ট্রানজিট বাণিজ্যে বাধার সৃষ্টি করছে পাকিস্তান, এসসিও সম্মেলনে জোর সওয়াল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর
ট্রানজিট বাণিজ্যে বাধার সৃষ্টির জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন নরেন্দ্র মোদী
শুক্রবার উজবেকিস্তানের সমরকন্দে সংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশের শীর্ষ সম্মেলনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করোনা মহামারীর জেরে বিশ্ব জুড়ে খাদ্য সঙ্কটের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেছেন, আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার স্থলপথকে ট্রানজিট বাণিজ্য অ্যাক্সেস দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মনে করছেন, একে অপরকে সম্পূর্ণ ট্রানজিট প্রদানের মাধ্যমেই দুই দেশের আঞ্চলিক উন্নতি সম্ভব। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যিক উন্নতি হবে।

এসসিও-এর শীর্ষ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার নৈশকালীন বৈঠকে যোগ দেননি নরেন্দ্র মোদী। তিনি শুক্রবার উজবেকিস্তানের সমরকন্দে সংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন। সেখানে পাক প্রধানমন্ত্রী বা চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কোনও বাক্য বিনিময় করেননি। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে বার বার পাকিস্তান ও চিনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। শুক্রবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি করোনা মহামারী ও ইউক্রেনে যুদ্ধের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি মন্তব্য করেন, এর জেরে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সঙ্কটের সম্ভাবনা দেখতে পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি তিনি ইউরেশীয় অঞ্চলে বৃহত্তম সহযোগিতার আহ্বান করেছেন। পরবর্তী এসসিও সম্মেলনে সভাপতিত্ব গ্রহণ করতে ভারত ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
এসসিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সৌজন্যতার হাসি বা করমর্দন করতে দেখা যায়নি। পরের বছরের সম্মেলনে সভাপতিত্ব গ্রহণ করার জন্য চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতে শুভেচ্ছা জানান। ভারত চিনকে এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করার জন্য সর্বরকমভাবে সাহায্য করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দেন।
ভারতের বিদেশ সচিব বিনয় কোয়াত্রা বলেন, পাক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে ছিল আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বন্যা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এসসিও সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বার বার ট্রানজিট অধিকারের পক্ষে সওয়াল করেন। মধ্য এশিয়া ও রাশিয়ার স্থলপথে পাকিস্তানের বিকল্প হিসেবে ভারত ইরানের চাবাহার বন্দর তৈরি করেছে। ভারত স্থলপথে আফগানিস্তানকে ৫০,০০০ মেট্রিকটন চাল পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কিন্তু পাকিস্তান ট্রানজিট অধিকার না দেওয়ার জন্য ভারত কয়েক মাস ধরে চেষ্টা করেও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারেনি। পাকিস্তান শেষ ১০ হাজার মেট্রিক টনের গম পাঠানোর অনুমতি দেয়নি।
এসসিও সম্মেলনে মধ্য এশিয়ার চারটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ ভারত, চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান অংশগ্রহণ করেছে। ইরানকে এসসিও-এর পূর্ণ সদস্যের দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসসিও অন্যান্য সদস্যপদ প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছে বেলারুশ রয়েছে। তবে এসসিও সদস্যের জন্য পশ্চিমি দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।












Click it and Unblock the Notifications