বাম মনোভাবাপন্ন পরিবারের মেয়েই হলেন প্রধানমন্ত্রী! অক্সফোর্ডর প্রাক্তনী Liz Truss-কে চিনুন
বাম মনোভাবাপন্ন পরিবারের মেয়েই হলেন প্রধানমন্ত্রী! অক্সফোর্ডর প্রাক্তনী Liz Truss-কে চিনুন
Liz Truss UK PM: ব্রিটেনের রাজনীতিতে আরও এক ইতিহাস! সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হলেন Liz Truss। আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী পদের জন্যে শপথ নেবেন তিনি। Liz Truss- মোট ৮১,৩২৬ টি ভোট পেয়েছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনক ৬০ হাজারের বেশ কিছু ভোট পেয়েছেন। গত দুমাস আগে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন বরিশ জনসন। তাঁর জায়গাতেও প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কাজ করবেন Liz Truss।

কিন্তু কে এই Liz Truss?
লিজ ট্রাসের পুরো নাম মেরি এলিজাবেথ ট্রাস। তাঁর জন্ম ১৯৭৫ সালে ব্রিটেনের অক্সফোর্ডে হয়েছিল। তার বাবা ছিলেন গণিতের অধ্যাপক এবং মা ছিলেন একজন নার্স। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিজ তার বাবা-মাকে বাম মতাদর্শের সমর্থক হিসাবে বারবার জানিয়েছেন। তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হল লিজ ব্রিটনির কনজারভেটিভ মতাদর্শের সমর্থক। লিজ ট্রাসের জীবন নানা ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, লিজের মা 1981-1983 সালে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য থ্যাচার বিরোধী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, পরমাণু সংক্রান্ত বিষয়ে আন্দোলনে সক্রিয় সংগঠনের লিজের মা সদস্য ছিলেন বলেও জানা যায়।

অক্সফোর্ড কলেজ থেকে পড়াশুনা-
ছোট থেকেই পড়াশুনাতে ভালো ছিলেন লিজ। পরবর্তীকালে লিজ ইউকে অক্সফোর্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করেন। দর্শন (দর্শন), রাজনীতি এবং অর্থনীতি নিয়ে তাঁর পড়াশুনা। ফলে দেশ চালাতে গেলে এই তিনটে জিনিসের খুবই প্রয়োজন হয়ে থাকে। তবে কয়েকটি মিছিলে অংশ নিলেও বাম মনোভাবাপন্ন পরিবার থেকে উঠে আসা লিজার বাবা কিংবা মা কেউই কোনও দিন সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন না।

এক নজরে লিজের পরিবার -
অক্সফোর্ডে তাঁর পড়াশুনা শেষ করার পর লিজ ট্রাস একটি সংস্থায় অ্যাকাউটেন্ট হিসাবে কাজ শুরু করেন। সেখানে থাকাকালীন ২০০০ সালে তার সহকর্মী হিউ ও'লিয়ারিকে বিয়ে করেছিলেন। পরবর্তীকালে তাদের দুই সন্তান হয়।

রাজনৈতিক কেরিয়ার-
বিয়ের পরের বছরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। তিনি হেমসওয়ার্থ ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার থেকে কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী হিসেবে তার প্রথম নির্বাচন করেন। যদিও পরবর্তীকালে তাতে পরাজিত হন। 2005 সালেও তিনি ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং সেখান থেকেও তাকে পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু বারবার ধাক্কা খাওয়ার পরে কিছুটা থমকে যান লিজ। কিন্তু বসে যাননি তিনি। ক্রমাগত লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। ২০০৬ সালে গ্রিনিচ থেকে প্রথম জয় পান। তিনি 2006 সালে গ্রিনিচের একজন কাউন্সেলর হন এবং 2008 থেকে তিনি রাইট অফ সেন্টার রিফর্ম থিঙ্ক ট্যাঙ্কের জন্য কাজ শুরু করেন। ২০১০ সালে রাজনীতিতে লিজ একটা জায়গা পান। এবং সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হয়ে কাজ শুরু করেন। 2010 সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর, 2012 সালে তিনি সরকারে শিক্ষামন্ত্রী হন এবং 2014 সালে তাকে পরিবেশ সচিব করা হয়।

ব্রেক্সিট-
এর পরে তিনি ব্রেক্সিটের মুখোমুখি হন লিজা। তৎকালীন পরিস্থিতিতে একেবারে হিরো বরিস জনসন। কিন্তু এর বিরোধ করেছিলেন লিজা। যদিও বিরোধ করলেও হারতে হয়। তবে তিনি একটি নতুন ধারণা নিয়ে ব্রেক্সিট গ্রহণ করেছিলেন এবং সেই সময়ে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে ব্রেক্সিট ভিন্নভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। তবে ২০১৯ সালে বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী হন, সেই সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচিব হিসাবে নিয়োগ করা হয় লিজাকে। ২০২১ সালে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সচিব হিসাবেও কাজ করেছেন। বলে রাখা প্রয়োজন, বরিস জনসন যখন পদত্যাগ করেছিলেন, তখন অনেক মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। সেই তালিকাতে ছিলেন ঋষি সুনকও। কিন্তু Liz Truss পদতগ্যাগ করেননি।












Click it and Unblock the Notifications