বিশ্বের দ্রুততম কম্পিউটারের শিরোপা পেল জাপানের করোনা-প্রতিষেধক সন্ধানী কম্পিউটার
বিশ্বের দ্রুততম কম্পিউটারের শিরোপা পেল জাপানের করোনা-প্রতিষেধক সন্ধানী কম্পিউটার
করোনা প্রতিষেধকের খোঁজে ব্যবহৃত জাপানি সুপারপফাস্ট কম্পিউটারকেই এবার বিশ্বের দ্রুততম কম্পিউটারের শিরোপা দিলেন বিজ্ঞানীরা। সূত্রের খবর, করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মডেল তৈরি করতে ব্যবহৃত হচ্ছিল জাপানের একটি সুপার কম্পিউটার। সোমবার এই কম্পিউটারের নির্মাতারা ঘোষণা করলেন যে, বিশ্বের সমস্ত সুপার-কম্পিউটারদের মধ্যে দ্রুততম এই ফুগাকু সুপারকম্পিউটার। এর আগে মূলত করোনা প্রতিষেধকের খোঁজ করতেই এই বিশেষ কম্পিউটার তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।

আদপে কী বৈশিষ্ট্য আছে এই দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের ?
জাপানের রাইকেন বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র এবং প্রযুক্তি সংস্থা ফুজিৎসুর যৌথ উদ্যোগে সৃষ্ট এই ফুগাকু সুপারকম্পিউটার। গবেষকদের মতে, বিশ্বের দ্রুততম ৫০০ টি সুপারকম্পিউটারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মার্কিন সুপারকম্পিউটার 'সামিট'-এর থেকে এটি প্রায় ২.৮ গুণ দ্রুত। রাইকেনের অধিকর্তা সাতোশি মাতসুয়োকা ট্যুইট করেছেন, "সর্বপ্রথম কোনো একক মেশিন হিসেবে বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটারের খেতাব এবং এইচপিসিজি, এইচপিএল-এআই ও গ্রাফ৫০০-এর তালিকায় সেরা স্থান দখল করল ফুগাকু।"

কি এই 'সুপারকম্পিউটার'?
অত্যন্ত দ্রুত সমাধানের ক্ষমতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপস্থিতির কারণে সুপারকম্পিউটার সাধারণ কম্পিউটারের থেকে অনেক গুণ দ্রুত হয়। সাধারণত নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণের মত ভয়াবহ পরীক্ষা হোক বা বিভিন্ন জৈবরাসায়নিক গবেষণা, জলবায়ু সংক্রান্ত গবেষণা হোক বা ন্যানোটেকনোলজি, সমস্তরকমের কঠিন পরীক্ষানিরীক্ষা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে করতে সক্ষম সুপারকম্পিউটার। ফুজিৎসুর কর্পোরেট একজিকিউটিভ নাওকি শিনজোর মতে, এই ফুগাকু সুপারকম্পিউটার ভবিষ্যতে জাপানের 'সোসাইটি ৫.০' প্রজেক্টে সহায়তা করবে।

সাধারণ কম্পিউটারের থেকে ১০০০ গুণ দ্রুত সুপারকম্পিউটার
প্রায় ৬ বছরের দীর্ঘ সাধনার পর অবশেষে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে, ২০২১-এর এপ্রিল থেকে ফুগাকু সুপারকম্পিউটার সম্পূর্ণরূপে কাজ করতে সক্ষম হবে। জাপানি ভাষায় 'ফুগাকু' শব্দের অর্থ মাউন্ট ফুজি। মাউন্ট ফুজি জাপানের টোকিও শহরের ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি জীবিত আগ্নেয়গিরি।

করোনা রোধে কাজ করছে ফুগাকু
ফুগাকু ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস রোধে কাজ করতে শুরু করেছে। ভিড়ে ঠাসা ট্রেন হোক বাস অথবা অফিস-কাছারি, জানালা খোলা রেখেও কিভাবে জলীয় জীবাণুনাশক স্প্রে করলে তা কার্যকরী হবে, তা নিয়েই প্রাথমিকভাবে কাজ করছে ফুগাকু। মাতসুয়োকা জানিয়েছেন, "আমি আশা করি যে উন্নততর প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সুপারকম্পিউটারটি তৈরি করা হয়েছে, তা করোনার ন্যায় জটিলতম সমস্যার সমাধানের দিকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে।"












Click it and Unblock the Notifications