কয়েকটি পদক্ষেপেই রচিত ইতিহাস, কিন্তু প্রশ্ন যুদ্ধের দামামা কি থামবে
১৯৫৩ সালের পর প্রথমবার কোন উত্তর কোরিয় নেতা হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় এলেন কিম জং উন।
ছোট্ট কয়েকটি পদক্ষেপ, তাতেই রচিত হল ইতিহাস। পুরনো ভাঙাচোরা একটি কংক্রিটের স্ল্যাব পেরিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় মাটিতে পা রাখলেন উত্তর কোরিয় প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন। ৬৫ বছর পর প্রথমবার কোনও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার পা পড়ল দক্ষিণ কোরিয়ায়। হাসিমুখে হাত মেলালেন দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট জে-ইন'এর সঙ্গে। ঠাট্টা করলেন 'সকাল সকাল মিসাইল ছুড়ে আর আপনার ঘুমের বারোটা বাজাব না'। তাঁকে আহ্বান জানালেন উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশ করার জন্য। মুনও সে আহ্বান মেনে সীমান্ত অতিক্রম করলেন।

তারপর আবার হাত ধরাধরি করে হাসিমুখে দুই নেতা আবার দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করলেন। লাল গালিচার উপর দিয়ে দক্ষিণ কোরিয় সেনাবাহিনীর বাদ্যযন্ত্রের তালে গার্ড অব অনার নিতে নিতে দুই নেতা এগিয়ে গেলেন ঐতিহাসিক বৈঠকের দিকে। হয়ত সামান্যই কয়েকটি পদক্ষেপ কিন্তু তাৎপর্যের দিক থেকে তা অনেক বড়।
WATCH: North Korean leader Kim Jong Un, crosses the southern border to meet rival Moon Jae-in for the summit on nuke crisis in Panmunjom. #SouthKorea pic.twitter.com/hq58iYQcUz
— ANI (@ANI) April 27, 2018

এই গত বছরই প্রায় প্রতিদিন কিম নিয়ম করে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিতেন আমেরিকা ও তাদের মিত্র শক্তি দক্ষিন কোরিয়াকে। সেসময় গোটা বিশ্ব পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কায় ছিল। এছাড়া দুই কোরিয়ার রক্তাক্ত ইতিহাসও তো রয়েছে। যে যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও জারি রয়েছে।
JUST NOW: North Korean leader Kim Jong Un and South Korean leader Moon Jae-in meet in person for the first time for historic peace summit. pic.twitter.com/yewHUge4Ce
— WikiLeaks (@wikileaks) April 27, 2018

সেই অবস্থআন থেকে এখন কিম সরে এসেছেন। পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ রেখে রাজি হয়েছেন আমেরিকের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসতে। তার আগে আজ শুক্রবার ঐতিহাসিক বৈঠকে বসছেন দুই কোরিয়ের সর্বোচ্চ দুই নেতা। সেই উপলক্ষ্যেই আজ শুক্রবার সকালে দুই কোরিয়ার মাঝের সামরিক সীমারেখা পেরিয়ে দক্ষিণে পৌঁছে যান কিম। তাঁর সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বিদেশ মন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীও আছেন। আছেন তাঁর বোন কিম ইয়ো-জং'ও, যিনি গত শীত অলিম্পিকের সময় উত্তর কোরিয়ার খেলোয়ারদের সঙ্গে এসেছিলেন দক্ষিণের শহর পিয়ংচ্যাং-এ। তিনিই এই ঐতিহাসিক বৈঠকের সলতে পাকানো শুরু করেছিলেন। সফরকারী দলে আরও আছেন ৯০ বছর বয়সি উত্তর কোরিয়ের হেড অব স্টেট কিম ইয়ং-না।

বৈঠক হচ্ছে দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অসামরিক অঞ্চল (ডিমিলিটারাইজড জোন)-এর গ্রাম পানমুনজমে। ১৯৫৩ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দু'দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক করার স্থান হিসেবে এই গ্রামটি নির্ধারিত হয়েছিল। সে বৈঠক হতে ৬৫ বছর লেগে গেল। সীমান্ত পেরনোর সময় কিম বলেন, 'এটি শান্তি ও সমৃদ্ধির একটি নতুন ইতিহাস'। তবে সত্যি সত্য়ি শান্তি ফিরবে কিনা কোরিয় উপদ্বীপে, তা সময় বলবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার বলা হয়, 'এই সম্মেলনে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা নিয়ে বেশি আলোচনা হবে'।

গতকালই চিনের ভূতত্ত্ববিদরা দাবি করেছিলেন উত্তর কোরিয়ের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রটি ধসে পড়েছে। কাজেই কিম এখন বাধ্য হয়েই অনেকটাই নমনীয় হয়েছেন। তাই অনেকেই আশাবাদী বৈঠক ফলপ্রসু হবে। তবে কোরিয়া ন্যাশনাল ডিপ্লোমেটিক অ্যাকাডেমির অধ্যাপক কিম হাইয়ুন-উক বলেন, 'এ আলোচনা থেকেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, এমন নয়। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

এ ব্যাপারে কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, আগে তা দেখা হবে। তারপর তা নিয়ে ট্রাম্প-কিম বৈঠকে আলোচনা হবে। আলোচনা পাকাপোক্ত না হওয়ার আগে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া উত্তর কোরিয়ার জন্য সহজ হবে না'। পাশাপাশি সিওল এখন কোরিয়-যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি চাইছে। বিষয়টি সরাসরি না বললেও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় বলেছে, যুদ্ধের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই দেশে বাস করা স্বজনদের পুনর্মিলন নিয়ে আলোচনা হবে।












Click it and Unblock the Notifications