Justin Trudeau Resigns: কানাডার প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা জাস্টিন ট্রুডোর, ভারত-বিদ্বেষেই জনতার চক্ষুশূল?
Justin Trudeau Resigns: প্রবল অসন্তোষের মুখে ইস্তফা দিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী (Canada PM) জাস্টিন ট্রুডো। তাঁর গৃহীত সিদ্ধান্ত নিয়ে বারবার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রুডো। দলের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকেও ইস্তফা তাঁর। পার্টি পরবর্তী দলনেতা (party leader) না বাছা পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব সামলাবেন বলেও জানিয়ে দিলেন ট্রুডো।
সোমবার ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ সাংবাদিক সম্মেলন করেন জাস্টিন ট্রুডো। বলেন, "কানাডার মানুষের উদারতা দেখে অনুপ্রাণিত হই আমি। দেশের জন্য লড়ে গিয়েছি। অতিমারীর সময় মানুষের পাশে থেকেছি।" পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পর ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গত রাতে নৈশভোজের (Dinner) টেবিলেই সিদ্ধান্তের কথা পরিবারকে জানিয়েছেন ট্রুডো। এদিন ভাষণে তিনি বলেন, এতদিনের যা সাফল্য, তা শুধু পরিবারের জন্যই।

ট্রুডো আরও বলেন, পরবর্তী ভোটে দেশের জন্য প্রকৃত নেতা বাছাই করা প্রয়োজন। নিজেকে যোদ্ধা হিসেবে ব্যাখ্যা করলেন তিনি। তাঁর কথায়, গত কয়েক মাস ধরে সংসদ কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। দেশে নতুন অধিবেশনের প্রয়োজন রয়েছে। তাই ২৪ মার্চ পর্যন্ত সংসদ মুলতুবি করে দেওয়া হবে। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বাছাই পর্ব দেখার জন্য তিনি উদগ্রীব বলেও জানান ট্রুডো। ২০২১ সালে তৃতীয়বারের জন্য লিবারেল পার্টিকে ক্ষমতায় এনেছিল কানাডাবাসী। তাদের জন্য একইভাবে তিনি ও তাঁর দল কাজ করে যাবেন বলে এদিন প্রতিশ্রুতি দেন ট্রুডো।
২০১৫ তে প্রধানমন্ত্রীর মসনদে বসেন ট্রুডো। সেদিনের থেকে আজকের কানাডা তাঁর আমলে আরও এগিয়ে গিয়েছে বলে এদিন দাবি করেন ট্রুডো। দরিদ্রতা কমিয়ে আরও বেশি বেশি মানুষের বেকারত্ব ঘোচানো সম্ভবপর হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এদিন নিজের সাফল্যের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি আফসোসের কথাও জানালেন ট্রুডো। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংস্কার না করতে পারা তিনি ব্যর্থতা বলে মনে করেন, ইস্তফা ঘোষণা করে এমনটাই জানালেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।
খালিস্তানি ইস্যুতে ট্রুডোর আমলে কানাডার সঙ্গে তলানিতে ঠেকেছিল ভারতের সম্পর্ক। খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরের খুনে ভারত জড়িত বলে দাবি করেছিলেন ট্রুডো। সেই অভিযোগের কোনও সারবত্তা নেই বলে দাবি করেছিল নয়াদিল্লি। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের মাঝই কানাডায় হিন্দু মন্দিরে খালিস্তানি হামলা চালানো হয়। ভারত বিরোধী জিগির ওঠে ট্রুডোর কানাডায়। সেদেশের ছয় কূটনীতিকে বহিষ্কার করে ভারত। কানাডায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে ফিরিয়ে নেয় ভারতও।
ভারতের বিরুদ্ধে ট্রুডোর সেই বিদ্বেষের জেরেই দেশবাসী তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়েছিল। শুধু তাই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে নজর ঘুরিয়ে খালিস্তানি ভোটারদের মন জয় করতে ট্রুডো প্রমাণ ছাড়াই ভারতের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ এনেছিলেন বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। ট্রুডোর গৃহীত আন্তর্জাতিক নীতি নিয়েও কম সমালোচনা হয়নি। ঘরে ও বাইরে প্রবল চাপের মুখে অবশেষে ইস্তফা দিতে বাধ্য বলেন জাস্টিন ট্রুডো।












Click it and Unblock the Notifications