জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক, শীঘ্রই পুতিনের সঙ্গেও, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ইতি টানতেই হবে: ডাভোসে ট্রাম্প
বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলন (ডব্লিউইএফ) চলাকালীন সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে আন্তর্জাতিক কূটনীতির নতুন সূক্ষ্ম সুর শোনা গেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানান, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ও শীঘ্রই রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও আলোচনায় বসবেন। উদ্দেশ্য রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ইতি টানা।
৭৯ বছর বয়সী রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন, "যুদ্ধ শেষ হওয়া উচিত। অনেক প্রাণ গেছে। আমি এখানেই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করেছি, আলোচনা ভালো হয়েছে। আজ কিংবা কাল পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হবে।"

ফেব্রুয়ারি ২০২২ এ শুরু হওয়া রাশিয়া ইউক্রেন সংঘাত টেনে এনেছে অর্থনৈতিক চাপ, মানবিক সঙ্কট ও ভূ রাজনৈতিক মেরুকরণ। তাই ডাভোসের কূটনৈতিক সাইডলাইন আলোচনাই এখন বিশ্ব রাজধানিগুলির নজরে।
গত বছর আগস্টে আলাস্কায় পুতিন ট্রাম্প বৈঠকে দুই পক্ষই 'দারুণ' আলোচনা হয়েছে বলে দাবী করেছিল। সেসময় ভবিষ্যতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকেরও ইঙ্গিত মিলেছিল ট্রাম্প, পুতিন ও জেলেনস্কিকে নিয়ে। তবে সেই উদ্যোগ পরে খানিকটা থেমে যায়, ট্রাম্প মাঝেমধ্যে রুশ পক্ষের সমালোচনাও করেন।
এদিকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, "আলোচনায় বহু অগ্রগতি হয়েছে, এখন মূলত একটি বিষয়েই সমাধান বাকি। উভয় পক্ষ চাইলে সমাধান সম্ভব।" উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার শীঘ্রই মস্কো যাচ্ছেন এক দিনের বৈঠকে। উইটকফের মতে, "একটি ইস্যুতে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাই এটা সমাধানযোগ্য।"
এ সবেরই মাঝে ট্রাম্প আবার ন্যাটোকে নিশানায় আনেন। শীতল যুদ্ধের সময় জন্ম নেওয়া এই মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র এতে খুব একটা লাভবান হয়নি। টানাপোড়েনের ভাষায় তাঁর অভিযোগ অর্থ খরচ করছে ও দায় বহন করছে আমেরিকা, কিন্তু ইউরোপ কৃতজ্ঞ নয়। "আমরা কী পেলাম? টাকা, মৃত্যু আর ধ্বংস ছাড়া? তারা মূল্যায়ন করে না আমরা কী করি," মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ডাভোসের করিডোরে তাই এখন প্রশ্ন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অপ্রত্যাশিত কূটনৈতিক অ্যান্ট্রি কি যুদ্ধ থামানোর পথে সত্যিই এগোচ্ছে, নাকি বিশ্ব রাজনীতির আরেক নতুন পর্ব শুরু হতে চলেছে?












Click it and Unblock the Notifications