অসুস্থ বাবাকে সাইকেলে বসিয়ে ১২০০ কিমি রাস্তা পার জ্যোতি কুমারির, টুইট করলেন ইভাঙ্কা ট্রাম্প
১৫ বছরের জ্যোতি কুমারির কাহিনী এখন সকলেই জানেন। তাঁর সাহসিকতার গল্প এখন মানুষের মুখে মুখে। ১৫ বছরের কিশোরী গত সপ্তাহে তাঁর অসুস্থ বাবাকে সাইকেলে চাপিয়ে গুরুগ্রাম থেকে বিহার ১২০০ কিমি অতিক্রম করেছিল মাত্র আটদিনে। সাইক্লিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে ওই কিশোরীকে ট্রায়ালের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী মাসেই ট্রায়ালের জন্য দিল্লি যাবে জ্যোতি।

গুরুগ্রামের যে বাড়িতে জ্যোতি ও তাঁর বাবা ভাড়া থাকত, সেখান থেকে বিতাড়িত করে দেওয়ার ভয়ে, নাছোড়বান্দা জ্যোতি তাঁর আহত বাবাকে সাইকেলের পেছনে বসিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেয়। কিশোরীর বাবা বলেন, 'বিষণ্ন পরিস্থিতি মধ্যেই জ্যোতি প্রস্তাব দেয় বাড়ি ফেরার। আমি মেয়েক বলি যে আমরা এখন কোনও বাস বা ট্রেনে করে ফিরতে পারব আ আর আমার হাঁটার মতো শক্তি নেই। জ্যোতি বলে আমাদের একটা সাইকেল কিনতে হবে।’ ভাবামাত্রই তা কাজে করে দেখায় জ্যোতি।
তার এই গল্প বিহারের অলিগলি থেকে বেড়িয়ে তা সোজা চলে গিয়েছে আমেরিকার হোয়াইট হাউসে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ঞ ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা এই ভারতীয় মেয়ের কীর্তির কথা শুনে টুইট করেন। তিনি টুইটে লেখেন, '১৫ বছরের কিশোরী জ্যোতি কুমারি তার আহত বাবাকে সাইকেলের পেছনে বসিয়ে সাত দিনে ১২০০ কিমি অতিক্রম করেছে। ভারতীয়দের ধৈর্য্য ও ভালোবাসা সত্যিই কল্পনাতীত।’
15 yr old Jyoti Kumari, carried her wounded father to their home village on the back of her bicycle covering +1,200 km over 7 days.
— Ivanka Trump (@IvankaTrump) May 22, 2020
This beautiful feat of endurance & love has captured the imagination of the Indian people and the cycling federation!🇮🇳 https://t.co/uOgXkHzBPz
এর আগে সাইক্লিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ওঙ্কার সিং বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন যে অষ্টম শ্রেণীর পড়ুয়া জ্যোতি কুমারি যদি ট্রায়ালে পাশ করে যায় তবে তাকে দিল্লির জাতীয় সাইকেল শিবিরে রাখা হবে, যেটি আইজিআই স্টেডিয়ামে। সিং বলেন, 'আমরা সকালেই ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাকে জানানো হয়েছে যে লকডাউন উঠে যাওয়ার পর আগামী মাসেই তাকে দিল্লি নিয়ে আসা হবে। আমরা তার যাতায়াত, থাকা–খাওয়ার সব ব্যবস্থা করব।’ চেয়ারম্যান এও বলেন, 'সে যদি বাড়ি থেকে কাউকে নিয়ে আসতে চায় আমাদের তাতে অনুমতি রয়েছে। কিভাবে তাকে দিল্লি নিয়ে আসা যায় সে বিষয়ে বিহার ইউনিটের সঙ্গে কথা বলে দেখা হচ্ছে।’
জ্যোতিকে এই প্রস্তাব দেওয়ার পেছনে কারণ কি, এ প্রসঙ্গে সিং বলেন, 'কিছু আছে তার মধ্যে। আমার মনে হয় ১২০০ কিমি সাইকেল চালানো সহজ কাজ নয়। তার জন্য ওই কিশোরীর শারীরিক ধৈর্য্য ও শক্তির প্রয়োজন। আমরা সেটাই পরীক্ষা করব।’ তিনি বলেন, 'আমরা জ্যোতিকে কম্পিউটারাইজড সাইকেলে বসিয়ে দেখব যে সে সাত বা আট প্যারামিটার চালাতে সক্ষম কিনা, তারপরই তাকে বাছাই করা হবে। বাছাইয়ের পর সে প্রশিক্ষণরতদের মধ্যেই একজন হবে যাকে প্রশিক্ষণের জন্য কোনও অর্থ ব্যয় করতে হবে না।’ সিএফআই সর্বদাই প্রতিভাবানদের খোঁজ করে এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications