দেশের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ফোনে আড়ি পাতার চেষ্টা, কাঠগড়ায় ইজরায়েলি সংস্থা
ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ওপর আড়ি পাতার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে স্বীকার করে নিল কর্তৃপক্ষ। ইজরায়েলি এক সংস্থা ২০টি দেশের প্রায় ১৪০০ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে এক 'স্পাইওয়্যার’ ঢোকানোর চেষ্টা করেছিল। বিশেষ করে এই সংস্থার নিশানায় ছিল ভারতীয় সাংবাদিক, কূটনীতিক, শীর্ষ সরকারি আধিকারিক এবং মানবাধিকার সংগঠনের আধিকারিকরা।

ভারতের পাশাপাশি আফ্রিকা, ইউরোপ, মধ্য প্রাচ্যের দেশ এবং আমেরিকাকেও নিশানায় রেখেছিল এই ইজরায়েলি সংস্থা। যদিও হোয়াটসঅ্যাপ কোন কোন ব্যক্তির ফোনে আড়ি পাতার চেষ্টা হয়েছে, তা নিয়ে মুখ খোলেনি। তবে এ বছরের মে মাসে ১৪০০ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে এই চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য হাতের মুঠোয় চলে আসবে। কিন্তু কোনও অঘটন ঘটার আগেই হোয়াটসঅ্যাপের সুরক্ষা প্রযুক্তি তা ধরে ফেলে। যার জন্য ওই সংস্থার প্রয়াস ব্যর্থ হয়। ইজরায়েলের সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংস্থা এনএসও•এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ। ভারতের বেশ কিছু সরকারি আধিকারিকের কাছে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ তাঁদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও ইজরায়েলের ওই সংস্থা দাবি করেছে যে তাদের ওপর ওঠা অভিযোগ অসত্য।
হোয়াটসঅ্যাপের প্রযুক্তি ছিল এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্টেড। অর্থাৎ শুধুমাত্র যাঁদের মধ্যে ভয়েস বা ভিডিও কল কিংবা মেসেজ চালাচালি হচ্ছে, তাঁরা ছাড়া তৃতীয় পক্ষের কেউ জানতে পারবে না। সুরক্ষিত থাকবে গোপনীয়তা। কেউ সেটা দেখতে পারবে না। এমনকি, হোয়াটসঅ্যাপে কর্তৃপক্ষও নয়। অন্য দিকে যাঁদের অ্যাকাউন্টে এই প্রযুক্তি ঢুকিয়ে আড়ি পাতার চেষ্টা হয়েছিল, তাঁরা এত দিন পর্যন্ত কিছু জানতে পারেননি।
হোয়াটসঅ্যাপের তরফে যোগাযোগের পর জেনে কিছুটা আতঙ্কিত। কারণ ইতিমধ্যেই ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হয়ে গিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিন্ত নন। যদিও হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে, তাঁদের অ্যাকাউন্ট আগের মতোই নিরাপদ। কী ভাবে আড়ি পাতার চেষ্টা করেছিল এই স্পাইওয়্যারই?
স্পাইওয়্যার আসলে এক ধরনের সফটওয়্যার বা প্রযুক্তি যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অজান্তেই তাঁর মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড, কনট্যাক্ট লিস্ট বা ফোন নম্বরের তালিকা, ক্যামেরা, ছবি–সহ প্রায় যাবতীয় তথ্যের অ্যাকসেস পেয়ে যায় আড়ি পাতা ব্যক্তি বা সংস্থা। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে সেই স্পাইওয়্যারের নাম ছিল 'পেগাসাস’।
এই 'পেগাসাস’ ঢোকানোর চেষ্টা হয়েছিল ভিডিও কলের সময়। কল করার সঙ্গে সঙ্গেই যাঁকে ভিডিয়ো কল করা হচ্ছিল, তাঁর মোবাইলে একটি 'বাগ’ বা 'ম্যালওয়্যার’ (যা আসলে কিছু কম্পিউটার কোডের সমন্বয়) সক্রিয় হয়ে করার চেষ্টা হয়েছিল। সেটা সফল হলে মোবাইলে ব্যবহারকারীর অজান্তেই ইনস্টল করে দেওয়া যেত। তার পরেই পাওয়া যেত ব্যবহারকারীর প্রায় সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য।
এমনকি, রিসিভার কলের উত্তর দিতে না পারলে বা ইচ্ছাকৃত ভাবে কেটে দিলেও তার থেকে মুক্তি পেতেন না। এ ধরনের আড়ি পাতা বা ব্যক্তিগত তথ্য হাতানোর চেষ্টার পর হোয়াটসঅ্যাপ আরও কড়া পদক্ষেতপ নেবে বলে জানা গিয়েছে। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট আর কি করে সুরক্ষিত করা যায়, এখন সেই চেষ্টাই চালাচ্ছে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা।












Click it and Unblock the Notifications