ট্রাম্প সাম্রাজ্য শুরু হতেই চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, এখন আমেরিকায় টিকে থাকাই দায়!

মাত্র ৪ দিন হয়েছে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাষ্ট্রপতির পদে বসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ এই চারদিনের মধ্যেই আমেরিকা জুড়ে নিজের ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করেছেন ট্রাম্প। এমনই ভয় ধরিয়েছেন তিনি, যে ভারতীয় পড়ুয়ারা যারা মার্কিন মুলুকে থেকে পড়াশোনা করছেন পাশাপাশি হাতখরচার জন্যে কোথাও না কোথাও কাজ করছিলেন, তারা এবার সব কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

যা জানা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের আগের সপ্তাহগুলিতে, বেশ কয়েকজন ভারতীয় পড়ুয়া অতিরিক্ত আয়ের জন্য বিভিন্ন চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে নতুন প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে তারা এসব চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

job

মূলত, অনেক বিদেশী পড়ুয়াই আমেরিকায় থেকে তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যে এবং প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্যে ফাঁকা সময়ে কোথাও না কোথাও চাকরি করে থাকেন। যেহেতু আমেরিকায় পড়াশোনার জন্যে বহু পড়ুয়াকেই মোটা অঙ্কের লোন নিতে হয়, তাই নিজেরা দু'পয়সা উপার্জন করে সেই লোন শোধ করতে চান। তবে এবার তাঁদের এই চিন্তার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াল ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি। সেই নীতির ভয়েই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন অন্য দেশ থেকে আসা পড়ুয়ারা। যার মধ্যে ভারতীয়রাও রয়েছেন। তারা চাকরি তো ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু এবার লোন চোকাবেন কীভাবে? আর সেখানেই সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে।

F-1 ভিসাধারী আন্তর্জাতিক পড়ুয়াদের জন্য মার্কিন আইনে বলা আছে যে, ক্যাম্পাসের মধ্যে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন বিদেশী পড়ুয়ারা। তবে অনেকেই ক্যাম্পাসের বাইরে অবৈধভাবে কাজ করে থাকেন। সেখানে তাঁদের আইনি কোনও কাগজপত্র থাকে না। টাকার বিনিময়ে কাজ করেন তারা। যেমন রেস্তোঁরা, গ্যাস স্টেশন, বা কোনও ছোটখাটো দোকানে, যা দিয়ে তাদের জীবনযাত্রার খরচ উঠে যায় ঠিকঠাক ভাবে। আবার অনেকে তাঁদের লোনও শোধ করে দিতে পারেন।

তবে নতুন প্রশাসনের আনা অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ায় সমস্যা বেড়েছে বিদেশী পড়ুয়াদের। অনেক পড়ুয়া কাজ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে জানিয়েছেন, তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না কারণ অভিবাসন কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা পর্যন্ত নিতে পারে।

অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আচমকা তল্লাশি এবং কড়া নিয়ম-নীতির কারণে, পড়ুয়ারা বর্তমানে তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে কাজ থেকে বিরত রয়েছেন। এক পড়ুয়ার কথায়, 'এই সময়টা খুবই খারাপ যাচ্ছে। কিন্তু এই মুহুর্তে নির্বাসন বা ছাত্র ভিসা হারানোর ঝুঁকি নেওয়া যাবে না'। স্বাভাবিক ভাবেই, এই অনিশ্চয়তার কারণে মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হচ্ছে পড়ুয়াদের ও সকলের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। অনেক পড়ুয়া আর্থিক এবং মানসিক চাপের কারণে অসহায় বোধ করছেন। সবার প্রশ্ন একটাই আগামীদিনে কি হতে চলেছে? কীভাবে মার্কিন মুলুকে তারা টিকে থাকবেন? কিই বা হতে চলেছে তাঁদের আগামীদিনের ভবিষ্যৎ!

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+