নিম্ন আদালত ভুল পথে এগিয়েছে! খালেদাকে নিয়ে আর যা বলছে বাংলাদেশ হাইকোর্ট
মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকায় করা এক মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার হাজিরা পরোয়ানাসহ জামিন আবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ভুল পথে অগ্রসর হয়েছেন। এমনটাই মত হাইকোর্টের।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকায় করা এক মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার হাজিরা পরোয়ানাসহ জামিন আবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ভুল পথে অগ্রসর হয়েছেন। এমনটাই মত হাইকোর্টের। নথিভুক্ত থাকা হাজিরা পরোয়ানার পাশাপাশি জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম বা সংশ্লিষ্ট মহানগর হাকিমকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের মনে রাখা উচিত যে নালিশি মামলায় যেখানে অভিযুক্ত আসামি অন্য মামলায় কারাগারে আছেন, সেখানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর প্রতিবেদনের জন্য আদালতের অপেক্ষা করারই প্রয়োজন নেই।
ওই মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া, যার ওপর শুনানি নিয়ে গত ৩১ মে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চের পর্যবক্ষণ, নির্দেশনাসহ আবেদন নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন। এরপর সাত পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ আদেশ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।
ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া আদেশ তুলে ধরে হাইকোর্ট বলেছে, সাধারণভাবে আদেশটি পড়ে বলতে দ্বিধা নেই যে ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি নিয়ে ভুল পথে অগ্রসর হয়েছেন। একটি নালিশি মামলায় যেখানে অভিযুক্ত জামিনসহ হাজিরা পরোয়ানার জন্য আবেদন করেছেন এবং অন্য মামলায় কারাগারে আছেন বলে উল্লেখ করেছেন, সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষার প্রয়োজনীয়তা নেই। আবেদন নথিভুক্ত এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর প্রতিবেদনের জন্য ৫ জুলাই পরবর্তী দিন ধার্য করে ম্যাজিস্ট্রেট গুরুতর ভুল করেছেন।
ঘটনা ও পারিপার্শ্বিকতা পর্যালোচনা করে আদেশে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর প্রতিবেদন গ্রহণের নামে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট জামিন আবেদন নিষ্পত্তিতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দেরি করেছেন, যা আদালত প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের শামিল।
নথিপত্র থেকে জানা গিয়েছে, ১৫ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৩০ অগাস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে মামলাটি করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজি জহিরুল ইসলাম। এ মামলায় ওই বছরই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। চলতি বছরের ২৫ মার্চ মহানগর হাকিম আদালতে হাজিরা পরোয়ানা জারিসহ জামিন চেয়ে খালেদা জিয়া আবেদন করলে আদালত ২৫ এপ্রিল শুনানির জন্য দিন রাখেন। পরে ১৭ মে আদেশের জন্য দিন রাখেন।












Click it and Unblock the Notifications