Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে হিন্দু মন্দিরে হামলা উন্মত্ত জনতার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ভগবানের মূর্তি

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে হিন্দু মন্দিরে হামলা উন্মত্ত জনতার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ভগবানের মূর্তি

বারংবার হিন্দু মন্দিরের ওপর হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানে। সম্প্রতি ফের এই একই ধরনের ঘটনার সাক্ষী থাকল পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ। একদল উন্মত্ত মুসলিম জনতা পাঞ্জাবের হিন্দু মন্দিরে হামলা চালায়, মন্দিরের একাংশ পুড়িয়ে দেয় এবং মন্দিরের ভেতরে থাকা মূর্তির ক্ষতি করে। উন্মত্ত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে যখন ব্যর্থ হয় পুলিশ তখন পাকিস্তান রেঞ্জার্সদের ডাকা হয় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য।

মন্দির হামলার পেছনের কারণ

মন্দির হামলার পেছনের কারণ

পুলিশ জানিয়েছে যে বুধবার লাহোর থেকে ৫৯০ কিমি দূরে রহিম ইয়ার খান জেলার ভোঙ্গে শহরে এক হিন্দু মন্দিরের ওপর হামলা চালায় উন্মত্ত জনতা। পুলিশ জানিয়েছে, মুসলিম মাদ্রাসাকে অপমান করার প্রতিশোধ হিসাবে এই কাণ্ড ঘটায় মুসলিমরা। প্রসঙ্গত, গত এক দশক যাবৎ ভোঙ্গে মুসলিম ও হিন্দুরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিলেন। অভিযোগ ওঠে, গত সপ্তাহে ওই এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসার লাইব্রেরিতে এক ৮ বছরের হিন্দু শিশুর প্রস্রাব করাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা-অশান্তির সৃষ্টি হয়।

 প্রশাসনকে হস্তক্ষেপের আবেদন

প্রশাসনকে হস্তক্ষেপের আবেদন

বুধবার পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন তেহরিক-ই-ইনসাফের সংসদ সদস্য ডঃ রমেশ কুমার ভাঙ্কওয়ানি মন্দির হামলা ভিডিও তাঁর টুইটারে পোস্ট করেন এবং এই ভাঙচুর ও মন্দির পোড়ানো বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীকে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসার জন্য বলেন। একগুচ্ছ টুই পোস্ট করে তিনি লেখেন, '‌পাঞ্জাবের রহিমইয়ার খান জেলার ভোঙ্গ শহরে হিন্দু মন্দিরের ওপর হামলা। মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতি ওই এলাকায় অশান্ত হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় পুলিশের উদাসীনতা খুব লজ্জাজনক। মুখ্য বিচারপতিকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য বলছি।'‌ তিনি আরও বলেন, '‌ভোঙ্গের হিন্দু মন্দিরে যাঁরা হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করুক প্রশাসন। উচ্চ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হোক। বর্তমানে পরিস্থিতি খুবই জটিল হয়ে রয়েছে। মুখ্য বিচারপতিকে দয়া করে পদক্ষেপ করার জন্য বলা হচ্ছে। আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির সময়ের প্রয়োজন।'‌

 পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে

রহিম ইয়ার খানের ডিপিও আসাদ সরফরাজ জানিয়েছেন যে আইন রক্ষাকারীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এনেছে এবং জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে সক্ষম হয়েছে। রেঞ্জার্সদের ডাকা হয়েছে এবং হিন্দু মন্দিরের চারপাশে মোতায়েন রয়েছে তাঁরা। ডিপিও আরও জানিয়েছেন যে ওই এলাকায় ১০০টি হিন্দু পরিবারের বাস এবং সেখানেও পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য। তিনি এও জানান যে এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। সরফরাজ বলেন, '‌আমাদের প্রথম অগ্রাধিকরা আইন শৃঙ্খলা এলাকায় ফিরিয়ে আনা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা প্রদান করা।'‌

গ্রেফতার করা হয় নাবালককে

গ্রেফতার করা হয় নাবালককে

অন্য এক পুলিশ কর্মী জানিয়েছেন যে খুব বাজেভাবে ক্ষতি হয়েছে মন্দিরের। তিনি বলেন, '‌হামলাকারীরা লাঠি, পাথর, ইঁট নিয়ে হামলা চালায়। ধর্মীয় স্লোগান দিতে দিতে তারা ভগবানের মূর্তিগুলিকে গুঁড়িয়ে দেয়।'‌ মন্দিরের একাংশ পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। ওই পুলিশ কর্মী জানান, সংখ্যালঘু হিন্দু বালক, যে ভঙ্গ শরিফের মাদ্রাসার লাইব্রেরির অপমান করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে তাকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ব্লাসফেমি আইনে মামলা করা হয় কিন্তু পরবর্তীতে নাবালক হওয়ার কারণে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়ে তাকে।

 উস্কানিমূলক পোস্ট

উস্কানিমূলক পোস্ট

জানা গিয়েছে, বুধবার একটি সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টের মাধ্যমে উস্কানি পেযে ভোঙ্গের মানুষ অপমানের প্রতিশোধ নিতে মন্দিরের বাইরে জড়ো হতে শুরু করে এবং মন্দিরের ওপর হামলা চালায়। ডিপিও সরফরাজ বলেন, '‌মন্দিরের হামলার পেছনে যারা উস্কানি দিয়েছিল তাদের আমরা গ্রেফতার করেছি।'‌

প্রতীকী ছবি

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+