যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিয়ে নতুন করে মুখোমুখি ইসরায়েল-হামাস, এখনই নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে!
গাজায় দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ! নতুন করে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছুঁইছুঁই। ১ মার্চ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে টানা ৩০ ঘণ্টার বিমানহানা চলছে গাজার বিভিন্ন এলাকায়। বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ঘোষণা করেছে যে তারা গাজায় তাদের অভিযানের পরিধি আরও বাড়িয়েছে এবং ধারাবাহিক বিমান হামলায় নতুন করে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি বিমান হামলায় বৃহস্পতিবার কমপক্ষে ৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, জানিয়েছেন গাজার এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। মঙ্গলবার থেকে চলমান অভিযানে নিহত হয়েছেন ৫১০ জন ফিলিস্তিনি, যাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। ইসরায়েলের আইডিএফ (Israel Defense Forces) গাজার সেফ শেল্টার জোন খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।

ইসরায়েলের নতুন সামরিক কৌশলও এবার বদলেছে। যেখানে উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় হামলা তীব্রতর হয়েছে। বেশ কয়েকটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। গাজাকে দ্বিখণ্ডিত করতে 'নেটজারিম করিডোরে' ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া জোরদার চলছে।
কেন ভাঙল এই যুদ্ধবিরতি? যা জানা যাচ্ছে, বোমারু বিমান থেকে ১০৫ বার হামলা চালিয়েছে গাজা। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যমের দাবি, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১০৫টি হামলা চালানো হয়েছে। গত দেড় বছরে এটিই দ্বিতীয় বৃহত্তম হামলা। ইসরায়েলের দাবি, হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে। হামাসকে গুঁড়িয়ে দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছে নেতানিয়াহুর সরকার।
এদিকে ফিলিস্তিনি জঙ্গি সংগঠন হামাস এই স্থল অভিযানকে 'যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিপজ্জনক লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছে। হামাস দাবি করেছে, "আমরা যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলতে প্রস্তুত, কিন্তু ইসরায়েলের হামলা পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। মধ্যস্থতাকারীদের 'তাদের দায়িত্ব গ্রহণ' করার এবার সময় এসেছে"।
তবে, হামাস এখনও ইসরায়েলের এই হামলার বিরুদ্ধে কোনো বড় প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয়নি। এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, হামাস জঙ্গিরা ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১,২০০ মানুষকে হত্যা করে এবং ২৫০ জনকে পণবন্দি করে। এরপর থেকে চলমান সংঘাতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী ৪৯,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতি ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এখনও কোনো সমাধান আসেনি। জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলি ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানার আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েল বলছে, হামাসের বিরুদ্ধে তাদের 'সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান' চলবে। আসলে ইসরায়েল ও হামাস কেউই দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী ছিল না। আমেরিকা ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীরাও নীরব ভূমিকা পালন করছে। কাতারের মধ্যস্থতায় সমাধান সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
মুসলিম বিশ্বও এখন শান্তি আলোচনার বিষয়ে এগিয়ে আসছে না। আরব দেশগুলো ট্রাম্পের গাজা পুনর্গঠন প্রস্তাবে বেশি ক্ষুব্ধ। এমন অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক প্রতিনিধি আজই কাতার পৌঁছেছেন। তিনি যদি নতুন সমঝোতা আনতে পারেন, তাহলে হয়তো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হবে। না হলে গাজায় ধ্বংসস্তূপ বাড়তেই থাকবে। আর তার সাথেই তাল মিলিয়ে বাড়বে মৃত্যুর সংখ্যাও।












Click it and Unblock the Notifications