ডানা মেলল জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ, জানা যাবে ব্রহ্মাণ্ডের ভূত ভবিষ্যৎ
ডানা মেলল জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ, জানা যাবে ব্রহ্মাণ্ডের ভূত ভবিষ্যৎ
নিউইয়র্ক : নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ তার মিশনের সবচেয়ে কঠিন কাজটি সফলভাবে করতে পারছে। নাসা সফলভাবে টেলিস্কোপের ৭০ ফুট সানশিল্ডকে মেলে ধরাতে সক্ষম হয়েছে। টেলিস্কোপটি পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় জিনিস এই সানশিল্ড। এটি আকারে টেনিস কোর্টের মতো। দেখতে ঘুড়ির মতো। টেলিস্কোপটির যন্ত্রাংশকে ৩৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে ঠান্ডা হতে দেবে না। এটি ইনফ্রারেড লাইট দেখতে নির্ধারিত তাপমাত্রার মধ্যে থাকতে পারে। গত ২৫ ডিসেম্বর টেলিস্কোপটি সফলভাবে মহাকাশে যাত্রা করে, এর তিন দিন পর থেকে নাসা এটির সানশিল্ড ভাঁজ থেকে খোলার কাজ শুরু করে, এবার খুলে গিয়েছে সেই সানশিল্ড। যা খুলে দেবে মহাকাশের অনেক রহস্য।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ সানশিল্ডের ভাঁজ খোলা ?
আট দিন সময় লেগে গেছে পুরো কাজটি করতে। এর মধ্যে একদিন টেলিস্কোপটির পাওয়ার সিস্টেম এবং টেনশনিং মোটর অপটিমাইজ করতে একদিন সানশিল্ড মেলে ধরার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এই সানশিল্ডের সঙ্গে বেশ অনেকগুলি কম্পোনেন্ট জড়িয়ে রয়েছে। আর এই জন্যই এর ডানা মেলে ধরার বিষয়টি এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সানশিল্ডের ভাঁজ খোলা ও টানটান করতে ১৩৯ রিলিজ মেকানিজম, ৭০টি জোড়া, আটটি মোটর, ৪০০ পুলি এবং প্রায় কোয়ার্টার মাইল কেবল জড়িত রয়েছে। এর মধ্যে যদি একটি কম্পোনেন্ট ব্যর্থ হলে পুরো প্রজেক্টটি নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু তা হয়নি। কাজ করতে শুরু করবে সানশিল্ড।
এই কাজ নিয়ে এত হইচই কেন?
এই টেলিস্কোপ অতীত খুঁড়ে দেখতে পারে। ব্রহ্মান্ড সৃষ্টির ইতিহাস দেখতে সক্ষম এই টেলিস্কোপ। এটি সাধারণ টেলিস্কোপ থেকে বেরনো আলোর ওয়েভলেন্থ আঁকড়ে দেখাশোনা চালায়। এটি তাপ যেখান থেকে নির্গত হয়, সেখানে যাতায়াত করতে সক্ষম। নাইট ভিশন গগলস ইনফ্রারেড ডিটেক্ট করতে পারে। সেই কাজ করতে সক্ষম ওয়েব টেলিস্কোপ। ফলে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের থেকে অনেক ভালো ছবি নাসাকে দিতে পারবে এটি। এর মাধ্যমে চলতে পারে প্রাণের খোঁজ। নতুন কোনও গ্রহের সন্ধান দিতেও সক্ষম এই জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। আর তাই বলা যেতেই পারে মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা হয়ে গেল।












Click it and Unblock the Notifications