সুচি-র দেশে শান্তির জমায়েতে বোমাবর্ষণ, শিশু সহ শতাধিক নিরিহকে হত্যা করল মায়ানমার সেনা
সুকির দেশে ফের গণহত্যা। সেনা শাসনের প্রতিবাদে জমায়েত হওয়া শান্তির সমাবেশে বোমাবর্ষণ মায়ানমার সেনার। শিশু মহিলা সহ ১০০ জনকে নির্মম ভাবে হত্যা। মঙ্গলবারের হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে।
সুকি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিদ্রোহী দমনে মরিয়া হয়ে উঠেছিল সরকার। শান্তির দূত হিসেবে যে সুকিকে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছিল। সেই সুকির শাসন কালেই প্রায় ৩০০০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরা সকলেই সাধারণ নাগরিক ছিলেন।

সেনা শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে দেশের একাংশের মানুষ। সেই বিদ্রোহীরাই জমায়েত করেছিলেন মায়ানমারের সাগাইন প্রদেশে পাজিগাই গ্রামে। গণতন্ত্র স্থাপনের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন তাঁরা। সেনা শাসন নয় গণতন্ত্র চাই দেশে এমনই দাবি নিয়ে জমায়েত করেছিলেন শতাধিক মানুষ। সেখানে শিশু থেকে মহিলা সকলেই ছিলেন। সকাল ৮ টা নাগাদ এই জমায়েছে হঠাৎ করেই মায়ানমার সেনা আকাশ থেকে বোমা বর্ষণ করে।

দেশের সবথেকে বড় শহরের থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরে হচ্ছিল জমায়েত। সেখানে নির্মম ভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা করে মায়ানমার সেনা। শুধু বোমা বর্ষণ করেই থামেনি মায়ানমারের সেনা সরকার। এই ঘটনার আধঘণ্টার মধ্যে সেখানে হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষণ করা শুরু হয়। প্রাণে মেরে ফেলা হতে পারে এই আশঙ্কায় প্রত্যক্ষদর্শীরা কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না।

অনেকে অবশ্য সেই ঘটনার কথা বলেছেন। তাঁরা বলেছেন জমায়েত শুরু হওয়ার কিছু পরেই হঠাৎ করে বোমারু বিমান এসে বোমা ফেলতে শুরু করে। আকাশ থেকে হামলা তাই কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বোমা বিস্ফোরণে ছারখার হয়ে যায় দেহ। শতাধিক মানুষ ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থাও খুব একটা সুবিধাজনক নয়।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই সেনা শাসন কায়েম হয়েছে মায়ানমারে। গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সুকির কাছ থেকে শাসন ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার পর সেনাবাহিনীই দেশ চালাচ্ছে। তার পর থেকে ৩০০০ বেশি মানুষকে হত্যা করেছে সেনা বািহনী। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মায়ানমারে। সুকির বিরুদ্ধে গনহত্যার অভিযোগ উঠেছিল। তারপরেই তাঁর নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেওয়া হয়।












Click it and Unblock the Notifications