খুন মাত্র একজন সাংবাদিক! তার জেরেই পশ্চিম এশিয়ায় জারি কূটনৈতিক সংঘাত
প্রথমে বচসা। তারপরে হাতাহাতির জেরে সাংবাদিক জামাল খাশোগি খুন হন অক্টোবরের শুরুতে।
প্রথমে বচসা। তারপরে হাতাহাতির জেরে সাংবাদিক জামাল খাশোগি খুন হন অক্টোবরের শুরুতে। তার আগে ১৮দিন ধরে তাঁর কোনও খোঁজ মিলছিল না। পরে জানা যায়, জামালকে খুন করে দেহ টুকরো করে জঙ্গলে ফেলে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। সৌদি কনস্যুলেটের ভিতরেই এই ঘটনা ঘটায় তুরস্কের সাংবাদিক জামালের খুনে দায় সৌদির উপরই চাপে।

সৌদি রাজ পরিবারের সমালোচক হওয়াতেই জামালকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও সৌদি সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে যুবরাজ মহম্মদ
তুরস্কের রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সরকার এই অভিযুক্তদের ইস্তানবুলে এনে বিচারের পক্ষে কথা বললেও তাতে সৌদি রাজি হয়নি। প্রত্যর্পণ করা যাবে না বলে জানিয়ে দেয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সৌদির পাশে দাঁড়িয়ে মুখ খুলেছেন। তাঁর মনোভাব অনেক নরম। এর পিছনে অবশ্য ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন। সৌদি আরব ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১১ হাজার কোটি ডলারের চুক্তির কারণেই ট্রাম্প কড়া অবস্থান নেননি।
তবে এর মধ্যেও অন্য বিষয় রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে নামা সৌদি ও ইরানের মধ্যেও টানাপোড়েন চলছে। তাতে সৌদির পাশে রয়েছে আমেরিকা। যা দেখে ইরান আমেরিকার কড়া সমালোচনা করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জানিয়েছেন, আমেরিকার মদত না থাকলে এমন ঘটনা ঘটানো যায় না।
২ অক্টোবর যেদিন জামাল খাশোগি খুন হন সেদিন তিনি প্রেমিকা হাতিস সেনগিসকে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ জমা করতে সৌদি দূতাবাসে গিয়েছিলেন। তারপর থেকেই জামালের খোঁজ মিলছিল না।
এদিকে তাঁর প্রেমিকা হাতিসকে হোয়াইট হাউসে ডেকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই আমন্ত্রণ পত্রপাট ফিরিয়ে দিয়েছেন হাতিস। এই অবস্থায় সাংবাদিক হত্যাকে কেন্দ্র করে চার দেশের মধ্য মন কষাকষি পশ্চিম এশিয়ার প্রেক্ষিতে কোন কূটনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষাপট তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications