আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি উপসর্গহীনরাও সমানতালে ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস, জানাল গবেষণা
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার মেডিকেল জার্নাল জামা ইন্টারনাল মেডিসিনের প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে কোভিড -১৯ এর উপসর্গহীন বাহকরাও উপসর্গ যুক্ত রোগীর মতো সমানতালে নিভৃতেই ছড়াচ্ছে মারণ ভাইরাস। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, উপসর্গহীন ব্যক্তিরাও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সংক্রামিত ব্যক্তিদের মতই নাক, গলা ও ফুসফুসে একই জীবাণু বা প্যাথোজেন বহন করে। যা ধারে ও ভারে উপসর্গ যুক্ত রোগীর মতোই সংক্রামক।

সুনচুনহিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ৩০০ জনের উপর চলে সমীক্ষা
ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। এদিন জামা ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশিত সমীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। দক্ষিণ কোরিয়ার সুনচুনহিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ৬ থেকে ২৬শে মার্চ পর্যন্ত মোট ৩০০ রোগীর উপর একটি সমীক্ষা চালায়। যাদের মধ্যে ১৯৩ জনের শরীরে করোনার উপসর্গ থাকলেও ১১০ জন ছিল উপসর্গহীন। জানা যাচ্ছে, উপসর্গহীন ব্যক্তিদের একই ভাবে ছড়াচ্ছে এই প্রাণগাতী ভাইরাস।

আক্রান্তদের মধ্যে ৩০% শরীরে কখনোই করোনা উপসর্গের লেশমাত্র দেখা যায়নি
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত অনেক রোগীরই দীর্ঘকাল ধরে কোনো উপসর্গ চোখে পড়েনি। তাই, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপসর্গযুক্ত এবং উপসর্গহীন নির্বিশেষে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শারিরীক দূরত্ব বজায় রেখে নিজেদের বিচ্ছিন্ন রাখা উচিৎ। দেখা গেছে, ৩০০ জনের মধ্যে প্রায় ৩০% আক্রান্তের শরীরে কখনোই উপসর্গের লেশ মাত্র দেখা যায়নি।

লক্ষণ না থাকলেও ছড়াচ্ছে ভাইরাস, পাথেয় সচেতনতাই
লক্ষণ না থাকা এমন অনেক ব্যক্তির শরীরেই মিলেছে করোনার জীবাণু। এই প্রসঙ্গে চিকিৎসক কুলিং জানান, যেহেতু উপসর্গহীন ব্যক্তিদের কাশি বা হাঁচির মত লক্ষন দেখা দেয় না, তাই তারা সরাসরি এই ভাইরাস প্রসারে কম দক্ষ। কিন্তু তাদের শারীরিক দুর্বলতার কারণে, তারা খাট, চেয়ার বা অন্যান্য আসবাব ব্যবহার করছেন এবং অসচেতন কেউ সেগুলি পুনরায় ব্যবহার করলেই বাড়ছে বিপত্তি।

গবেষণায় রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতাও
কোনোও গবেষণাই সাধারণত সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত হয়না। গবেষকেরা জানিয়েছেন, এটি একটি নির্দিষ্ট সময় সাপেক্ষে পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষনমূলক গবেষণা। সংগৃহীত ডেটা ও পরীক্ষার মানের উপর নির্ভর করে - দক্ষিণ কোরিয়ায় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই গবেষণা করা হয়েছে, অন্যান্য দেশে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষাপদ্ধতি ভিন্ন হলে এই গবেষণা সম্পূর্ণ সত্য নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।












Click it and Unblock the Notifications