ইজরালের সাংবাদিকদের ‘খুনি’ বলে সম্বোধন প্যালেস্তিনিদের, যুদ্ধের সঙ্গেই চলছে কূটনৈতিক লড়াই
ইজরালের সাংবাদিকদের ‘খুনি’ বলে সম্বোধন প্যালেস্তিনিদের, যুদ্ধের সঙ্গেই চলছে কূটনৈতিক লড়াই
কাতারে ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধ চলছে। এই বিশ্বযুদ্ধে ৩২টি দেশ অংগ্রহণ করেছে। ৩২টি দেশ খেলায় অংশগ্রহণ করলেও উন্মাদনা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন অনেক দেশের ক্রীড়া সাংবাদিক কাতারে গিয়েছেন, তাঁদের দেশ ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা পায়নি বা অংশগ্রহণ করেনি।ঠিক যেমন ইজরায়েল। ইজরায়েলের ফুটবল দল বিশ্বকাপে নেই। কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক মোটেই ভালো নয়, তারপরেও কাতার ইজরায়েলের সাংবাদিকদের অনুমতি দিয়েছে। ইজরায়েলের নাগরিকদের জন্য একটা নতুন জায়গা কাতার। সেই কাতারে এসে একাধিক অভিজ্ঞতার মুখে পড়ছেন ইজরায়েলী সাংবাদিকরা। বলা বাহুল্য সেই অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর নয়।

কাতারে ইজরায়েলের সাংবাদিকরা
কাতারে ইজরায়েলের সাংবাদিক ঘুরতে ঘুরতে একটি শপিং মলে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা ব্যক্তিকে দেখতে পান। সাংবাদিক ইজরায়েলের নাগরিক শুনেই কাতারের বাসিন্দা যথেষ্ঠ বিরক্ত প্রকাশ করেছিলেন। প্রথম যখন কাতারের বাসিন্দা জানতে পারলেন, সাংবাদিক ইজরায়েলের বাসিন্দা, তিনি যথেষ্ঠ অবাক হয়েছিলেন। ফের একবার জিজ্ঞাসা করলেন, কোথাকার? সাংবাদিকের মুখে ইজরায়েলের নাম দ্বিতীয়বার শুনে কাতারের নাগরিক বুঝতে পারেন প্রথমে তিনি ঠিক শুনেছিলেন। কাতারের ইজরায়েলি সাংবাদিকদের যথেষ্ঠ প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

ইজরায়েলের সাংবাদিকদের অভিযোগ
ইজরায়েলের সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন, কাতারের কাছ থেকে মোটেই উষ্ণ অভ্যর্থনা পাচ্ছেন না ইজরায়েলের সাংবাদিকরা। কাতারের একাধিক টেলিভিশন চ্যানেল ইজরায়েলের নাগরিক ও সাংবাদিকদের বিরোধিতা করে ফুটেজ শেয়ার করছেন। প্যালেস্তাইনের টেলিভিশন ও সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও ইজরায়েলের নাগরিকরা প্রবল অপমানিত হচ্ছেন। ইজরায়েলের সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন, কাতারের স্টেডিয়াম থেকে রাস্তা, যেখানেই প্যালেস্তাইনের নাগরিকদের মুখোমুখি হচ্ছেন, অপমানিত হতে হচ্ছে। অভিযোগ, প্যালেস্তাইনের নাগরিকরা তাঁদের দেখে চিৎকার করছেন, 'আমাদের সন্তামনদের হত্যাকারী।' এমনকী ইজরায়েলের সাংবাদিদের স্টেডিয়ামে কাতার ও প্যালেস্তাইনের নাগরিকরা ধাক্কা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

শর্ত সাপেক্ষে ইজরায়েলিদের কাতার প্রবেশের অধিকার
শর্ত সাপেক্ষে ইজরায়েলের ক্রীড়া সাংবাদিক ও নাগরিকদের কাতারে প্রবেশের অধিকার দিয়েছে দোহা। প্রধান শর্ত হল, কাতারে বিশ্বকাপ চলকালীন পশ্চিম উপত্যকা, গাজা ও প্যালেস্তাইনে কোনও রকম হামলা করতে পারবে না ইজরায়েল। যদি জেরুজালেম কোনও ধরনের হামলা করে বা হামলার উস্কানি দেয়, সেক্ষেত্রে দ্রুত ইজরায়েলি নাগরিকদের কাতার থেকে বহিষ্কার করা হবে। এরপরেও হাজার হাজার ইজরায়েলের নাগরিক ও সাংবাদিকরা কাতারে প্রবেশ করছে। বর্তমানে কাতারের সঙ্গে ইজরায়েলের সরাসরি কোনও বিমান নেই। আগামী মাসে বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে সরাসরি ১০টি বিমান ইজরায়েল থেকে কাতার যাতায়ত করবে।

কাতার ও ইজরায়েলের সম্পর্কের অবনতি
আগে কাতার ও ইজরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক নেহাৎ খারাপ ছিল না। ১৯৯৬ সাল থেকে কাতারের সঙ্গে ইজরায়েলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক শুরু হয়। কিন্তু পরে প্যালেস্তাইনকে কেন্দ্র করে ইজরায়েলের সঙ্গে কাতারের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। সম্পূর্কের অবনতি হলেও কূটনৈতিক সম্পর্ক একেবারে ছিন্ন হয়নি। কিন্তু ২০১৭ সালে বাহরিন, মিশর সহ সৌদি উপসাগরীয় দেশগুলো কাতারকে এক ঘরে করার চেষ্টা করে। কাতারের সঙ্গে বাণিজিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরব উপসাগরীয় ছয়টি দেশ ত্যাগ করে। সেই সময় সৌদি উপসাগরীয় দেশগুলোকে সমর্থন জানিয়েছিল ইজরায়েল। এই ঘটনার পর ইজরায়েলের সঙ্গে কাতারের কূটনৈতিক সম্পর্ক একেবারে ছিন্ন হয়ে যায়। আরব উপসাগরীয় দেশগুলো অভিযোগ করেছিল, কাতার সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিক সাহায্য করেছিল।

দোহায় ইজরায়েলে অস্থায়ী দূতাবাস
২০১৭ সালে ইজরায়েলের সঙ্গে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেলে আর কোনও কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে, আরব উপসাগরীয় দেশগুলো ধীরে ধীরে কাতারের ওপর সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কিন্তু তারপরেও ইজরায়েল ও কাতার সম্পর্কের উন্নতি হয় না। বর্তমানে কাতার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্যালেস্তাইনকে সমর্থন করে। পশ্চিম উপত্যকা ও গাজায় ক্রমাগত উত্তেজনার জন্য কাতার ইজরায়েলকে দোষী করে। তবে সম্প্রতি ফুটবলের জন্য ইজরায়েলের নাগরিকরা কাতারে আসার অনুমতি পেয়েছে। যাতে কাতারে ইজরায়েলের নাগরিকরা কোনও ধরনের বিপদে না পড়েন, বা কূটনৈতিক সাহায্য পান, সেক্ষেত্রে অস্থায়ী দূতাবাস খোলা হয়েছে। তবে এই অস্থায়ী দূতাবাস বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তারপর আবার আগের মতোই কাতার ও ইজরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications