কাবুলের বিস্ফোরণের নেপথ্যে আইএসআইএস খোরসান! তালিবানদের সঙ্গে কোথায় পার্থক্য এই উগ্রপন্থীদের
কাবুলের বিস্ফোরণের নেপথ্যে আইএসআইএস খোরসান! তালিবানদের সঙ্গে কোথায় পার্থক্য এই উগ্রপন্থীদের
কাবুলের জোড়া বিস্ফোরণে আঁচ ইতিমধ্যেই ছড়িয়েছে গোটা বিশ্বজুড়ে। এদিকে ইতিমধ্যেই এই হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএসআইএস। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা দফতরের সূত্র মারফত খবর কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে বিস্ফোরণের জন্য দায়ী আইসিসের খোরাসান শাখা সংগঠন। আফগানিস্তানে বহুদিন ধরেই সক্রিয় এই খোরাসান। এমনকী মার্কিন সেনার বিরুদ্ধেও ২০১১ সাল থেকে লাগাতার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে এই সুন্নিপন্থী ইসলামী জঙ্গি সংগঠন।

কেন বাড়ছে উদ্বেগ
এদিকে ২০ বছর পর আফগানিস্তানে তালিবানের ফিরে আসার পর কারণে অনকেই মনে করছেন এই দেশের মাটি আল-কায়েদা, লস্করের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর জন্য স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে। বাস্তব ক্ষেত্রেই কার্যত স্পষ্ট হচ্ছে। এদিকে তালেবানরা কাবুল দখল করার পরেই একাধিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের জেলবন্দি জঙ্গিদের মুক্তি দিতে শুরু করে। মুক্তি দেওয়া হয়, একাধিক লষ্কর, আইসিস জঙ্গি নেতাদের।

কাবুলে জোড়া বিস্ফোরণের নেপথ্য আইসিসের খোরাসান শাখা সংগঠন
সদ্য মুক্তি প্রাপ্ত আইসিস নেতাদের দলেই ছিলেন পাকিস্তানের আইএসআইএস-র প্রধান মুখ আমির মাওয়ালায়ি আবদুল্লাহ ফারুকী। কাবুলের জোড়া বিস্ফোরণের মূল চক্রী হিসাবে উঠে আসছে তার নাম। তার নেতৃত্বেই আইসিসের খোরাসান শাখা সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ২০১৪ সালে 'ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট' বা 'আইএসআইএস' ইরাক ও সিরিয়ায় খিলাফত ঘোষণা করে। তার কয়েক মাস পরেই পাকিস্তানি তালিবানদের থেকে বিচ্ছিন্ন জঙ্গিরা আফগানিস্তানের জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি নতুন আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন শুরু করে।

একনজরে ইতিহাস
ওই সংগঠনেরই ২০১৪ সালে স্বঘোষিত ইসলামিক স্টেট-এর শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। নাম হয় আইএসআইএস-খোরাসান বা আইএস-কে। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানেই মূলত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায় এই গোষ্ঠী। এদিকে ইতিহাস বলছে মধ্যযুগে আফগানিস্তান, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে খোরাসান প্রদেশ বলা হত। সেখান থেকেই খোরাসান শব্দটি নিয়েছে এই আইএসআইএস জঙ্গিরা।

কোথায় পার্থক্য তালিবানদের সঙ্গে?
বর্তমানে এই সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আইএস নেতা আবু বকর আল-বাগদাদিকেই তারা মেনে নেয় বলে জানা যাচ্ছে। বর্তমানে এই সংগঠনের আফগান প্রধানের দায়িত্বে রয়েছে আমির মাওয়ালায়ি আবদুল্লাহ ফারুকী। এধিকে তালিবানদের সাথে আবার আইএস-কে-র বিশেষ বনিবনা নেই। এদিকে দুই সংগঠনই কট্টর সুন্নি ইসলামপন্থী। কিন্তু তারপরেও ধর্ম এবং জেহাদের স্ট্র্যাটেজির ছোট ছোট বিষয় নিয়ে দুই তরফে বিবাদ রয়েছে। দুপক্ষেরই দাবি তারাই প্রকৃত জেহাদি।












Click it and Unblock the Notifications