পাঁচতারা হোটেলকেও হারমানাবে এই জইশ-ঘাঁটি, কী নেই সেখানে! দেখুন ছবিতে
অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা বালাকোট। পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে নদী। তারই মাঝখানে জঙ্গি-ঘাঁটি। ঝাঁ-চকচকে ঘর, যা পাঁচতারা হোটেলকেও হারমানায়।
অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা বালাকোট। পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে নদী। তারই মাঝখানে জঙ্গি-ঘাঁটি। ঝাঁ-চকচকে ঘর, যা পাঁচতারা হোটেলকেও হারমানায়। সুইমিংপুল, এসি ঘর, কী নেই। বাইরে মোতায়েন পাহারাদার। একটা মাছিও গলতে পারবে না। আর সেই ঘাঁটিই কি না ধুলোয় মিশিয়ে দিল ভারতীয় বায়ুসেনা।

পুরনো জঙ্গি ঘাঁটি
এটি পাকিস্তানের খাইবার পাথতুনখোয়া প্রদেশের সবথেকে পুরনো জঙ্গি ঘাঁটি। এই গোপন ঘাঁটিতেই চলত জঙ্গি প্রশিক্ষণ। কী নেই! ফায়ারিং রেঞ্জ, বম্ব পরীক্ষার কেন্দ্র। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ভিতরে কী ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ড চলছে। থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্তও সব কিছু রয়েছে গোছানো।

জইশ জঙ্গির অবাধ আনাগোনা
এই জঙ্গি ঘাঁটিতে ছিল মাসুদ আজহার থেকে শুরু করে সমস্ত জইশ জঙ্গির অবাধ আনাগোনা। তাঁরা নিয়মিত আসতেন, এখানে বসেই তাঁরা পরিকল্পনা করতেন যাবতীয় অপারেশনের। শুধু জইশ নয়, এই শিবির ব্যবহার করত হিজবুল মুজাহিদিনও। জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ চলত। অত্যাধুনিক বন্দুক চালানো, বোমা তৈরি করা সবকিছুই হত এই ঘাঁটি থেকে।

৭০০ জঙ্গি থাকার ব্যবস্থা
এই শিবিরে প্রায় ৭০০ জঙ্গি থাকার ব্যবস্থা ছিল। মঙ্গলবার ভোররাতে যখন হামলা চলে, তখন ৩০০-র বেশি জঙ্গি ছিল। ছিল ২৫ থেকে ২৭ জন প্রশিক্ষক। পাক সেনা ঘুণাক্ষরে টের পাননি এই হামলার কথা। ভারত যে পাক-ভূখণ্ডে ঢুকে আঘাত হানতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেনি পাকিস্তান।

বাইরে থেকে পাঁচটা সাধারণ বাড়ি
১৪ থেকে ২৬- মাত্র ১২ দিনের ফারাকে প্রত্যাঘাত করল ভারত। পাকিস্তানের মাটিতে জইশের সাম্রাজ্যের তাবড় নেতাদের জারিজুরি শেষ করে দিয়েছে। এতদিন তাঁরা যেসব জায়গায় লুকিয়ে থাকত, যেখানে বসে জঙ্গ রচনা করত, সেসব ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে। খালি চোখে, তা আর পাঁচটা সাধারণ বাড়ির মতোই। কিন্তু ভিতরের সাজ-সরঞ্জাম দেখলে চমকে উঠতে হয়।

বাড়িতে মজুত বিস্ফোরক
কেমন ছিল এই জঙ্গি ঘাঁটি? যে ছবি সামনে এসেছে। সংবাদসংস্থা এএনআই যে ছবি প্রকাশ করেছে, তাতে স্পষ্ট শুনশান এলাকায় এই ঘাঁটি। প্রাচীর ঘেরা এই বাড়িতে জঙ্গিরা গা ঢাকা দিয়ে থাকত, আর সন্ত্রাসের পরিকল্পনা করত। আর প্রাচীর ঘেরা বিশাল এলাকায় মজুত ছিল প্রচুর অস্ত্র ও বিস্ফোরক। এই ঘাঁটি থেকে ২০০ একে রাইফেল, ডিটোনেটর-সহ নানা প্রকারের বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে।

আমেরিকা-ইজরায়েলের পতাকায় আঁকা সিঁড়ি
আর সবথেকে চাঞ্চল্যের বিষয়, এই জঙ্গি ঘাঁটির সিঁড়িতে আঁকা ছিল বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা। সেখানে ছিল আমেরিকার জাতীয় পতাকা, ব্রিটেন ও ইজরায়েলের জাতীয় পতাকাও ছিল সিঁড়িতে আঁকা। কী কারণে এই জাতীয় পতাকার ছবি-সহযোগে সিঁড়ি নির্মাণ হয়েছিল, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে।












Click it and Unblock the Notifications