‘মোদী একজন বুদ্ধিমান মানুষ ও দুর্দান্ত বন্ধু’, শুল্ক আলোচনার মাঝেই মোদী প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আচমকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রশংসায় ভরালেন। ট্রাম্প তাকে "অত্যন্ত বুদ্ধিমান মানুষ" এবং "একজন দুর্দান্ত বন্ধু" বলে উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে ভারত ও আমেরিকা শুল্ক নীতির আলোচনার মধ্যে রয়েছে, আর সেই সময়েই ট্রাম্পের এই ভূয়সী প্রশংসা চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নতুন করে।
শুক্রবার নিউ জার্সির আইনজীবী আলিনা হাব্বার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতার সময় ট্রাম্প বলেন, "প্রধানমন্ত্রী মোদী সম্প্রতি এখানে এসেছিলেন, এবং আমরা সবসময়ই খুব ভালো বন্ধু। তাঁর মতন বুদ্ধিমান মানুষ খুব কমই হয়"।

ভারতের উচ্চ শুল্ক নীতি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, "ভারত বিশ্বের সর্বোচ্চ শুল্ক আরোপকারী দেশগুলির মধ্যে একটি। তবে তারা খুবই বুদ্ধিমান"। তিনি আরও যোগ করে বলেন, "আমি মনে করি ভারত এবং আমাদের দেশ ভবিষ্যতেও খুব ভালোভাবে কাজ করবে"।
গত ফেব্রুয়ারিতে, হোয়াইট হাউসে মোদীর সাথে ট্রাম্পের সাক্ষাৎ হয়। যেখানে দুজনের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্কের প্রকাশ ঘটে। ট্রাম্প মোদীকে "একজন কঠিন আলোচক" এবং "বিশেষ ব্যক্তি" বলে অভিহিত করেন। একই সাথে শুল্ক নীতি, অভিবাসন নীতি নিয়েও আলোচনা হয়।
ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ২ এপ্রিল থেকে আমদানিকৃত যানবাহনের উপর ২৫% শুল্ক বসানো হবে। এর ফলে বিদেশে তৈরি আমেরিকান ব্র্যান্ডের গাড়িসহ প্রায় অর্ধেক যানবাহন এর দাম বাড়তে পারে।
ভারতও ২৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আমেরিকান আমদানির শুল্ক কমানোর চেষ্টা করছে এবং ৬৬ বিলিয়ন ডলারের ভারতীয় রপ্তানি রক্ষায় কাজ করছে। তবে ট্রাম্প অতীতে ভারতের উচ্চ শুল্ক নীতির সমালোচনা করেছিলেন, বিশেষ করে ১০০%-এর বেশি গাড়ি আমদানির শুল্ক নিয়ে। তবে তা ধীরে ধীরে কমিয়েছে ভারত।
সম্প্রতি, এআই গবেষক লেক্স ফ্রিডম্যানের সাথে তিন ঘণ্টার এক পডকাস্টে, মোদীও ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। ২০১৯ সালের 'হাউডি মোদী' অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণ করে মোদী বলেন, "ট্রাম্প তখন বিনা দ্বিধায় আমার সঙ্গে স্টেডিয়ামে ঘুরতে রাজি হয়েছিলেন"। মোদী আরও বলেন, "তার জীবন ছিল তার জাতির জন্য। 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির প্রতি তার প্রতিশ্রুতি আমার 'নেশন ফার্স্ট' ভাবনার মতোই"।
২ এপ্রিলের শুল্ক কার্যকর হওয়ার সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছে, ভারত ও আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত আলোচনায় ব্যস্ত। ট্রাম্প আশাবাদী যে এই আলোচনা একটি ইতিবাচক ফলাফলে পৌঁছাবে, যা ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।












Click it and Unblock the Notifications