বাড়ছে 'জৈব অস্ত্র'-এর প্রকোপ, চলছে অর্থনৈতিক রেষারেষি! এটাই কী তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ?
এই বিশ্ব এর আগে দেখেছে দুটি বিশ্বযুদ্ধ। গতশতকের সেই দুই যুদ্ধে বিশ্ব বদলে গিয়েছে পুরোপুরি। এছাড়া প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক কোটি মানুষ। এরপরই ২১ শতক শুরু হওয়ার কয়েক বছরের পরই শুরু হয় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা। এনিয়ে অনেক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী থেকে ব্যয়বহুল সিনেমা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বে নিজেদের প্রভুত্ব বিস্তার করবে চিন?
সাধারণ ধারণা ছিল যে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রতিযোগিতা আর যার ফলে ভয়ানক মানবিক বিপর্যয় ঘটবে। কিন্তু এই করোনার প্রকোপই কী আসলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ? অদৃশ্য, পরাক্রমশালী এই কোভিড ১৯ নামক ভাইরাসই কী আসল অস্ত্র এই যুদ্ধের! উঠেছে প্রশ্ন। আর এই অস্ত্র ব্যবহার করেই কী বিশ্বে নিজেদের প্রভুত্ব বিস্তার করবে চিন?

যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের বাণিজ্যযুদ্ধ
এই করোনা মহামারী এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে পড়ে বিশ্ব বাণিজ্য হুমকির মুখে। মুক্ত বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গুরুতর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এই মহামারীর জেরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সময় সমগ্র বিশ্বের জন্য।

চিনের উপর নির্ভরশীল গোটা দুনিয়া!
ইতালির আমদানি করা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ব্লাড থিনার চিন থেকে আসে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ৯৭ শতাংশ, জাপান তাদের চাহিদার ৫০ শতাংশ এবং জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্স তাদের প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ৪০ শতাংশ চিন থেকে আমদানি করে। এই মহামারী আরও চোখে আঙুল দিয়ে সবাইকে দেখিয়ে দিচ্ছে যে চিনের উপর কতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে গোটা বিশ্ব।

গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা প্রকোপ
সরকারি ভাবে এই করোনা বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এরপর এই যুদ্ধ বা প্রকোব, যাই বলুন, তা ছড়িয়ে পড়ে জাপান, সাউথ কোরিয়াসহ এশিয়ার প্রায় সবকটি দেশে। এরপরই ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ছাড়িয়ে আফ্রিকা মহাদেশেও হানা দিল এটি।

প্রকোপ শেষে একা দাঁড়িয়ে থাকবে চিন?
যখন এই প্রকোপ শেষ হবে, তখন কী শুধু চিনই বীরদর্পে দাঁড়িয়ে থাকবে? এই প্রকোপ শুরু হওয়ার পর গোটা বিশ্বে ২৬ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত এই সংক্রমণে। আমেরিকা, যে কী না বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী দেশ, এই করোনার জেরে নুইয়ে পড়েছে। সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ এখন সেটি। সেখানে ৮ লক্ষের বেশি আক্রান্ত। মৃত ৫০ হাজার!

ধসের পথে মার্কিন অর্থনীতি
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকাতে গত কয়েক দিনে চাকরি হারিয়েছেন ৬৬ লক্ষ মানুষ। করোনা সংক্রমণ সেদেশে দেখা দেওয়ার পর থেকে সেই সংখ্যাটা ১ কোটি ৬০ লক্ষ। এরা সবাই আমেরিকায় বেকারত্ব ভাতার জন্য আবেদন জানিয়েছে। ১৯৪৮ সালের পর এত বাজে অবস্থা কখনও হয়নি আমেরিকাতে। অর্থনীতি প্রায় ধসের মুখে সেখানে। তবে চিন এখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে। এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাদের অর্থনীতিকে। গোটা বিশ্ব যেন আরও বেশি করে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে তাদের উপর।












Click it and Unblock the Notifications