গাজায় হয়ে গেল ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বিমান হামলা, নিহত শিশু সহ ১৮ জন
বৃহস্পতিবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছে বলে খবর। যার মধ্যে তিন শিশু এবং হামাস পরিচালিত পুলিশ বাহিনীর দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রথম আঘাতটি করা হয় ইসরায়েল ঘোষিত জনবহুল এলাকা মুওয়াসি অঞ্চলে। একটি তাঁবুতে আঘাত করা হয়, যেখানে কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ ঠান্ডা এবং প্রবল বৃষ্টি থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় গাজা উপত্যকায় আরেকটি হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের মতে, নিহতরা স্থানীয় কমিটির সদস্য যারা ত্রাণবাহী জাহাজকে নিরাপদে সাহায্য করে। হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামাসের নেতৃত্বাধীন জঙ্গিদের ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামলার ফলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। তারা সেদিন প্রায় ১২০০ জনকে হত্যা করেছিল, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক ছিল এবং প্রায় ২৫০ জনকে অপহরণ করেছিল। প্রায় ১০০ জিম্মি এখনও গাজার অভ্যন্তরে রয়েছে, যাদের অন্তত এক তৃতীয়াংশ মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের আক্রমণে গাজায় ৪৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, এর মধ্যে বেশিরভাগ নারী ও শিশুরা ছিল বলেই জানা যাচ্ছে।
এদিনের হামলার প্রসঙ্গে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে যে তারা গাজা উপত্যকায় হামলায় হামাসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার একজন সিনিয়র সদস্যকে লক্ষ্য করেছিল। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলেছেন যে হামলায় তিন শিশু সহ আরও নয়জন নিহত হয়েছে। সামরিক বাহিনী বলেছে, গাজায় হামাস পরিচালিত পুলিশ বাহিনীর একজন সিনিয়র অফিসার হোসাম শাহওয়ান ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলায় হামাসের সশস্ত্র শাখার ব্যবহৃত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে জড়িত ছিল। মেজর জেনারেল মাহমুদ সালাহ, আরেক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাও হামলায় নিহত হন।
সামরিক বাহিনী বলেছে যে হামাস জঙ্গিরা বেসামরিক লোকদের মধ্যে লুকিয়ে থাকে এবং প্রায় ১৫ মাসের যুদ্ধে তাদের মৃত্যুর জন্য এই গোষ্ঠীকে দায়ী করে তারা।
ইসরায়েল দ্বারা এই হামলার পর থেকে রাস্তা থেকে সম্পূর্ণ রূপে উধাও হয়ে গিয়েছে পুলিশ- প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ রূপে ভেঙে গিয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর হামাস বাহিনীও।












Click it and Unblock the Notifications