেতুতে দুটি ব্যানার টাঙিয়েছে। সেখানে একটিতে চিনের কঠোর শূন্য কোভিড নীতির অবস্থান চাওয়া হয়েছে। অন্য একটি ব্যানারে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো নীরব অবস্থান নিলেও চিনের সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও ভিডিওগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে শুরু করেছে। এই ছবি কমিউনিস্ট পার্টির সম্মলনের ঠিক আগে আগেই প্রকাশ্যে আসে। কমিউনিস্ট কমিটির এই সম্মেলনে তৃতীয় বারের জন্য শি জিনপিং চিনের প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন। এরপর চিনে আরও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠবেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
শুধু ব্যানার লাগিয়ে প্রতিবাদকারী শান্ত থাকেনি। তিনি টায়ার পুড়িয়ে লাউড স্পিকারে স্লোগান দিতে থাকেন।চিনের পুলিশ ইতিমধ্যে বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে। একটি ছবিতে দেখা গিয়েছে বিক্ষোভকারী হলুদ টুপি ও কমলা রঙের একটি পোশাক পরে রয়েছেন। চিনের পুলিশ তাঁকে ঘিরে রেখেছেন। চিনে মূলত ইউচ্যাট ব্যবহার করা হয়। সেখানে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় খবরটি। চিনের নাগরিকদের একাংশ তাঁকে নায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকে আবার নতুন ট্যাঙ্ক ম্যান বলে উল্লেখ করেছেন। ট্যাঙ্ক ম্যান চিনের এক নাম না জানা ব্যক্তি। তিনি ১৯৮৯ সালে তিয়ানানমেন বিক্ষোভের সময় ট্যাঙ্কের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, চিনের উত্তরে হেইলংজিয়াংয়ের একটি গ্রামের বাসিন্দা ওই ব্যক্তি। তিনি একজন পদার্থবিদ বলে গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় চিনা সরকারের বিরোধিতা করে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি চিনের সমস্ত কোভিড পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো ভেঙে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি রবিবার চিন জুড়ে ধর্মঘটের আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্য সূত্রে জানা গিয়েছে, টুইটারে ওই ব্যক্তির দুটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেখানে অনেকেই তাঁর প্রশংসা করেছে। বর্তমানে চিনা সরকার ওই দুটি টুইটার অ্যাকাউন্ট নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
শুক্রবারের সকালে এই ঘটনা হলেও চিনের সংবাদমাধ্যমের তরফে এই ঘটনার কোনও বিবরণ পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার কোনও উল্লেখ চিনের কোনও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। তবে শুক্রবার বিকেলের দিকে নিজের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো একটি প্রতিবেদনে জানায়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের কমিউনিস্ট পার্টির ওপর ভরসা আছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওপর ভরসা আছে।












Click it and Unblock the Notifications