ফ্রান্সে নির্বাচনে সংসদে সব থেকে বেশি আসন বামেদের! ফ্রান্সে ত্রিশঙ্কু সংসদে অচলাবস্থা, বিভিন্ন শহরে অশান্তি
ফ্রান্সে হাং পাল্টামেন্ট। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেই বিভিন্ন শহরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানকার বামপন্থী জোট দ্বিতীয় রাউন্ডের গণনার পরে সংসদে সব থেকে বেশি দখল করে। অন্যদিকে, প্রথম রাউন্ডে এগিয়ে থাকা চরম ডানপন্থীরা তৃতীয়স্থানে নেমে গিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর দল দ্বিতীয়স্থান দখল করলেও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অনেক দূরে রয়ে গিয়েছে। ফলে ফ্রান্স এখন হাং পার্লামেন্টের মুখোমুখি। রাজনৈতিক অস্থিরতা বাজার, ফরাসি অর্থনীতি, বিশ্বের কূটনীতি এবং ইউরোপের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

ফ্রান্সের আইনসভায় রয়েছে মোট ৫৭৭ টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২৮৯ টি আসন। কিন্তু কোনও জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছতে পারেনি। এখনও পর্যন্ত বামজোট ১৮০-র আশপাশে আসন পেয়েছে। অন্যদিকে ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থী জোট ১৬০-এর বেশি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আর মেরিন লে পেনের অতি ডান জোট ১৪০ টির বেশি আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ২০২২-এর নির্বাচনে অতি ডান জোট ৮৯ টি আসন পেয়েছিল।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আটাল বলেছেন দেশ এখন নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। তিনি ইতিমধ্যেই পদত্যাগের পরিকল্পনা করেছেন। তবে প্রধান.মন্ত্রী পদে নতুন কেউ নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনিই কাজ চালিয়ে যাবেন। এই মুহূর্তে ম্যাক্রোঁর প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ এখনও তিন বছর বাকি রয়েছে।
এই সপ্তাহে ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ম্যাক্রোঁ যখন ওয়াশিংটন যাবেন, সেই সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী কে হতে পারেন, তা কোনও স্পষ্ট ধারনা এখনও পর্যন্ত নেই। এই পরিস্থিতিতে কোনও দুই জোটের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে সরকারিভাবে ফলাফল আসার সঙ্গে সঙ্গে প্যারিস ও ফ্রান্সের অন্য শহরগুলিতে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ বামপন্থী সমর্থকরা প্রেস দ্য লা রিপাবলিক-এ জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার আনন্দ উদযাপন করতে জড়ো হয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ভিডিওগুলিতে দেখা গিয়েছে, পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুঁড়ে দাঙ্গাকারী দের মোকাবিলা করছে।
ফ্রান্সের বামপন্থীরা ম্যাক্রোঁর পেনশন সংস্কার বাতিল এবং ৬০ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা-সহ বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ফল তারা ভোটের বাক্সে পেয়েছে। অন্যদিকে এবারের নির্বাচন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর কাছে ধাক্কার। তিনিই রাজনৈতিক আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে স্ন্যাপ পোলের ডাক দিয়েছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications