মালয়েশীয় বিমান এমএইচ ১৭: কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিমান এমএইচ ১৭
মালয়েশীয় এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৭-২০০ইআর বিমান। মোট ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন বিমানে। এদের মধ্যে ৩ জন শিশু। এছাড়াও ১৫ জন বিমানকর্মী ছিলেন। বিমানটি অ্যামস্টারডাম থেকে কুয়ালালামপুর যাচ্ছিল। স্থানীয় সময় ১২টা ১৫ মিনিটে অ্যামস্টারডাম থেকে রওনা দেয় বিমানটি। কুয়ালালামপুরে পরের দিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে অবতরণের কথা ছিল।
যাত্রা পথ
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ইউক্রেনের বায়ুসেনার একটি বিমানে হামলা করে। ভেঙে পড়ে বিমানটি। এই এলাকা উত্তপ্ত হয়েই ছিল। তবে এমএইচ ১৭ বিমানটি যে পথ ধরে যাচ্ছিল সে পথে বিমানচলাচল নিষিদ্ধ ছিল না বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন। ইউরো কন্ট্রোল (ইউরোপীয় আকাশপথ নিরাপত্তা সংস্থা) জানিয়েছে, ১০,০০০ মিটার উচ্চতা দিয়ে যাচ্ছিল বিমানটি। যদিও ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ নিম্ন উচ্চতায় আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল।
ভেঙে পড়ল বিমানটি
তামাক ওয়েপয়েন্ট থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরেই তাদের সঙ্গে বিমানের যোগাযোগ বিচ্ছিন হয় বলে জানায় ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ। এই বিবৃতিটি জানানো হয়েছে মালয়শিয়া এয়ারলাইন্সের তরফেই। ইউক্রেন-রাশিয়া সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই তামাক ওয়েপয়েন্ট। ইউক্রেন রাশিয়া পশ্চিম সীমান্তের থেকে ৩৩,০০০ ফুট উচ্চতায় থাকার সময় শেষবার যোগাযোগ হয় এমএইচ ১৭-এ সঙ্গে। জ্বলন্ত পিণ্ডের মতো হু হু করে নেমে এসে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে বিমানটি। উদ্ধারকারীরা গিয়ে দেখেন, ভগ্নস্তূপের মধ্যে যাত্রীদের ঝলসে যাওয়া দেহগুলো তখনও সিটবেল্ট দিয়ে আটকানো।
এমএইচ ১৭ ভেঙে পড়ান কারণ
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে রুশপন্থী বিদ্রোহীরাই এই আক্রমণ চালিয়েছে। যদিও এবিষয়ে কোনও প্রমাণ আপাতত মেলেনি। যদিও ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহী নেতা এই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছেন। রাশিয়া, আমেরিকা, ব্রিটেন কেউই ঘটনাটিকে সরাসরি 'নাশকতা' বলে উল্লেখ করেনি। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকও সন্ত্রাসের কথা বলেননি। ইউক্রেনীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিক আন্তন গেরাশচেঙ্কোকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, বিদ্রোহীরা 'বুক মিসাইল সিস্টেম' ব্যবহার করে বিমানটি টেনে নামিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ৭২ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে। এমএইচ ১৭ ইউক্রেনের আকাশে ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। ডনেৎস্ক এলাকার স্নিঝনে শহরে যে এ দিন সকালে বুক-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র দেখা গিয়েছে, এ কথা জানাচ্ছেন প্রত্যক্ষদর্শীরাও।
বিমানযাত্রী
বিমানের কমপক্ষে ১৫৪ জন যাত্রী ডাচ ছিলেন। মালয়শিয়া এয়ারলাইন্সের সিনিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট হাবিব গর্টার এই তথ্য জানিয়েছেন। ১৫ জন বিমান কর্মী-সহ ৪৩ জন মালয়েশীয় ছিলেন। ২৭ জন অস্ট্রেলীয় ও ১২ জন ইন্দোনেশিয়ার যাত্রী ছিলেন। অন্যান্য ৬ যাত্রী ব্রিটেনের, ৪ জন জার্মানির, ৪ জন বেলজিয়ামের , ৩ জন ফিলিপিন্স এবং ১ জন কানাডার বাসিন্দা ছিলেন। এছাড়াও বাকি ৪৭ জন মৃত যাত্রী কোন দেশের ছিলেন তা জানা যায়নি। ভারতীয় যাত্রীরা ওই বিমানে ছিলেন কিনা, তা নিয়েও স্পষ্ট কিছু বলতে পারেননি কর্তৃপক্ষ।












Click it and Unblock the Notifications